প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নিক্কিই এশিয়ান রিভিউর প্রতিবেদন
শেখ হাসিনার শাসনামলে আর্কষণীয় অর্থনৈতিক সাফল্য বাংলাদেশের

লিহান লিমা: ১৯৭১ সালের পর থেকে সুষ্ঠু রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক অভাব, চরম দারিদ্রতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং সম্প্রতি বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী সংকট মোকাবেলা করা সত্ত্বেও অর্থনীতির মাপকাঠিতে বাংলাদেশ সফলতা অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে জাপানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ান রিভিউ। বুধবার সংবাদমাধ্যমটির এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির এই সাফল্যের পেছনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষের শিকার হওয়া ১৬ কোটি মানুষের এই দেশটি এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এক দশক ধরে নিরবিচ্ছিন্নভাবে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের জুনে তা পৌঁছেছে ৭.৮ শতাংশে। ২০০৯ সালের তুলনায় বর্তমানে মাথাপিছু আয় তিনগুণ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৭৫০ ডলারে। বিশ্বব্যাংকের মতে, একই সময়ে অতি দারিদ্রের হারও ১৯ ভাগ থেকে এসময়ে কমে হয়েছে ৯ ভাগে। দৈনন্দিন আয় ১.২৫ ডলারের কম হলে তাকে অতি দারিদ্র বলে আখ্যায়িত করা হয়।

এছাড়া, চলতি বছরের শুরুতেই স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণে জাতিসংঘের বেঁধে দেওয়া শর্তগুলো পূরণ করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। এই ধারা অব্যাহত রাখলে ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। ডিসেম্বরে নিক্কেই এশিয়ান রিভিউকে দেওয়া অন্য এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তোরণ আমাদের আরো আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে ও সাহস জোগাবে।’ শেখ হাসিনা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী পাঁচ বছর বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৯ শতাংশ ও ২০২১ সাল নাগাদ তা ১০ শতাংশ পৌঁছাবে।

দেশের আর্থিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে প্রথম সারিতে রয়েছে পোশাক খাত ও বৈদেশিক মুদ্রা। গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিতে বিশ্বে চীনের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। শেখ হাসিনা জানান, গার্মেন্টস খাত থেকে প্রবৃদ্ধি ৩৬.৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০২১ সালে ৫০ বিলিয়ন ডলার করার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে।
এছাড়া প্রবৃদ্ধি অর্জনে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ২.৫ মিলিয়ন প্রবাসীর পাঠানো রেমিটেন্স। ২০১৮ সালে রেমিটেন্স ১৮ শতাংশ বেড়ে ১৫ বিলিয়ন ডলার লক্ষ্যমাত্রা ছুঁয়েছে। তবে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের এই দুই প্রধান খাত ছাড়াও অন্য খাতগুলোতে অগ্রগতির কথা ভাবছে সরকার। বর্তমান প্রশাসন দেশব্যাপী ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে। এরমধ্যে ১১টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে ও ৭৯টি নির্মাণাধীন রয়েছে।

তবে বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থানে নেই বাংলাদেশ। যদিও শেখ হাসিনার নয় বছরের শাসনামলে তার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ২০০৮ অর্থবছরে তা ৯৬ কোটি ১০ লাখ ডলার থেকে এ বছরের জুনে তা দাঁড়িয়েছে ৩০০ কোটি ডলারে। যা অন্য এশিয় দেশ মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের তুলনায় খুবই কম। এর জন্য দায়ী করা হয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সরকারী পদক্ষেপ গ্রহণের অভাব, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, অপরিকল্পিত অবকাঠামো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকে।

সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ স্লোগানের ফলে রাজধানী ঢাকাতেই দ্রুত প্রযুক্তি ও প্রযুক্তি পণ্যের প্রসার ঘটছে। সফটওয়্যার রপ্তানি ও আইটি খাতে বাংলাদেশ চলতি বছর ৮০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। ২০২১ সালের মধ্যে তা ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে রয়েছে। যাত্রী সেবা অ্যাপ পাঠাও ইন্দেনেশিয়ার জো-এক এর কাছ থেকে ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে। এবং এপ্রিলে মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের ২০ ভাগ শেয়ার কিনে নিয়েছে চীনের আলিবাবা গ্রুপের আলিপে। ফার্মসেটিক্যালস পণ্যেও বাংলাদেশের উন্নতি চোখে পড়ার মতো। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের ৬০টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করে। ভবিষ্যতে এক্ষেত্রে আরও অনেক সম্ভাবনা রয়েছে।

নিক্কিই এশিয়ান রিভিউ জানায়, বাংলাদেশর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হল অনুন্নত অবকাঠামো। এক্ষেত্রে চীনকে সাহায্যের জন্য পেয়েছে দেশটি। বেল্ট এন্ড রোড প্রকল্পের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের বৃহত্তর প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন করছে চীন। তার মধ্যে রয়েছে পদ্মাসেতুর রেল যোগাযোগের জন্য ৪০০ কোটি ডলার। এছাড়া দেশটি অন্যান্য প্রকল্পে চীনের কাছ থেকে ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার ঋণ গ্রহণ করেছে। ২০১৮ সালে চীনা বিনিয়োগকারী ঢাকা স্টক একচেঞ্জের ২৫ ভাগ শেয়ার ক্রয় করেছেন। বাংলাদেশ বর্তমানে পাকিস্তানের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম চীনা মিলিটারি হার্ড্ওয়্যার আমদানিকারক। বাংলাদেশে বেইজিংয়ের বাংলাদেশে বিনিয়োগসম্পর্কে হাসিনা বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হল সবার সঙ্গে ভাল সম্পর্ক।’

নিক্কিই এশিয়ান রিভিউ আরো জানায়, ডিসেম্বরের ৩০ তারিখে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশটিতে রাজনীতির প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। দুর্নীতি মামলায় দোষী খালেদা জিয়া বর্তমানে জেলে আছেন। বুদ্ধিজীবীরা সরকারের টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষকরা মনে করছে, ক্ষমতাসীন দলের বিজয় চলমান উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে তরান্বিত করবে। হংকংভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিএলএসএ এর নির্বাহি পরিচালক ও প্রধান কৌশলি ক্রিস্টোফার উড বলেন, ‘যদি কোন রকম বাধা ছাড়াই ভোটে পাশ করা যা তবে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে আর্কষণীয় অগ্রগতি দেখতে পাবে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত