প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এলিজাবেথ বাথোরির ৬০০ খুনের পেছনে একটি আপেলই যথেষ্ট!

দেবদুলাল মুন্না : এখন পর্যন্ত তার খুনের রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারেনি। ৫৪ বছরের জীবনে ৬০০ জনকে খুন করেছেন। গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম আছে তার। তিনি এতো খুন করেছেন কিন্তু প্রতিটি খুন করার কৌশল ছিল আলাদা। জন্ম হাঙ্গেরীতে ১৫৬০ সালে জন্ম। মৃত্যু ১৬১৪ সালে। নাম, এলিজাবেথ বাথোরি। নোবেল বিজয়ী হাঙ্গেরিয়ান লেখক ইমরে কার্তেজ তাকে নিয়ে ফিকশন লেখেছেন। তিনি এক ইন্টারভিউতে বলেছিলেন, ‘ ৬০০টি খুন করার পেছনে একটি আপেলই যথেষ্ট ছিল।’

তিনি খুনের নেশায় মত্ত হন তাঁর স্বামী ফ্র্যাংক নাডাসডি ১৬০৪ সালে মারা যাওয়ার পর। তবে আগেও খুন করেছিলেন ৪৮টি। কিন্তু বাকি গুলো এরপর। তিনি ভার্জিন নারীদের বাসার কাজে নিযুক্ত করতেন খুন করার জন্য। সবগুলো খুন করেন ১৫৮৫ থেকে ১৬০৯ সালের মধ্যে। নারীদের খুন করার ক্ষেত্রে কখনো তিনি ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতেন। কখনো ঘুমের মধ্যে গলায় স্কার্ফ পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করতেন। কখনো বাথটাবে গোসল করার নামে ‘টিনসা’ নামের একধরণের পানির পাম্প দিয়ে অতিরিক্ত পানি খাইয়ে মারতেন। ফলে কোনো খুনেই প্রমাণিত করা যেত না যে কাথোরি খুন করেছেন। প্রথম খুন করেন বুদাপেস্টে এক মাতালকে গাড়ি চাপা দিয়ে, ১৫৮৫ সালের ডিসেম্বরের বড়দিনে।

তিনি ১৬১০ সালে গ্রেফতার হওয়ার পর পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিতে বলেছিলেন, ‘‘একটি আপেল কেটে আমি শৈশবে খেয়েছিলাম। তখন মনে হয়েছিল আপেলটি কান্না করছে। এরপর টানা ৬দিন আমি ঘুমাতে পারিনি। সিডেটিভ অষুধ ডাক্তার দিয়েছিলেন। পরে বুদাপেস্টের রাস্তায় বড়দিনে চার্চ থেকে যখন ফিরছিলাম তখন গাড়ির সামনে এক মাতাল বারবার বিচিত্র অঙ্গভঙ্গি করছিল। হর্ণ দিলেও সরছিল না। হঠাৎ চোখের সামনে ভাসতে থাকল অসংখ্য আপেল। এরপর আর দেরি না করে লোকটিকে গাড়িচাপা দেই। আফসোস করি না এই ভেবে যে আপেলকে খুন করলে মানুষ খুন করলে অপরাধ কোথায়? ’ ( সূত্র, দ্যা থট, লেখক আব্রাহাম স্মিথ)

ভার্জিন নারীদের কেন খুন করতেন এর জবাবে তিনি বলেন, ‘ একধরণের যৌন ইর্ষা কাজ করতো। আমার মনে হোত তারা পুরুষের স্পর্শের বাইরেই থাকুক। আমি যেমন আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর যৌনকর্ম থেকে দুরে থেকেছি। আগেও থেকেছি। অনেক সময়ই আমি খুন করার পর সুযোগ পেলে লাশ খুঁড়ে রক্ত খেতাম।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত