প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শীতে গুড়ের চাহিদা দাম দুটিই বেড়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট : ধানমণ্ডির বাসিন্দা রুবানা ইসলামকে চাকরির সুবাদে নিয়মিত যাতায়াত করতে হয় কারওয়ান বাজারে। তাঁর বাসায় অতিথি আসবে; সে জন্য আয়োজন করতে হবে পায়েস ও পিঠাপুলির। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি পায়েসের জন্য খেজুরের গুড় আর পিঠাপুলির জন্য আখের গুড় কিনছিলেন কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেট থেকে। সে সময় রুবানা ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শীত আসবে আর পিঠার আয়োজন হবে না, এমনটা হতে পারে না। নিজের ছেলে-মেয়ে ও আত্মীয়-স্বজন নিয়ে পিঠা বানানো, খাওয়া একটা উৎসবের বিষয়। শীতে বেশ কয়েকবারই আমার বাসায় পিঠার আয়োজন হয়। এর জন্যই বেশি করে গুড় কিনতে হচ্ছে।’

শীতে পিঠাপুলির আয়োজনে যে নগরবাসীও পিছিয়ে নেই সেটা জানা গেল গুড়ের দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে। কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেটে এক সারিতে ১০-১২টি দোকান। উঁচু টংয়ের ওপর বিক্রেতার চারপাশে বিভিন্ন ধরনের গুড় সাজিয়ে রাখা। ওই সব দোকানে দরাদরির খুব একটা সুযোগ নেই। বিক্রেতারা জানান, প্রতিবছর শীতের সময়টায় গুড়ের চাহিদা বেড়ে যায়। এবারও ব্যতিক্রম নয়। খেজুরের গুড়, আখের গুড়ের চাহিদা প্রচুর। খেজুরের গুড় ও আখের গুড়ের শক্ত পাটালির পাশাপাশি মিলছে এগুলোর রস। একেক ক্রেতার একেক রকম চাহিদা। কেউ শক্ত পাটালি কিনছে, আবার কেউ রস নিয়ে যাচ্ছে।

চাহিদা বেশি থাকায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গুড়ের দামও কেজিপ্রতি ১০-১৫ টাকা বেশি। যদিও সরবরাহে কোনো প্রকার ঘাটতি নেই বলেই জানান বিক্রেতারা। কিচেন মার্কেটের গুড় বিক্রেতা রফিকুল জানান, প্রতি কেজি আখের গুড় ৮০ থেকে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। আখের গুড়ের রসেরও একই দাম। আর প্রতি কেজি খেজুরের গুড় মানভেদে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা। তবে অন্য সময় প্রতি কেজি সাধারণ মানের গুড় আরো ১০-১৫ টাকা কমে বিক্রি হয় বলে জানা গেছে।

আরেক বিক্রেতা সিরাজ মিয়া বলেন, ‘এখন পিঠাপুলির সিজন। বেচা-বিক্রি একটু বেশি। সরবরাহের কোনো সমস্যা নেই।’ দাম বেশি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কাস্টমারের চাপ বেশি, তাই দাম একটু বাড়তি। পিঠার সিজন গেলে আবার একটু কমবে।’

গুড়ের পাশাপাশি কয়েকটি দোকানে বিক্রি করতে দেখা গেছে নারিকেল। প্রতি পিস নারিকেল ৪০-৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছিল। বিক্রেতারা জানান, একক কাস্টমারের চেয়ে পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোর বিক্রেতারা বেশি কিনছেন। পাইকারিতে ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও পাড়া-মহল্লায় প্রতি পিস নারিকেল ৫০-৭০ টাকায় বিক্রি হয় বলে জানা গেছে।

পিঠা বানাতে আরো লাগে চালের গুঁড়া। তবে রাজধানীতে এখনো কোনো বড় ব্র্যান্ড চালের গুঁড়া বিক্রি শুরু করেনি। বাজারে ‘হোম মেইড’ হিসেবে ছোট কিছু প্রতিষ্ঠান প্যাকেট করে বিক্রি করছে। এ ধরনের ৮০০ গ্রামের প্রতি প্যাকেট ৭০-৭৫ টাকা এবং খোলাবাজারে প্রতি কেজি ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

আমন মৌসুমে ধান কাটা শেষ হওয়ার পর শীতের মধ্যে ভাপা পিঠা, দুধ চিতই, পুলি পিঠা, তেলের পিঠা, পাটিসাপটা, খেজুরের গুড়ের পায়েস এবং বিভিন্ন রকম ঝাল পিঠার আয়োজন হয় গ্রামাঞ্চলে। এটি অনেকটা উৎসবের মতোই। অনেকে শীতের পিঠা খেতে গ্রামের বাড়ি যায়। আবার এই উৎসবে পিছিয়ে নেই শহরের বাসিন্দারাও। মোতালেব হোসেন নামের রামপুরার এক বাসিন্দা একটি মুদি দোকান থেকে নারিকেল কিনছিলেন। তিনি বলেন, ‘বউ-ছেলে-মেয়ে নিয়ে সপ্তাহখানেক আগেই পিঠা খেয়ে এসেছি। তবে ঢাকায়ও আত্মীয়-স্বজন আছে। তাদের নিয়ে আবার বাসায় পিঠার আয়োজন করতে হবে।’
সূত্র : কালের কন্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত