প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারেই জয়-পরাজয়ের ভাগ্য নির্ধারিত: বিচারপতি সিনহা

মোহাম্মদ আলী বোখারী টরন্টো থেকে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার আসন্ন নির্বাচনী বৈতর-ণীতে যে বিপুল উন্নয়নের ইশতেহার তুলে ধরে ‘সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে’ দেখার অনুরোধ রেখেছেন, তাতে তার জয়-পরাজয়ের ভাগ্যটি নির্ধারিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। সিনহার ভাষায়, ‘স্টেট স্পন্সর্ড টেরোরিজম’ বা রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাস ঘটিয়ে যেভাবে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে, তাতে অনন্য স্বৈরশাসনের নগ্ন ও বিভৎস প্রতিরূপটি বিশ্ব দেখেছে। কেবল ক্ষমতা আকড়ে ধরে রাখতেই সরকার বিচার ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করেছে। অথচ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে চর্চিত মূল্যবোধে ন্যায়বিচারপূর্ণ বিচারব্যবস্থাই হচ্ছে পূর্বশর্ত, যা গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় জনগণের প্রতিটি আশা-আকাক্সক্ষার পরিপূরণ। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সারা পৃথিবীতে এক নতুন ধারার উন্নয়ন জেগে উঠেছে বিশেষ করে উন্নত দেশে ক্রমবর্ধমান ভোক্তার চাহিদায় অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশে বাণিজ্যনির্ভর বিনিয়োগ বেড়েছে, যা এককভাবে কোনো সরকার বা ব্যক্তির কৃতিত্ব হতে পারে না। সেজন্য সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি তার উদাত্ত আহ্বান সরকারের কথায় নয় বরং রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত কর্মচারি হিসেবে যে কোনো পরিস্থিতিতে জনগণের কল্যাণে তারা যেন দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে আত্মনিবেদিত হন।

উত্তর আমেরিকার পূর্বাঞ্চলীয় দিনক্ষণ বিবেচনায় গত ১৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় পরদিন প্রত্যুষে বিচারপতি সুরেন্দ্র সিনহা এই প্রতিনিধিকে দেয়া সোয়া এক ঘণ্টার এক সাক্ষাৎকারে নানা প্রশ্নের জবাবে ওই কথাগুলো বলেন। স্থানসংকুলান বিবেচনায় তারই চুম্বকাংশগুলো এখানে তুলে ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে সূচনায় উপস্থাপিত ‘সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক জুডিশিয়াল ক্যু অর্থাৎ প্রথমে সংসদ কর্তৃক বিচারপতিদের অভিশংসন ক্ষমতা বাতিল ও পরে বিগত নির্বাচন বাতিলের উদ্যোগ নেন’ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই প্রতিনিধিকে ‘সরকারের মুখপাত্রসুলভ প্রশ্ন’ করায় ধন্যবাদ জানান। তবু বলেন, স্বৈরশাসকরা অতি শক্তিশালী প্রচারযন্ত্রের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এমনই অপপ্রচার করে থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির হিটলার, পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খান এবং বাংলাদেশে জেনারেল এরশাদ তেমনই দৃষ্টান্ত রেখেছেন। তারা উন্নয়নের কথা বলে নানা বিষয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছেন। বর্তমান সরকারও তার ব্যতিক্রম নয়। বস্তুত ‘জুডিশিয়াল ক্যু’ সরকারই ঘটিয়েছে। এতে ২০১৭ সালের ১৮ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত ১৭তম এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান বিচাপতিদের সম্মেলনে যোগদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেটির সমাপনী দিনে সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা ‘ডিজিএফআই’-এর এক কর্মকর্তা তাকে ফোনে দেশে না ফেরার হুমকিসহ প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদানের কথা জানান। তিনি তা তোয়াক্কা না করে ঢাকায় অবতরণ করতেই চার ডিজিএফআই কর্মকর্তা বিমানবন্দরে তাকে ঘিরে ধরেন এবং দেশে ফেরার নিষেধ উপেক্ষার বিষয়ে প্রশ্ন করেন। কিন্তু তার আশাতীত ধমকে তারা ক্ষান্ত হয়। পরবর্তীতে তাকে বঙ্গভবনে ডেকে নিয়ে চাপ সৃষ্টি, গৃহবন্দী করা, রাষ্ট্রপতির ‘শপথভঙ্গের সামিল’ অপরাপর বিচারকদের প্রলুব্ধ করে তার সঙ্গে কোর্টে বসায় অনীহা সৃষ্টি এবং দেশত্যাগসহ নির্বাসিত হওয়াটা জাতির কাছে দিবোলোকের মতো উদ্ভাসিত। তা হলে ক্যু কে করলো? প্রধান বিচারপতি হিসেবে আমি তো অন্য বিচারপতিদের উপর নির্ভরশীল ছিলাম। একা কিছু করেনি। বরং অতি আলোচিত ষোড়শ সংশোধনীর রায় প্রদানও সর্বসম্মতিক্রমে ঘটেছে।

পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক যুগশঙ্খে প্রকাশিত ‘বিএনপি’র পক্ষে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারণার নেমেছেন’ খবরটিকে অবান্তর অভিহিত করে সিনহা বলেন, ড. ইউনূসের সঙ্গে কখনোই তার সাক্ষাত ঘটেনি। বরং গ্রামীণ ব্যাংকের ‘এমডি’ পদে না থাকার রায়টি তিনিই দেন। ফলে বিএনপির পক্ষে অপপ্রচারণার বিষয়টি অসত্য ও অমূলক। তিনি কেবল আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার কথাই বলছেন, কোনো পক্ষপাতিত্ব করে নয়। তিনি প্রধান বিচারপতি থাকাকালীন সব বিষয়ে ‘সুয়োমটো রায় দেননি কেন’ এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, তা কখনোই আইনসিদ্ধ নয়, যদি না কোনো কিছু তার কাছে উপস্থাপিত হয়। ওয়াশিংটনে ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’ বই প্রকাশনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম মাইলামকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সমালোচনায় নিয়োজিত হওয়াটি ছিল ‘আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ’, সে বিষয়ে আবারও স্বৈরতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন রাজনীতিক; সে কারণে তার সমালোচনা হওয়াটাও স্বাভাবিক ও যুক্তিযুক্ত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন, দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন মেন্ডেলা ও ভারতের মহাত্মা গান্ধীর মতো সমালোচনার ঊর্ধ্বে ওঠেননি। তার রচিত ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র ভিত্তিতে ‘সত্তর-পূর্ব’ ও ‘সত্তর-পরবর্তী’ জীবন ছিল ভিন্নভাবে চিত্রায়িত। তারপরও কেউ অস্বীকার করতে পারবে না তার কারণেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে এবং আমার মতো নগণ্য আইনজীবীর পক্ষে সেদেশের প্রধান বিচারপতি হওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে এক দলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা, জুডিশিয়ারির উপর হস্তক্ষেপ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ, এই ধরণের পদক্ষেপগুলো তাকে সমালোচিত করেছে। আওয়ামী লীগ কখনোই জনসমক্ষে ওই পদক্ষেপ গ্রহণের পক্ষে যৌক্তিকতা তুলে ধরেনি। বরং তিনি ওই সমালোনার ঊর্ধ্বে থাকতেন, যদি বাহাত্তরে কারামুক্তির পর বাংলাদেশে এসে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বভার গ্রহণ থেকে বিরত থাকতেন। মাইলাম প্রসঙ্গে বলেন, তিনি তো বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু এবং থিঙ্কট্যাংক প্রতিষ্ঠান উইড্রো উইলসন সেন্টারের একজন স্কলার। তিনি তো আমারই মতো বাংলাদেশে আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখায় উদগ্রীব, তার চিন্তাশীল লেখালেখি তারই প্রতিফলন। এমনকী অনুষ্ঠানস্থল, ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবটিও ছিল গুরুত্বপূর্ণ মানুষের সমাবেশস্থল – যে কেউ চাইলেই সেখানে অনুষ্ঠান করতে পারে না। হতবাক হয়েছি প্রধানমন্ত্রী তনয় সজিব ওয়াজেদ জয় যখন বলেছেন, আমি মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত কাশেম আলীর ভাই থেকে একটি ক্লিনিকে গিয়ে বই প্রকাশনা বাবদ ৫০ হাজার ডলার নিয়েছি। যদি সেটা নিতাম, তবে গোপনে নিলাম না কেন? আর যার ভাইকে মৃত্যুদ- দিয়েছি, সে কেন আমাকে ডলার দিতে যাবে? আমার ওই বইটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ অনলাইন প্রকাশনা সংস্থা ‘আমাজন’ নিজেরাই ব্যবসায়িক স্বার্থে প্রকাশ করেছে, যার বেনিফিসিয়ারি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত আমার দাতব্য প্রতিষ্ঠান, যেখান থেকে দরিদ্র-মেধাবি শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত সাহায্য পায়।

বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে দুদক উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ এবং বিচারপতি ওহ্হাাব মিয়া পেনশন পেলেও তিনি পাননি, পক্ষান্তরে তিনি বিচারপতি সামসুদ্দিন মানিকের পেনশন আটকে দিয়ে ‘প্রিসিডেন্স’ বা প্রথম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি দায়িত্বে থাকাকালীন সরকার কখনো দুর্নীতির অভিযোগ তোলেনি। বরং গণমাধ্যমের উচিত, বর্তমান দুদক চেয়ারম্যানকে প্রশ্ন করা, কে দুদকের জন্য শেয়ার মার্কেট থেকে মানিলন্ডারিং বন্ধে আইন করেছে? বিচারপতি সামসুদ্দিন মানিকের পেনশন বন্ধ করেছি, সেটি একটি ভুল তথ্য। বরং বিচারপতি মানিক সাড়ে তিন বছরে চার শতাধিক রায় নয়, আদেশ না লিখে, বিশ্বের প্রথাবিরুদ্ধ পন্থায় অবসরে গিয়ে আদেশ লিখতে শুরু করেন, যার অনেকগুলোই পরে বাতিল হয়েছে। সেখানে আমি বিচারকদের দায়িত্বে থাকাকালীন রায় লেখার বিধানটি চালু করি।

দেশত্যাগের প্রাক্কালে ‘আমি অসুস্থ নই, দেশ ছেড়ে যাচ্ছি না এবং ফিরে আসবো’ এবং ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’ বইয়ে লেখা ‘সরকারের কারণে দেশত্যাগ, পদত্যাগ ও নির্বাসিত হয়েছি’ বক্তব্যের পারস্পরিক সঙ্গতি কোথায়, তেমন প্রশ্নে বিচারপতি সিনহা বলেন, সঙ্গতি কতখানি তা যেভাবে দেশত্যাগ করেছি এবং এখন প্রবাসে যেভাবে অবস্থান করছি, সেটাই বলে দেয়। বিস্তারিত জানতে আমার ওই আত্মজীবনীমূলক বইটি পড়ুন। বাংলাদেশে বিরাজিত বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে অপর এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, যে ‘ডিজিটাল আইন’ প্রবর্তনের কারণে ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন কারারুদ্ধ হয়েছেন, সেটা তারই প্রকৃষ্ট উদাহরন। এই অমিততেজ মানুষটি তার ত্রিশের কোটায় আপন স্বাধীকারে বঙ্গবন্ধু প্রবর্তিত ‘বাকশাল’ করেননি বা যোগ দেননি, অথচ এখন তাকে সামান্য ‘চরিত্রহীন’ বলার কারণে বিনাবিচারে কারাবাস করতে হয়েছে। বাক-স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের বিষয়টি এখানেই সুস্পষ্ট। সিনহার ভাষায়, ‘স্টেট স্পন্সর্ড টেরোরিজম’ বা রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাস ঘটিয়ে যেভাবে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে, তাতে অনন্য স্বৈরশাসনের নগ্ন ও বিভৎস প্রতিরূপটি বিশ্ব দেখেছে। কেবল ক্ষমতা আকড়ে ধরে রাখতেই সরকার বিচার ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করেছে। অথচ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে চর্চিত মূল্যবোধে ন্যায়বিচারপূর্ণ বিচারব্যবস্থাই হচ্ছে পূর্বশর্ত, যা গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় জনগণের প্রতিটি আশা-আকাঙ্খার পরিপূরণ।

লন্ডনের ইকোনমিষ্ট ম্যাগাজিনের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের জয়লাভ বা প্রত্যাবর্তনের আভাস দিয়েছে, তাতে বিচারপতি সিনহার মন্তব্য, ভালোই তো! তবু লক্ষণীয় দিকটি হচ্ছে, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনটি যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় সে জন্য মার্কিন সিনেটে প্রস্তাব পাশ হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাগুলো প্রতিনিয়ত উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ করছে। কারণ একটাই, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থেকে শুরু করে সরকারের প্রতিপক্ষরা নির্বিঘ্ন তাদের নির্বাচনি প্রচারণা করতে পারছেন না, আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অস্ত্র জমা বা উদ্ধার কোনোটাই করা হয়নি। আমি নিজেই অনলাইনে তা প্রত্যক্ষ করছি, খবরাখবর পাচ্ছি। সবেচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, রাজনীতিতে অতি প্রজ্ঞাবতী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার আসন্ন নির্বাচনী বৈতরণীতে যে বিপুল উন্নয়নের ইশতেহার তুলে ধরে ‘সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে’ দেখার অনুরোধ রেখেছেন, তাতে তার জয়-পরাজয়ের ভাগ্যটি নির্ধারিত হয়েছে। তারপরও সিনহা বলেন, বর্তমানে সারা পৃথিবীতে এক নতুন ধারার উন্নয়ন জেগে উঠেছে বিশেষ করে উন্নত দেশে ক্রমবর্ধমান ভোক্তার চাহিদায় অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশে বাণিজ্যনির্ভর বিনিয়োগ বেড়েছে, যা এককভাবে কোনো সরকার বা ব্যক্তির কৃতিত্ব হতে পারে না। তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি তার উদাত্ত আহ্বান- সরকারের কথায় নয় বরং রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত কর্মচারি হিসেবে যে কোনো পরিস্থিতিতে জনগণের কল্যাণে তারা যেন দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে আত্মনিবেদিত হন।

আপনি উন্মুক্ত কোর্টে ‘শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন’ এবং ‘মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছেন’, এ সম্পর্কিত গণমাধ্যমের খবর কতখানি সত্যি? সেই প্রশ্নে বলেন, বাজে কথা! আমি কখনো তা বলিনি, প্রমাণ থাকলে দেখান। আমি নিজে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ আদালত প্রতিষ্ঠার প্রবক্তা ছিলাম। ফলশ্রুতিতে আমার গ্রামের বাড়ীতে দু’বার ও ঢাকায় একবার দুস্কৃতিকারীরা হামলা করাসহ আগুন দিয়েছে। সবশেষে বাংলাদেশে ফেরার আগ্রহ এবং বর্তমান জীবনযাপন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমার মনপ্রাণ প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের জন্য কাঁদে ও পড়ে আছে। তাই রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনে, বই পড়ে এবং কিছু লেখালেখি ও জগিং করে মানসিক প্রশান্তি খোঁজার চেষ্টা করি। এখানে আমি উদ্বাস্তু হিসেবে জীবন কাটিয়ে বাংলাদেশের গৌরব ভূলুণ্ঠিত করতে চাই না। সরকার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করলে নিজের গ্রামে গিয়ে দাতব্য কর্মকাণ্ড দেখভাল করতে চাই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত