প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বর্ণচোরা নীতিহীন কুচক্রী মহল ড. কামালের নেতৃত্বে যুক্ত হয়েছে : ইনু

রফিক আহমেদ : জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ’র সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি বলেছেন, দেশের শান্তি- উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে দেশবাসীকে ও উন্নয়নবিরোধী শক্তিকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব মহাজোটের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেয়া দরকার। তিনি বলেন- বিএনপি-জামায়াত জোট সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক সংসদীয় রাজনীতির পথ পরিহার করে অস্বাভাবিক রাজনীতির পথ গ্রহণ করে। তারা ১৪ দল-মহাজোট সরকার গঠন মেনে না নিয়ে প্রথম দিন থেকেই সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের পথে চলতে থাকে।

বুধবার সকাল ১০ টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাসদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

জাসদ সভাপতি বলেন, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক আবশ্যকতা অনুযায়ী ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে নির্বাচনের তফশীল ঘোষণা করলে বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন পন্ড ও বানচাল করতে নজিরবিহীন সহিংসতা-নাশকতা-অন্তর্ঘাত শুরু করে। নির্বাচন কমিশন যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর থাকে। বিএনপি- জামায়াতের নির্বাচন বর্জন, জ্বালাও- পোড়াও- হত্যা- খুন-হামলা- সহিংসতা- নাশকতা-অন্তর্ঘাতের কারণে নির্বাচন কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন হলেও ৫ জানুয়ারি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয় এবং নতুন সংসদ ও সরকার গঠিত হয়।

তিনি বলেন, দেশ যখন শান্তি ও উন্নয়নের পথে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে তখন বিএনপি-জামায়াত জোটের সাথে ভদ্রলোকী মূখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বর্ণচোরা নীতিহীন কুচক্রী মহল ড. কামালের নেতৃত্বে যুক্ত হয়েছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত বিএনপি-জামায়াতকে রাজনীতির মাঠে পুনর্বাসন করা। এরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দল নামে রাজনীতির মাঠে নামে। এরা নানা উছিলা তৈরি করে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরির অপচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও তাদের চলনবলন দেখে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, তারা নির্বাচন বানচালের উছিলা তৈরি করছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তারা নির্বাচন বন্ধ ও বানচালের গোপন এজেন্ডাতেই আছে। তারা তাদের অস্বাভাবিক রাজনীতির পথ পরিহার করেনি এবং জামায়াত- যুদ্ধাপরাধী-জঙ্গিবাদের সাথে রাজনৈতিক পার্টনারশিপও ত্যাগ করেনি, শোধরায়নি এবং তওবাও করেনি।

এ অবস্থাতে জনগণ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির প্রধান জাতীয় কর্তব্য: সকল ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত-উস্কানী মোকাবেলা করে ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা, সকল ভোটারের ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট প্রদান করা। শান্তি- উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে দেশ বিরোধী-শান্তি বিরোধী উন্নয়ন বিরোধী শক্তিকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ও মহাজোটের প্রার্থীদের পক্ষে মূল্যবান ভোটাধিকার প্রয়োগ করা।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ মনে করে, বিএনপি-জামায়াত জোটের রাজনৈতিক নীতিগত অবস্থানই স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তথা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের চেতনা বিরোধী। বিএনপি-জামায়াত জোট নগ্নভাবেই ‘উদার ও মুক্ত গণতন্ত্র’- এর সার্বজনীন ধারণা ও চেতনা বিরোধী শক্তি। তাই বিএনপি- জামায়াত জোট দেশ ও জনগণের জন্য একটি বিপদ। এ বিবেচনা থেকেই ২০০১ সালে বিএনপি- জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসেই যে দুঃশাসন- দলবাজী-ক্ষমতাবাজী- লুণ্ঠন-দুর্নীতি- জঙ্গীবাদী রাজত্ব কায়েম করেছিল জাসদ তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলার প্রচেষ্টা নেয়। জাসদের প্রচেষ্টার ফলেই অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক শক্তির সমন্বয়ে ১৪ দলীয় জোট এবং পরবর্তীতে বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসন ও জঙ্গীবাদ বিরোধী অন্যান্য রাজনৈতিক দল নিয়ে মহাজোট গঠিত হয়। জাসদ সেই বৃহত্তর ঐক্যের ধারায়ই ১৪ দল ও মহাজোটের শরীক হিসাবেই ৯ম ও ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং সেই ধারাবাহিকতায় আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ মনোনীত প্রর্থীরা ৩টি নির্বাচনী এলাকায় ১৪ দল ও মহাজোটের অভিন্ন প্রার্থী হিসাবে নৌকা প্রতীক নিয়ে এবং জোট নেত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদন নিয়েই ৪ টি আসনে মশাল প্রতীক ও ১ টি আসনে সিংহ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছে, বাকী ২৯২ টি আসনে ১৪ দল ও মহাজোট মনোনীত অভিন্ন প্রার্থীদের পক্ষে সক্রিয় সমর্থন প্রদান করেছে ও ভূমিকা রাখছে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ মনোনীত প্রার্থীরা জনগণের ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে, সরকার গঠনে ভ‚মিকা রাখলে, সরকারে অংশগ্রহণ করলে, সরকার ও সংসদে বিগত দিনের ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সাল থেকে রাজনীতি ও অর্থনীতিতে যে পরির্বতনের ধারা সূচিত হয়েছে তা সংহত করা এবং এগিয়ে নেয়ার জন্য যথাযথ ভূমিকা পালন করবে।

পরিবর্তনের ধারা সংহত করা ও এগিয়ে নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য : সরকার পরিচালনায় ভারসাম্য, রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে জনআকাংখার প্রতিফলন ঘটানো, রাষ্ট্রীয় মূল নীতি অনুসরণ, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা, দুর্নীতি মোকাবেলা, জঙ্গীবাদ দমন, যুদ্ধাপরাধের বিচার, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ তথা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, সুশাসন ও আইনের শাসন, আইন-শৃংখলা, সংসদ ও নির্বাচন পদ্ধতি সংষ্কার, স্থ’ানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, শিক্ষা, তরুণদের ভবিষ্যত নির্মাণ, কর্মসংস্থান, মাদকের ছোবল থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করা, নারী সমাজের উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা, দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষ বাঁচাতে রাষ্ট্রীয় সমর্থন, সামষ্টিক অর্থনীতি, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি, জাতীয় শিল্প, সেবাখাত, জনস্বাস্থ্য’ ও জনসংখ্যা, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি ও জ্বালানি নিরাপত্তা, গ্যাস-কয়লা সহ জাতীয় সম্পদ, প্রাণী ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ, পানি সম্পদ, পরিবেশ, প্রকৃতি ও জলবায়ু পরিবর্তন ও নিরাপদ সড়ক, বন্দর ও যোগাযোগ অবকাঠামো, ধর্মীয়, জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও স¤প্রীতি, জাতীয় নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা ইস্যু ও পররাষ্ট্র নীতি ও আন্তর্জাতিক-আঞ্চলিক-উপআঞ্চলিক সহযোগিতা

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ আগামী নির্বাচনে উল্লেখিত ইশতেহার ও অঙ্গীকারের প্রতি আপনাদের সমর্থন প্রত্যাশা করছে। জনগণের ভোটে জাসদ মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হলে উল্লেখিত ইশতেহার ও অঙ্গীকারের ভিত্তিতে সরকারে অংশগ্রহণ করলে সরকারের ভিতরে ও বাইরে, সংসদের ভিতরে ও বাইরে ঐক্য সংগ্রাম-ঐক্য নীতির ভিত্তিতে অব্যাহতভাবে সো”চার রাজনৈতিক ভ‚মিকা রাখবে।
নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ করেন জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন দলীয় সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, স্থায়ী কমিটির সদস্য মীর হোসাইন আখতার, প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন, মোশাররফ হোসেন, অ্যাড. হাবিবুর রহমান শওকত, নাদের চৌধুরী, নুরুল আখতার, সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম, সফি উদ্দিন মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নইমুল আহসান জুয়েল, সহ-সম্পাদক সৈয়দ শফিকুল ইসলাম মিন্টু, ঢাকা মহানগর পশ্চিম জাসদের সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুন্নবী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাসদের সভাপতি ইদ্রিস ব্যাপারী প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত