প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যাদের দলের মধ্যে ভারসাম্য নেই, তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য আনবে কীভাবে : ড. আনোয়ার হোসেন

জুয়েল খান : জাহাঙ্গিরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, যেই দলের মধ্যেই ক্ষমতার ভারসাম্য নেই, সেই দল কীভাবে রাষ্ট্রের ক্ষমতায় ভারসাম্য আনবে। বিএনপির দলপ্রধান হিসেবে খালেদা জিয়ার কাছেই সকল ক্ষমতা। সেখানে তারা কোনো পরিবর্তন করতে পারে না। বুধবার ১৯ ডিসেম্বর রাতে ডিবিসি নিউজের এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্সের বিষয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার দুদককে আরো শক্তিশালী করতে নির্দেশনা দিয়েছে। বর্তমান দুদক মন্ত্রীপর্যায়ের লোককে ডাকার ক্ষমতা রাখে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দুদককে স্বাধীনভাবে কাজ করার নির্দেশনা আছে এবং দুদক সেভাবে কাজ করছে। আগামীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দুদককে আরো শক্তিশালী করার অঙ্গীকার আছে ইশতেহারে। তবে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব, সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনগুলোতে অবশ্যই নির্বাচনী ইশতেহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন ৭০-এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, স্বায়ত্তশাসন প্রশ্নে গণভোট এবং সোনার বাংলা শশ্মান কেনো, এগুলো ছিলো ইশতেহারের মূল কথা এবং সাধারণ মানুষ বুঝেছিলো এবং ভোট দিয়েছিলো। তারপরে আরও একটা ঐতিহাসিক নির্বাচন হচ্ছে ২০০৮ সালের নির্বাচন, যেখানে বিপুল ভোটে মানুষ আওয়ামী লীগকে জয়ী করে। সেই নির্বাচনেও ইশতেহার অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। সেখানে ভোটারদের একটা বড় অংশ নতুন ভোটার এবং তাদের সামনে কিছু স্বপ্ন  দেয়া হলো দিন-বদলের সনদ এবং  ডিজিটাল বংলাদেশের স্বপ্ন। এগুলো সাধারণ মানুষ ইতিবাচক ভাবে গ্রহণ করেছে এবং নৌকায় ভোট দিয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের একটা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার ছিলো মক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ এবং মানুষ সেই চেতনাকে ধারণ করেই নৌকায় ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে। যেখানে বিএনপি মাত্র ৩০ টা সিট পেয়েছিলো, তার মানে ইশতেহার অবশ্যই গুরুত্ব বহন করে।

তিনি আরো বলেন, গত বারের মতো এবারের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের একটা ধারবাহিকতা আছে। শেখ হাসিনা যখন নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেন তখন তিনি নিজের কথা বললেন, দলের কথা বললেন, তিনি বললেন আমাদের ভুল ভ্রান্তি হয়েছে এবং আমাদের ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে সেই ধরনের কোনো কৌশল নেই।

তিনি বলেন,  আওয়ামী লীগের ইশতেহারে আছে এবার ক্ষমতায় আসলে দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স থাকবে । জঙ্গিবাদের ইস্যুতে এবং মাদকের বিরুদ্ধে আরো কঠোর অবস্থায় থাকবে সরকার। আমি মনে করি আওয়ামী লীগের এই প্রতিশ্রুতি খুবই যুক্তিসংগত। কারণ শেখ হাসিনা যা বলেন তা কিন্তু তিনি করার চেষ্টা করেন। তবে এই প্রতিশ্রুতিগুলো যদি সামনের বার ক্ষমতায় আসার পরে বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে জনমনে প্রশ্ন থাকবে এবং এতে জনগণ বিক্ষুব্ধ হবে। তাই এই বিষয়ে তাদের অবশ্যই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করতে হবে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত