প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ড. কামাল বা রেজা কিবরিয়াদের নিরাপত্তা কীভাবে সম্ভব?

দীপক চৌধুরী : দেশের ইতিহাসে একাদশ সংসদ নির্বাচন নানা কারণেই যে তাৎপর্যপূর্ণ এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরা দেখছি, শেষ বয়সে বিএনপির কাঁধে ভর করে ক্ষমতা যাওয়ার খোঁয়াব দেখছেন গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেন। বিএনপির সখা জামায়াতকে ছাড়া কি এতো সহজ? বিএনপি যেমন ছাড়েনি, ঐক্যফ্রন্ট তো ছাড়ার প্রশ্নই আসে না। জামায়াত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে তা কী আমাদের কল্পনার মধ্যে ছিলো? না, ছিলো না। সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন, কেউ কী ভেবেছিলো? তাও না। সবাই জানেন, অর্থমন্ত্রী কিবরিয়ার হত্যা মামলার আসামি হারিস চৌধুরীর প্রতীক ছিলো ধানের শীষ। অর্থমন্ত্রীর ছেলে রেজা কিবরিয়ারও প্রতীক ধানের শীষ। তাহলে  তফাৎটা কোথায়? ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে রেজা কিবরিয়ার নির্বাচন করাকে মানুষ যেমন প্রত্যাশা করে না; তেমনই রেজা কিবরিয়ার পরিণিতি ও তার বাবার মতো হোক এটি তার শত্রুরাও চায় না। হয়তো বা এ কারণেই নিরাপত্তার অভাব জানিয়ে রেজা কিবরিয়া হবিগঞ্জের নির্বাচনি এলাকা থেকে বিদায় নিয়েছেন। ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন নিরাপত্তার অভাববোধ করে যদি ঘরবন্দি হয়ে পড়েন তাহলেও বিস্মিত হওয়ার কিছু থাকবে না।

সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে এই গুজব ছড়িয়ে পুলিশ হত্যা করেছিলো যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। সুতরাং বিএনপি-জামায়াত  সুপরিচিত ও ‘গুণী’ মানুষকে হত্যা করে পরিবেশ ঘোলাটে করলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।  বিএনপি-জামায়াত তাদের স্বার্থে সবকিছুই করতে পারে? দাঁড়িপাল্লা ছেড়ে আজ ধানের শীষ কেন? নিশ্চয়ই জামায়াতের স্বার্থে। আমরা তো সবাই জানি, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির উত্থান ও বিকাশ এক ভয়ঙ্কর পর্যায়ে পৌঁছেছিলো। সম্ভবত এই রেশ ধরে যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধী দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর পুত্র শামীম সাঈদীও এবার নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে। এটা ভুলে গেলে চলবে নাÑ এ দেশে তাদের পিতারা স্বাধীনতার পতাকা উড়িয়েছে।

বাঙালি নির্বাচনমুখী জাতি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তারা নেতৃত্ব নির্বাচন করতে পছন্দ করে। তাই সারা  দেশেই এখন নির্বাচনী আমেজ। দেশজুড়ে নির্বাচনী উৎসবের আমেজের মধ্যে সহিংসতা কারা ছড়াচ্ছে তা বিচার করা দরকার। আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগের ছেলেদেরে কারা হত্যা করেছে? শুধু আওয়ামী লীগের লোকেরাই যে এই নৃশংসতা ছড়াচ্ছে না এটা নির্বাচন কমিশনও জানে। এ কারণেই নির্বাচন কমিশন বিব্রত। নানারকম যুক্তিসঙ্গত কারণেই তারা কঠিন ও কঠোর হতে পারছে না। তারা সব দলকে নির্বাচনে রাখতে চায়, সবার অংশগ্রহণ চায়।

জিয়াউর রহমান পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেও সেই পৃষ্ঠপোষকতা এখনো বহাল রয়েছে। কারণ তার আদর্শ থেকে বিএনপি সরে যাওয়ার কথা নয়। ইতিহাস থেকে আমরা দেখেছি, যেখানে দেশটির  স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে প্রাণ দিতে হয়েছে, যে দেশে কারাভ্যন্তরে চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, ৩ নভেম্বর আর ১৫ আগস্ট সৃষ্টি করা হয়েছে সেই দেশে কী না হতে পারে? আমাদের কী কোনোভাবেই ভুলে যাওয়া সম্ভব জঙ্গি জামায়াত-বিএনপির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। দলের ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের পরাজয় হলে কী হয় এর একটি  উদাহরণও দিয়েছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০১ সালের ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে পরাজিত করা হয়। ২০০১ পরবর্তী পাঁচ বছর ছিলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এ দেশের সাধারণ মানুষের এক বিভীষিকাময় সময়। হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে জনজীবন ছিলো অতিষ্ঠ। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া, সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার, খুলনার অ্যাডভোকেট মঞ্জুরুল ইমাম, নাটোরের মমতাজ উদ্দিনসহ ২১ হাজার আওয়ামী লীগ  নেতা-কর্মীকে হত্যা করে হাওয়া ভবন তৈরি করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও পাচার করা হয়। শেখ হাসিনার অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা ভাই, জেএমবি, হরকাতুল জিহাদসহ নানা ধরনের জঙ্গিগোষ্ঠী সৃষ্টি করা হয় তাদের আমলে। রমনা বটমূলে নববর্ষে অনুষ্ঠান, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের সমাবেশ ও পল্টনে সিপিবির সমাবেশ বোমা হামলা হয়েছে। সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার  চৌধুরী, সাবেক  মেয়র বদরুদ্দিন আহমেদ কামরান ও প্রবীণ রাজনীতিক সুরঞ্জিত  সেনগুপ্তকে  বোমা হামলা করে হত্যাচেষ্টা করা হয়।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় আওয়ামী লীগের র‌্যালিতে নৃশংস  গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিরীহ মানুষ নিহত হয় এবং ৫০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয় তখন। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট ৫০০ স্থানে একযোগে বোমা হামলা, একই বছর গাজীপুরে বোমা  মেরে ১০ জনকে হত্যা, শরীয়তপুরে দুই বিচারকসহ সারাদেশে অসংখ্য সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে এসব জঙ্গিগোষ্ঠী। সুতরাং এখন ভোটারদের চিন্তা করতে হবে তারা কী চান? তারা কী আবার অন্ধকার পথে ফিরে যেতে চান; নাকি অগ্রগতি ও উন্নয়নের পথে? কোনটি বেছে নেবে মানুষ এর জবাব মিলবে ৩০ ডিসেম্বরে।

লেখক : উপ-সম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি। কলামিস্ট ও উপন্যাসিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত