প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের অনেকের আসা অনিশ্চিত

মানবজমিন : নিবন্ধিত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকের আসা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে! ভিসা ক্লিয়ারেন্স পেতে বিলম্বের কারণে অনেক বিদেশি পর্যবেক্ষক আসতে পারছেন না। অনেকে এখনো ভিসা-ই পাননি। কূটনৈতিক ও নির্বাচন কমিশন সূত্র বলছে, বিলম্বে ভিসা আবেদনের কারণে অনেক পর্যবেক্ষকের ৩০শে ডিসেম্বরের ভোটের আগে ঢাকায় পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে ওই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উঠতে সরকারের সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। সূত্র মতে, ইসিতে নিবন্ধন করেননি কিন্তু পর্যবেক্ষণে আগ্রহী এমন অনেক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ঢাকা আসছেন। কিন্তু অনুমতি না থাকায় তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত ৭ জনকে ফিরিয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর’ অভিযোগ না থাকলে তার ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে। নিবন্ধিত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহকে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের তরফে যাচাইবাছাইসাপেক্ষে ভিসা ইস্যুসহ সার্বিক সহযোগিতার নির্দেশনা দেয়া রয়েছে বলেও জানান তারা।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ফোরাম অব ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডিস অব সাউথ এশিয়া (ফেমবোসা), এ-ওয়েব, অ্যাসোসিয়েশন অব আফ্রিকান ইলেকশন অথরিটিস (এএইএ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইসির আমন্ত্রণ পেয়েছে।

ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ভারত, ভুটান ও মালদ্বীপের নির্বাচন পর্যবেক্ষক টিমও বিশেষ আমন্ত্রণের তালিকায় রয়েছে। তারা পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছেন। এর বাইরে আন্তর্জাতিক এনজিও নেটওয়ার্ক-এনফ্রেল এর ৩২ জন এবং নেপালের বেসরকারি সংস্থা ভিপেন্দ্র ইনিশিয়েটিভ কেন্দ্র ৩ জন প্রতিনিধি পাঠানোর অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। আনফ্রেলের পর্যবেক্ষকদের আবেদনের বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এছাড়া ঢাকাস্থ ৫২টি কূটনৈতিক মিশন থেকে বিদেশি এবং লোকাল স্টাফ মিলে প্রায় ১০০ জন পর্যবেক্ষণে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তারা আবেদনও করেছেন। বিদেশি সংস্থার লোকাল স্টাফদের ‘স্থানীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে’ কার্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। এর বাইরে ঢাকাস্থ ৪টি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৩২ জনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি স্টাফ এবং স্থানীয় স্টাফও রয়েছেন।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতার জন্য আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসিতে অনুরোধ করা হয়েছে। কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে শাসক দলের প্রতিনিধিরা অন্তত দুবার এ বিষয়ে কমিশনে অনুরোধ করেছেন। কিন্তু কেন বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে আওয়ামী লীগের বাড়তি ওই সতর্কতা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এইচ টি ইমাম বলেন, বিদেশিরা অনেক সময় সাংবাদিক সেজে আসে, হঠাৎ করেই বলে আমি পর্যবেক্ষক। এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য সতর্ক থাকতে আমরা ইসিকে বলেছি। তিনি বলেন, বিদেশিদেরও আচরণবিধি মানতে হবে। বাংলাদেশের আইন মেনে চলতে হবে। এটি আমাদের সার্বভৌমত্বের ব্যাপার।’ উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৪২ হাজার ভোট কেন্দ্রে ১০ কোটি ৪১ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নির্বাচনটি পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা-সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে মোট ১৬৭ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন করেছেন জানিয়ে সরকারের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, গত ২০ বছরের মধ্যে এবারের নির্বাচনে (ব্যতিক্রম ২০১৪’র ৫ই জানুয়ারি) সবচেয়ে কম বিদেশি পর্যবেক্ষক আসছেন। সর্বশেষ ২০০৮ সালের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ৫৯৩ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। ভোট-পূর্ব ও ভোট-উত্তর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঢাকায় এসেছিলেন আরও দুই শতাধিক পর্যবেক্ষক ও কর্মকর্তা। ওই নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ। এবার ইইউ পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না। তারা দুজন বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে। পরিসংখ্যান তুলে ধরে ওই কর্মকর্তা বলেন, ২০০১ এর নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক হিসাবে ৩২টি দেশের ২২৫ জন প্রতিনিধি বাংলাদেশে ভোট পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। ’৯৬ সালে এসেছিলেন ২৬৫ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক।

উৎসঃ মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত