প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নৌকার গণজোয়ার দেখে ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি

ইওেফাক :  আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচন নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের চক্রান্তের তথ্য থাকার কথা জানিয়ে বলেছেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নৌকার পক্ষে জনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এটা দেখে বিএনপি নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে। একই সঙ্গে ভুয়া ব্যালট পেপার ছাপিয়ে ভোট কারচুপি করার চক্রান্তেও তারা লিপ্ত। এজন্য নির্বাচনী প্রচারণায় তাদেরকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না। আমার কাছে এমন অনেক তথ্য এসেছে, তাদের এই সমস্ত চক্রান্তের। তাদের ষড়যন্ত্রের হাত থেকে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করতে হবে। এ ব্যাপারে সবার সতর্ক থেকে তারা কি ধরনের চক্রান্ত করে, সেটা খুঁজে বের করতে হবে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া এবং আবারো জনগণের সেবা করার সুযোগ দিতে আওয়ামী লীগকে পুনঃনির্বাচিত করার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।’

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সুধাসদন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজশাহী, জয়পুরহাট, নড়াইল ও গাইবান্ধায় নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিএনপি-জামায়াত আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে আগেও কয়েকটা নির্বাচন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নৌকার ব্যাজ গায়ে দিয়ে ভেতরে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়েছে। তারা এমনভাবে সিল মারা শুরু করে, যেন আওয়ামী লীগ করছে। অথচ আওয়ামী লীগ জানে সারা বাংলাদেশে নৌকার পক্ষে জোয়ার। প্রতিটা মানুষ নৌকায় ভোট দিতে উদগ্রীব।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কখনো বিএনপির মতো মনোনয়ন বাণিজ্য করে না। বিএনপি এক জায়গায় ৩/৪ জন করে নমিনেশন দিয়েছে। নমিনেশন দেওয়ার পর সেই সিট তারা অকশনে দিয়েছে, অর্থাত্ যে বেশি টাকা দেবে সে নমিনেশন পাবে। এভাবে তারা বাণিজ্য করেছে এবং যার জন্য আজ তারা নিজেদের মধ্যে গোলমাল করে, মারামারি করে, নিজেদের অফিসে আগুন দেয়। তারপর আবার অন্যের ওপরে দোষ দেয়। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। তিনি বলেন, তারা আরেকটা চক্রান্ত করছে বলে আমি শুনতে পাচ্ছি। নির্বাচনের সময় তারা মুজিব কোট বানাবে, আওয়ামী লীগের ব্যাজ বানাবে বা যুবলীগের, ছাত্রলীগের ব্যাজ বানাবে এবং ওইভাবে তারা গোলমাল করে ভোট কারচুপি করবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত জনগণের সম্পদ লুটপাট করে অগাধ সম্পদের মালিক হয়েছে। দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং, অস্ত্র চোরাকারবারি, এতিমের অর্থ আত্মসাত্, মনোনয়ন বাণিজ্য- এরকম বিভিন্ন পথে তারা এত টাকা কামাই করেছে। বিএনপি-জামায়াত দু’টিরই টাকার কোনো অভাব নেই। তাই জনগণকে বলব, জনগণের অর্থ তারা আত্মসাত্ করেছে। কাজেই এই অর্থওয়ালার অর্থ আবার জনগণের কাছে পৌঁছাক। ‘বিএনপি জামাতের কাছ থেকে অর্থ নিন আর নৌকা মার্কায় ভোট দিন’ এটাই এখনকার স্লোগান।’ তিনি বলেন, প্রচারণায় না নেমে বিএনপি নেতারা নির্বাচন কমিশনে প্রতিদিন নালিশ করে, আর বিভিন্ন স্থানে নিজেরা মারামারি করে আওয়ামী লীগের ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা কয়েকদিন আগে দেখেছেন টেস্ট খেলা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্রিকেট টিমকে আমরা হারিয়েছি। এটা বাংলাদেশের জন্য বিরাট সম্মান। কাজেই আমরা সেই ক্রিকেট প্লেয়ার মাশরাফি বিন মুর্তজাকে নড়াইল-২ থেকে নমিনেশন দিয়েছি। খেলায় তার পায়ে ইনজুরি হয়েছে বলে তাকে যেতে দেইনি। সে এখানেই আছে। তার জন্যও নৌকা মার্কায় ভোট চাই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০২০-২০২১’কে ইতিমধ্যে মুজিব বর্ষ ঘোষণা করেছি। এ জন্য আমরা বিশাল উত্সবের সাথে যথাযোগ্য মর্যাদায় মুজিব বর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের সুযোগ চাই।’

এর আগে রাজশাহীতে ভিডিও কনফারেন্সের শুরুতেই মেয়র পদে খায়রুজ্জামান লিটনকে জয়ী করায় রাজশাহীবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে জাতীয় নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। নৌকা মার্কায় ভোট চাই কারণ শুধু রাজশাহী বিভাগ নয়, পুরো বাংলাদেশে উন্নয়ন হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।’ বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত নির্বাচনেও দেখেছি কিভাবে বিএনপি-জামায়াত জোট মিলে সেই নির্বাচন ঠেকানোর জন্য অগ্নিসন্ত্রাস শুরু করে। তিনি বলেন, ‘তাদের এই সমস্ত অপকর্মের জবাব জনগণ দিয়েছিল নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে, আমাদের জয়ী করে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন। ইনশাল্লাহ আবারও জয়ী হলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হবে। এ সময় রাজশাহী থেকে মহাজোটের প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরী, ফজলে হোসেন বাদশা, মো. আইনউদ্দীন, এনামুল হক, মো. মনসুর রহমান, মো. শাহরিয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন। একটানা ভিডিও কনফারেন্সে তিনি গাইবান্ধার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে মহাজোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জয়পুরহাটেও নৌকার পক্ষে ভোট চান।

রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘রাজশাহীর মানুষের উন্নয়নের জন্য আমরা নানা পদক্ষেপ এরই মধ্যে নিয়েছি। রাজশাহী শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট নির্মাণ, রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। আগামীতেও রাজশাহীর উন্নয়ন হবে। রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক টেস্ট ভেন্যুও করা হবে।’ এ দিকে, পরিচয় পূর্বে রাজশাহীর প্রার্থী ও নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘আপনার (প্রধানমন্ত্রী) কাছে আমাদের চাওয়ার কিছু নেই। কারণ আপনি না চাইতে আমাদের দিয়ে থাকেন। তাই আমরা আগামী ৩০ ডিসেম্বর ছয়টি আসন আপনাকে উপহার দেবো।

রাজশাহী মহানগর মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে শেখ হাসিনা উপস্থিত নেতাকর্মীদের লক্ষ করে বলেন: রাজশাহী কি শীতে জমে গেছে? স্লোগান নেই কেন? শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচিত হতে পারলে আমরা কী কী কাজ করব তা আমাদের ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ বলেই আজ ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে আপনাদের সামনে উপস্থিত হতে পেরেছি, কথা বলতে পারছি।

মেহজাবিন রশিদের বাসভবনে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীর সদ্যপ্রয়াত সহধর্মিণী মেহজাবিন রশিদ চৌধুরীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এবং মরহুমার পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে তার বাসভবনে ছুটে যান। মেহজাবিন রশিদ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন বলেন, ‘মৃত্যুর সংবাদ শোনার সঙ্গে সঙ্গে ছোটবোন শেখ রেহানাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মরহুমার লালমাটিয়াস্থ বাসভবনে ছুটে যান। প্রধানমন্ত্রী তার পরিবারের শোকসন্তপ্ত সদস্যদের সমবেদনা জানান। তিনি মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।’

এর আগে এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মেহজাবিন রশিদ চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের পর শত প্রতিকূলতার মাঝেও জার্মানিতে তাদের দুই বোনকে সার্বিক সহযোগিতাসহ আশ্রয়দানের জন্য মেহজাবিন রশিদ চৌধুরীর কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত