প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভুয়া সংবাদের ফাঁকফোকর ও আমাদের সতর্কতা

ফজলে রাব্বী খান : প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা যে অজস্ত্র সংবাদ দেখি তার সবই কি সত্য? আজকের এই অনলাইন যুগে ভুয়া সংবাদ ছড়ানো একশ্রেণির দুষ্টলোকের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এসব ভুয়া সংবাদের মাধ্যমে মানুষকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘মিসইনফরমেশন’ প্রদান এবং ‘মিসগাইড’ করা হয়। ফেক নিউজের সামাজিক প্রভাব ভয়াবহ, শুধমাত্র ভারতে ‘গরু জবাইয়ের’ ফেক নিউজের কারণে সাম্প্রতিক কয়েক মাসে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৯ জন। এডেলম্যান ট্রাস্ট ব্যারোমিটারের এক জরিপে দেখা যায় ৬৩ শতাংশ মানুষ ভুয়া সংবাদ এবং প্রকৃত সংবাদকে আলাদাভাবে সনাক্ত করতে পারে না। ফেক নিউজ নিয়ে বিশ্বব্যাপী রীতিমতো রাজনীতি শুরু হয়ে গেছে, ২০১৬ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় ১৪০টি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফেক নিউজ প্রচার করতেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ফেক নিউজ অ্যাওয়ার্ডও ঘোষণা করেন! ভারতে বিজেপি প্রচারণা ও অনলাইনে প্রভাব বিস্তারের জন্য তাদের আইটি সেলে ৭০ হাজার কর্মীকে নিয়োগ করেছে, অপরদিকে কংগ্রেসও ‘রাজীব-কা-সিপাহী’ নামের একটি এন্টিসেল গঠন করেছে।

ফেক নিউজে মূলত হিটলারের প্রোপাগান্ডা মন্ত্রী গোয়েবেলসের থিওরি অনুসরণ করা হয়, তিনি মনে করতেন ‘একটি মিথ্যা বারবার প্রচার করলে সেটি সবার কাছে সত্য বলে মনে হয়’। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রায় ৭ হাজার রোহিঙ্গা গণহত্যার সাথে ফেক নিউজের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছে জাতিসংঘ। শুধু মিয়ানমার নয়Ñ ভারত, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, কেনিয়াসহ অনেক দেশের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণ এই ফেক নিউজ। বাংলাদেশেও ফেক নিউজের কারণে অতীতে বড় ধরনের পাঁচটি সহিংসতার সৃষ্টি হয়েছিলো।

ফেকনিউজ সবই যে রাজনৈতিক তা নয় বরং বিভিন্ন সাধারণ বিষয়েও অনলাইনে অসংখ্য ভুয়া সংবাদ পাওয়া যায়, যেমন ‘ইস! কৌশলটা আগে জানা থাকলে বাবা স্ট্রোক করে মারা যেতেন না’Ñ এরকম একটি সংবাদে বলা হয় স্ট্রোকে আক্রান্তু ব্যক্তির আঙ্গুল কেটে রক্তক্ষয় করানোর ফলে রোগী ভালো হয়ে যান অথচ এর কোনো সত্যতা নেই। কোনো সংবাদ শেয়ার করার আগে নিশ্চিত হতে হবে সংবাদটি সত্য কিনা। কোনো সংবাদের বিষয়ে সন্দেহ জাগলে প্রথমেই দেখতে হবে সংবাদটি কোনো প্রতিষ্ঠিত পত্রিকা/টিভির কিনা? ভূঁইফোড় গণমাধ্যমের অনেক সংবাদই ফেক হয়। বর্তমানে অনেক পরিচিত পত্রিকার আদলে নকল ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে, তাই ওয়েবের লিঙ্ক/ইউআরএলটিও ঠিক আছে কিনা দেখে  নিতে হবে। এছাড়াও সংবাদ শিরোনামের সাথে কনটেন্ট বা লেখা/ছবি/ভিডিওর মিল আছে কিনা এবং এগুলো প্রকাশের তারিখও দেখতে হবে। নিশ্চিত হবার জন্য একই বিষয়ে অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যম কি বলছে সেটিও দেখা যেতে পারে।

অনেকেই না জেনে ফেসবুকে ভুয়া সংবাদ শেয়ার করে, আপনার শেয়ারকৃত একটা ভুয়া সংবাদ অন্যান্য অনেককেই বিভ্রান্ত ও ‘মিসগাইড’ করতে পারে এবং সহিংসতারও জন্মদিতে পারে। আপনি ব্যবহৃত হতে পারেন প্রোপাগা-া প্রচারকারীদের হাতিয়ার হিসেবে। তাই অনলাইনে বিভিন্ন সংবাদের বিষয়ে সচেতন হবার এখনই সময়। ফেক নিউজের যে কালোছায়া বিশ্বকে গ্রাস করেছে তা থেকে নিরাপদ থাকুক প্রিয় বাংলাদেশ, এটাই প্রত্যাশা সবার।

লেখক : কলামিস্ট ও প্রকৌশলী

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত