প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কবে ফিরবেন এরশাদ

সমকাল : কথা ছিল ১৮ ডিসেম্বর দেশে ফিরবেন সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পরে বলা হয়, ২২ ডিসেম্বর দেশে আসবেন। জানা গেছে, এদিনও তার ফেরা হচ্ছে না। তাহলে কবে ফিরবেন তিনি- এ নিয়ে দলটির কেউ নির্দিষ্ট দিনক্ষণ বলতে পারছেন না।

দলে এরশাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ফয়সাল চিশতি বুধবার রাতে  জানান, ২২ ডিসেম্বর ফিরছেন না পার্টি চেয়ারম্যান। তার ফেরায় বিলম্ব হবে। ৩০ ডিসেম্বর ভোট, এর আগেই দেশে আসবেন- এমন আশার কথা শোনালেও বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।

নানা আলোচনার জন্ম দিয়ে গত ১০ ডিসেম্বর রাতে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যান এরশাদ। তবে জাতীয় পার্টির তরফে দাবি করা হয়েছিল, চিকিৎসা নয়, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুর গেছেন তিনি। এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে ১০ দিন।

এ বিষয়ে ফয়সাল চিশতি বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যে চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসা করান, তিনি এতদিন যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে ফিরে তার চিকিৎসা শুরু করেছেন। এ কারণেই বিলম্ব হচ্ছে। ফলে ২২ ডিসেম্বর দেশে ফিরতে পারবেন না। আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।

তবে জাতীয় পার্টির একটি সূত্র এবং কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভোটের আগে এরশাদের দেশে ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এলে সর্বোচ্চ দু-তিন দিন আগে আসবেন। সিঙ্গাপুরে তিনি সরকারের ‘নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছেন বলে দাবি করেছে জাতীয় পার্টির সূত্রটি। তবে এরশাদ নির্বাচনের অন্তিম মুহূর্তে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের দিকে ভিড়তে পারেন বলে যে গুঞ্জন রয়েছে, তা নাকচ করেছে সূত্রটি।

আসন্ন নির্বাচনে রংপুর-৩ ও ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থী হয়েছেন এরশাদ। রংপুর-৩ আসনে তিনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী। সেখানে নৌকার প্রার্থী নেই। ঢাকা-১৭ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চিত্রনায়ক ফারুক। তবে বুধবার জানা যায়, ঢাকা-১৭ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন এরশাদ। এ খবরকে ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দেন এরশাদের নির্বাচন সমন্বয়ক ফয়সাল চিশতি। তিনি বলেন, ভোট থেকে এরশাদের সরে দাঁড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। বরং তাদের কাছে খবর আছে, এরশাদের সমর্থনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

৮৮ বছর বয়সী রাজনীতিক এরশাদ কয়েক মাস ধরে অসুস্থতায় ভুগছেন। শুধু নভেম্বর মাসেই চারবার ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয় তাকে। অসুস্থতার কারণে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বাছাই ও নির্বাচনী কার্যক্রম থেকেও দূরে ছিলেন তিনি। তার অসুস্থতা ও রাজনীতি থেকে দূরে থাকা নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে। তিনি দলীয় প্রধানের দায়িত্ব ছোট ভাই জিএম কাদেরের হাতে দিয়ে সিঙ্গাপুর যেতে পারেন- এমন গুঞ্জনও ছড়ায়। এর মধ্যেই চলতি মাসের শুরুতেই দলের মহাসচিব পরিবর্তন করেন এরশাদ। এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে সরিয়ে মসিউর রহমান রাঙ্গাঁকে এ পদে বসান। এরপর নানা নাটকীয়তার জন্ম দিয়ে ১০ ডিসেম্বর রাতে সিঙ্গাপুর যান এরশাদ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত