প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সোয়া কোটি টাকার ত্রুটিযুক্ত ট্রাফিক সিগন্যালে সুফল পাচ্ছেনা ডিএমপি

শাকিল আহমেদ : রিমোটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হবে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা। প্রাথমিক অবস্থায় ৬টি স্পটের দায়িত্ব ডিএমপিকে বুঝিয়ে দিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু ত্রুটির কারণে সিগন্যালগুলো সুফল পাওয়া যাচ্ছেনা বলে জানান, ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ।

ঢাকার দুই সিটি (উত্তর-দক্ষিণ) কর্পোরেশনে ৬৮টি সিগনালে রিমোটের মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। প্রতিটি সিগন্যালের জন্য দুটি করে মোট ১৩৪টি রিমোট রাখা হবে। ইতিমধ্যে ১০টি সিগন্যাল প্রস্তুত করে পরীক্ষামূলক ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৬টি পুরোপুরি প্রস্তুত করে ডিএমপিকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। এ প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

এবিষয় পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, রিমোটের মাধ্যমে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা একটি বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ। কোন পরিকল্পনা ছাড়া এগুলো করলে তা মুখ থুবড়ে পড়বে। কারণ এটি পরিচালনার জন্য লোকবল নিয়োগ দিয়ে তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এটি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রকৌশলী নিয়োগ দেয়া দরকার। যার কোনটিই এখানে করা হয়নি তাই প্রকল্প শেষে এ বিষয় কারো কোর আগ্রহ থাকবে না। একারণে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে এ পদক্ষেপ থেকে কোন সুফল আসবেনা।
রিমোট কন্ট্রোল ব্যবস্থার মাধ্যমে মূলত সময় ও বাতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। গাড়ির চাপ অনুযায়ী দূর থেকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সিগন্যালের সময় ডিজিটাল ডিসপ্লেতে দেখানো হবে। ফলে চালকরা বুঝতে পারবেন কতক্ষণ সেখানে অপেক্ষা করতে হবে। এছাড়া রিমোট কন্ট্রোল ব্যবস্থাতেই সিগন্যালের বাতিগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এতোদিন পর্যন্ত এগুলো যেভাবে সেট করে দেওয়া হতো সেভাবেই চলতো। এরই মধ্যে ছয়টি ইন্টারসেকশন চূড়ান্ত ভাবে প্রস্তুত করেছে বাস্তবায়ন প্রতিষ্ঠান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি)। স্থানগুলো হলো- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল ইন্টারসেকশন, কদম চত্বর ইন্টারসেকশন, মৎস্য ভবন ইন্টারসেকশন, কাকরাইল মসজিদ ইন্টারসেকশন, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ইন্টারসেকশন ও শাহবাগ ইন্টারসেকশন।

তবে এসব সিগনালে ত্রুটি রয়েছে উল্লেখ করে ডিএমপির যুগ্ম-কমিশনার ট্রাফিক (দক্ষিণ) মো. মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সিগন্যালগুলো আমরা পরীক্ষামূলকভাবে ব্যাবহার করছি। তবে ত্রুটির কারণে সিগন্যালগুলো থেকে এখনো কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছেনা। গতকাল ৬ সিগনালের মধ্যে পাঁচটিই নষ্ট ছিলো। দুই একদিনের মধ্যে সিটি কর্পোরেশনকে এবিষয়ে লিখিত ভাবে জানানো হবে। কি ধরনের ত্রুটি রয়েছে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, মুল সমস্য কন্ট্রোল প্যানেলে। এছাড়া সিগন্যালগুলোতে কীভাবে সময় নিয়ন্ত্রণ করা হবে। লাল, সবুজ সিগন্যাল বাতিগুলো কত সময় জ্বলবে এবং কিভাবে পথচারী পারাপার হবে এবিষয়গুলো সিগন্যালগুলোতে এডজাস্টমেন্ট করা হয়নি।

প্রকল্প পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বুধবার বৃষ্টির কারনে মসৎ ভবন ইন্টারসেকশন হলুদবাতি জ্বলে ছিলো, কদম চত্বর ইন্টারসেকশনে লাইন আর্থিং হয়ে ছিলো এবং কাকরাইল মসজিদের কাছে একটি তার বিছিন্ন ছিলো। এটি একটি মেকানিক্যাল ও টেকনিক্যাল সমস্যা। ঠিকাদারদের দিয়ে দ্রুত লাইনগুলো ঠিক করে দিয়েছি। সম্পাদনা: শাহীন চৌধুরী

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত