প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইশতেহারের সাথে রাষ্ট্রপরিচালনার  কোনো সম্পর্ক নেই : ড. সা’দত হুসাইন

জুয়েল খান : পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান এবং সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. সা‘দত হুসাইন বলেছেন, নির্বাচনী ইশতেহারের সাথে পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো মিল নেই। এটা শুধু মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনেকটাই গতানুগতিক বিষয়। বুধবার ১৯ ডিসেম্বর রাতে ডিবিসি নিউজের এক আলোচনায় তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বলছে এইবার ক্ষমতায় আসলে দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্সের নীতি হবে, যেই কথা আসলে বাস্তবায়ন করা যায় না। তাহলে গত সরকারের ৫ শতাংশ টলারেন্স দেখানো উচিত ছিলো। বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতিটা পরিষ্কার করার দরকার ছিলো। সরকারের একজন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি যার চার্জশিট হয়ে তিনি এবং তার সহধর্মিনী দুজনই অভিযুক্ত হয়েছে, তাকে কেন প্রেসিডিয়াম মেম্বার বানোলো আ.লীগ। তবে জাতীয় পার্টির ইশতেহারটাও আমাদের জন্য আলোচনার খোরাক যোগাবে। কারণ তাদের ইশতেহারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা হয়েছ। রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার, সরকার ব্যবস্থার সংস্কার, পার্লামেন্টের সংস্কার এবং নির্বাচন কমিশনের সংস্কারের কথা বলা হয়েছে জাতীয় পার্টির ইশতেহারে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা অনেকদিন ধরে জাসদের আ স ম আব্দুর রবের মুখে শুনে এসেছি ‘দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টের’ কথা। এবার বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে একথা উল্লেখ করেছে। কিন্তু বিএনপি আগে যখন ক্ষমতায় ছিলো তখন তারা কখনো এটাকে পাত্তাও দেয়নি। তবে এবার সেটা দিয়েছে কারণ এগুলো হচ্ছে রাষ্ট্র মেরামত করার অংশ।

তিনি জানান, আমি মনে করি রাষ্ট্রপতির অনেক ক্ষমতা আছে এবং তার স্বাক্ষর ছাড়া রাষ্ট্রের কোনো আইন পাস হয় না। সাবেক মাহামান্য রাষ্ট্রপ্রতি সাহাবুদ্দীন আহমেদ বলেছেন যে, রাষ্ট্রপ্রতির  কোনো ক্ষমতা নাই, কবর জিয়ারত আর মিলাদ খাওয়া ছাড়া কোনো কাজ নেই, আমি এই কথা বিশ^াস করি না। রাষ্ট্রপ্রতির অনেক দায়িত্ব আছে। যেহেতু দেশ চলে আইন দিয়ে আর সেই আইন তিনি পাস না করলে হয় না। আর যিনি পাস করার ক্ষমতা রাখেন, তিনি বাতিলও করতে পারেন। তবে রাষ্ট্রপ্রতির এই সকল কাজের জন্য অবশ্যই তার পেছনে ক্ষমতা থাকতে হবে। দলের আস্থা এবং সমর্থন থাকতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমি অনেকবার বলেছি এই যে, এই বছর না আগামী বছরেও পদ্মাসেতু হবে কিনা সেটার কোনো ঠিক নাই। কিন্তু সরকার তো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পদ্মাসেতু এই বছরেই করবে। আসলে সরকার হলো অনেকগুলো জটিল বিষয়ের সমন্নয়ে গঠিত, তাই প্রতিশ্রুতি দিলেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না।

তিনি জানান, ২০১৪ সালের পর থেকে সবাই নির্বাচনী ইশতেহারে কর্মসংস্থানের বিষয়টা উল্লেখ করেছে। সকল দলই এই বিষয়টা তাদের ইশতেহারে প্রাধান্য দিয়েছে, বিএনপি বলেছে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে আর আওয়ামী লীগ বলছে তারা আরো বেশি লোকের কর্মসংস্থান করবে ১ কোটি ২৫ লাখ লোকের।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত