প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপি ও আ'লীগ পাল্টাপাল্টি দোষারোপ
ঠাকুরগাঁওয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে আগুন

নিতিশ চন্দ্র রায়, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় একটি হিন্দু বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ভোরে উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের সিংগিয়া শাহাপাড়া গ্রামের কৃষ্ণ ঘোষের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এতে পুড়ে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে এ ঘটনায় বিএনপি ও আওয়ামীলীগ পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। অন্যদিকে এ ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে ঐ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে। এ ঘটনার পর ঐ এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তাহের মো.আব্দুল্লাহ ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলালউদ্দিন মাষ্টার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনার খবর পেয়ে তারা পৃথকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার ভোর ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে কৃষ্ণ ঘোষের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। দ্রুতই তা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।’

কৃষ্ণ ঘোষ অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার ভোরে কে বা কারা আমাদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।এ সময় বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে ছিল। আগুনে আটটি ঘর, সাতটি ছাগল ৬০ মন ধান ও আসবাবপত্র পুড়ে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন কৃষ্ণ।

ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মো. মাইনুদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে তোদের একটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তারা খসড়া তালিকা করেছেন।

এদিকে জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন আলাল মাস্টার এ ঘটনার জন্য ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মোস্তফিজুর রহমান লিটনকে দায়ী করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লিটন।

এ ব্যাপারে আলাউদ্দীন মাস্টার বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান লিটনের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াতের লোকজন শেখবাজার এলাকায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অফিসে হামলা করে বৃহস্পতিবার রাতে। আর এরই জের ধরে শুক্রবার ভোরে এখন এই হিন্দু বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। বিএনপি-জামায়াত ২০১৪ সালের মত অবস্থা তৈরি করার চেষ্টা করছে মন্তব্য করে এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান লিটন বলেন, ওই ইউনিয়নের হিন্দু ভোটাররাও আমাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছিল। আমি কেন তাদের বাড়িতে আগুন দেব? এ ঘটনায় তিনি বা তার দলের কেউ জড়িত নয়। তাকে এবং তার লোকজনকে এ ঘটনায় ফাসানো হচ্ছে। আর তাকে ফাসাতে ঐ ইউপির চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলেও দাবি করেন লিটন।

বিএনপি-জামায়াতের বিরদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তাহের মো.আব্দুল্লাহ বলেন, কেউ এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটাতে পারে বলে আপাতত ধারণা করা হচ্ছে। তবে কারা ঘটিয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তবে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কারা এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করা হচ্ছে। দোষীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অরুনাংশু দত্ত টিটো বলেন, বিগত নির্বাচনের সময় ২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াতের লোকজন হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্মমভাবে নির্যাতন করেছিল। তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েঝিল। এখন আবারও শুরু হয়েছে। তাই এসব অপশক্তিকে শক্তভাবে দমন করতে হবে। এ ঘটনার বিচার করতে হবে। নইলে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে বলেও জানান তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত