প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর মুখ খুললেন বীরাঙ্গনা আছমুনা বেগম

সাত্তার আজাদ, সিলেট: স্বাধীনতার যুদ্ধের পর থেকে মনের দুঃখ বুকে চেপে রেখেছিলেন বীরাঙ্গনা আছমুনা বেগম। বিজয়র ৪৭ বছর পর গত মঙ্গলবার মুখ খুললেল তিনি। জানালেন তার সম্ভ্রমহানীর কাহিনী। আছমুনার বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের বাড়ুদা গ্রামে। তিনি মৃত রকিব আলীর স্ত্রী। ভারতের সীমান্তবর্তী মুড়িয়া হাওরের পূর্বপাড়ে বাড়ুদা গ্রাম। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাড়ুদা গ্রামে সরব ছিল রাজাকার বাহিনী।

পাক সেনারাও সেখানে অবস্থান নিয়েছিল। বাড়ুদা গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাক সেনাদের একাধিকবার সমুখযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। রাজাকারের উৎপাতে গ্রামের নারী-পুরুষরা আশ্রয় নিয়েছিল পাশ্ববর্তী ভারতে। অন্ধ মাকে নিয়ে গ্রাম ছাড়েননি প্রতিবন্ধী রকিব আলী। তার এক হাত এক পা অবশ থাকায় ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। রকিব আলী চাচাত্বভাই পাশের ঘরের আশরাফ আলী মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। যুদ্ধকালীন সময় আশরাফ আলীকে খুঁজতে আসে পাক সেনারা। তাকে বাড়িতে না পেয়ে রকিব আলীর ঘরে হানা দেয় পাক সেনারা।

ওইদিন তারা রকিব আলী ও তার মাকে মারধর করে আছমুনাকে ধরে নিয়ে যায় পাশের মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলীর ঘরে। সেখানে দু’জন পাক সেনা তার সম্ভ্রম লুট করে। আছমুনা বেগম জানান, ১৯৭১ সাল। সেদিন ছিল ভাদ্রমাস। মুক্তিযুদ্ধ চলছে। গ্রামের সবাই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেলেও অন্ধ শাশুড়ি ও প্রতিবন্ধী স্বামীর সাথে বাড়িতে থেকে যান আছমুনা বেগম। তখন তাঁর বয়স ত্রিশের কাছাকাছি। ওইসময় পাশের ঘরের মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলীকে খুঁজতে আসে পাক সেনারা।

আশরাফ আলীকে ঘরে না পেয়ে দু’জন পাক সেনা আছমুনার ঘরে হানা দেয়। তখন আছমুনার অন্ধ শাশুড়ি ছিলেন বারান্দায়। তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে পাক সেনারা ঘরে ঢুকে আছমুনার স্বামী রকিব আলীকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এরপর আছমুনাকে টেনেহিচড়ে পাশের মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলীর খালি ঘরে নিয়ে যায়। সখোনে বন্দুকের ভয় দেখিয়ে আছমুনার সম্ভ্রমহানী ঘটায় ওই দুই পাক সেনা।

আছমুনা বলেন, লজ্জায় আমি তখন মুখ খুলিনি। তবুও ঘটনাটি গ্রামের সবাই জেনে যায়। মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে এসে মনে হল বর্বর পাক সেনাদের অকথ্য নির্যাতনের বিষয়টি সকলকে জানিয়ে যাই। যেন আমার এই নির্যাতনের ঘটনাও একটি স্বাক্ষী হয়ে থাকে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত