প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তহবিল কেলেঙ্কারিতে বন্ধ হচ্ছে ট্রাম্প ফাউন্ডেশন

যায়যায়দিন : তহবিল কেলেঙ্কারিসহ গুরুতর অনিয়মের অভিযোগের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘ট্রাম্প ফাউন্ডেশন’ মঙ্গলবার বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিউইয়কের্র অ্যাটনির্ জেনারেলের দপ্তর। এছাড়াও, ফাউন্ডেশনের হাতে এখন যে অথর্ আছে তা অন্য দাতব্য সংস্থাকে দিয়ে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয় এদিন Ñডেইলি মেইল

তহবিল কেলেঙ্কারিসহ গুরুতর অনিয়মের অভিযোগের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাতব্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নিউ ইয়কের্র অ্যাটনির্ জেনারেল বারবারা আন্ডারউড মঙ্গলবার ট্রাম্প ফাউন্ডেশন বন্ধের ওই সিদ্ধান্তের কথা জানান। ফাউন্ডেশনের হাতে এখন যে অথর্ আছে তা অ্যাটনির্ জেনারেলের তত্ত¡াবধানেই অন্য দাতব্য সংস্থাকে দিয়ে দেয়া হবে। সংবাদসূত্র: বিবিসি নিউজ, রয়টাসর্, এএফপি

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার তিন সন্তান ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক লাভের উদ্দেশ্যে ওই ফাউন্ডেশনের অথর্ বেআইনিভাবে ব্যবহার করেছিলেন অভিযোগ করে গত জুনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে নিউ ইয়কের্র অ্যাটনির্ জেনারেলের দপ্তর। অন্যদিকে ট্রাম্প ফাউন্ডেশনের আইনজীবী বলে আসছিলেন, অ্যাটনির্ জেনারেলের অফিস ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে’ বিষয়টিকে রাজনৈতিক চেহারা দিতে চাইছেন।

আন্ডারউড মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, ফাউন্ডেশন বন্ধ হয়ে গেলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার মেয়ে ইভাঙ্কা, ছেলে ডোনাল্ড জুনিয়র ও এরিকের বিরুদ্ধে মামলা চলেবে। যে পরিমাণ অনিয়ম ও অবৈধ কাজ ওই ফাউন্ডেশনের নামে হয়েছে তা অবাক করার মত। ট্রাম্পের নিবার্চনী প্রচারে অবৈধভাবে ফাউন্ডেশনকে জড়ানো হয়েছে। অবৈধভাবে নিজেদের মধ্যে অথের্র হাতবদল হয়েছে বারবার। সবকিছু দেখলে মনে হয়, ওই ফাউন্ডেশন আসলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বাথের্র একটি চেকবই ছাড়া আর কিছু ছিল না।

অ্যাটনির্ জেনারেলের অফিস জানিয়েছে, ট্রাম্প ফাউন্ডেশনকে এখন বিচারিক তত্ত¡াবধানে বন্ধ করে দেয়া হবে। ফাউন্ডেশনের বাকি সম্পদ অন্য দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে দান করে দেয়া হবে। ট্রাম্প তার বহুল বিক্রীত বই ‘দি আটর্ অব দি ডিল’ বিক্রির টাকায় ১৯৮৭ সালে নিজের নামে এই দাতব্য প্রতিষ্ঠান খোলেন। ২০০৫ সালের পর থেকে এই ফাউন্ডেশন ট্রাম্পের বন্ধু আর সহযোগীদের কাছ থেকেও তহবিল নিতে শুরু করে। এ ফাউন্ডেশনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হতো ট্রাম্পের স্বাক্ষরে, অনুদান ছাড় করার ক্ষমতাও কেবল তার হাতেই ছিল। তবে ২০০৮ সালের পর নিজের পকেট থেকে আর কোনো টাকা ওই ফাউন্ডেশনে দেননি নিউ ইয়কের্র এই ধনকুবের।

২০১৪ সালে এ ফাউন্ডেশনের সম্পদের পরিমাণ ছিল ১২ লাখ ৭৩ হাজার ৮৯৫ ডলার, যার মধ্য ৫ লাখের বেশি এসেছিল নিউ ইয়কের্র টিকিট রেসলিং মুঘল রিচাডর্ ইবরেসের দান থেকে। ওই সময় পযর্ন্ত ফাউন্ডেশন বিতরণ করেছিল ৬ লাখ ৯১ হাজার ৪৫০ ডলার। ২০১৩ সালে ফ্লোরিডার অ্যাটনির্ জেনারেল পাম বন্ডি ট্রাম্প বিশ্ববিদ্যালয়ে জালিয়াতির একটি অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয়ার পর রিপাবলিকান নেতা বন্ডির সমথর্ক একটি গ্রæপকে ২৫ হাজার ডলার অনুদান দিয়েছিল ট্রাম্প ফাউন্ডেশন। ট্রাম্প বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সেই তদন্ত আর হয়নি। ওই বিষয়টি নিয়ে ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে নিউ ইয়কের্র অ্যাটনির্ জেনারেলের কাযার্লয়। ফাউন্ডেশনের নিবন্ধনেও অনিয়ম থাকার কথা জানিয়ে ওই বছর অক্টোবরে টাকা তোলা বন্ধ রাখার নিদের্শ দেন তখনকার অ্যাটনির্ জেনারেল এরিক স্নেইডারম্যান।

দুই বছর তদন্ত শেষে ট্রাম্প ও তার তিন সন্তানের বিরুদ্ধে মামলা করে নিউ ইয়কের্র অ্যাটনির্ জেনারেলের দপ্তর। সাবেক প্রেমিকাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠায় তার এক মাস আগেই স্নেইডারম্যান পদত্যাগ করেন এবং আন্ডারউড সেই দায়িত্ব নেন। মামলা করার পর আন্ডারউড বলেছিলেন, ওই ফাউন্ডেশনের টাকা ট্রাম্পের নিদেের্শই তার নিবার্চনী প্রচারে ব্যবহার করা হয়েছিল। পাশাপাশি ট্রাম্পের মামলা চালানোর খরচ, ব্যবসা সম্প্রসারণসহ ব্যক্তিগত কেনাকাটার কাজেও ওই তহবিল থেকে টানা নেয়া হয়েছিল।

‘স্বাথের্র সংঘাত’ এড়াতে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দাতব্য সংস্থাটি বন্ধ করে দেয়ার প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু তদন্ত শেষের আগে ওই ফাউন্ডেশন বন্ধের সুযোগ নেই বলে সে সময় জানানো হয় অ্যাটনির্ জেনারেলের দপ্তর থেকে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত