প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পৌষের শীতে গুড়ি বৃষ্টি বিপর্যস্ত জনজীবন

মাহফুজ নান্টু: সকাল থেকে আকাশজুড়ে মেঘের আানাগোনা। পৌষের উত্তরের হিমেল হাওয়ার সাথে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে কুমিল্লার জনজীবন। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ফেথাইর প্রভাবে গত দু’দিন ধরে কুমিল্লায় হাল্কা ও মাঝারি বৃষ্টিপাতের সাথে মাঝারী বাতাস বইছে। এতে করে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কুমিল্লার জনজীবন। সাথে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে সমস্যা দেখা দেয়ায় দুর্ভোগ চরমে উঠেছ।

গতকাল সোমবারের মত আজ মঙ্গলবারও সকাল থেকে তাপমাত্রা কমতে থাকে। কুয়াশার চাদরে মুড়িয়ে মনমরা হয়ে থাকা প্রকৃতিতে শুরু হয় বৃষ্টি। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হশ নি।

সরেজমিনে নগরীর ব্যস্ততম এলাকা কান্দিরপাড় রাজগঞ্জ,ফৌজদা, আদালত,জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় নিত্যদিনকার শোর চিৎকার নেই। ঠান্ডায় জুবোথুবো হয়ে কাজ করছেন অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

বেলা ১২ টায় শুরু হয় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। ঘূর্ণিঝড় এর প্রভাবে দেশের অন্যান্য এলাকার মত কুমিল্লাতেও হাল্কা বৃষ্টি বাতাস বয়ে যায়। উত্তরের হিমশীতল ঠান্ডা বাতাসের সাথে হাড় কাপানো এমন শীতের মাঝে গুড়ি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে উঠে ফুটপাতের ফেরীওয়ালা,রিক্সা চালকসহ অন্যান্যরা।

নগরীর রেইসকোর্স এলাকায় গিয়ে দেখা যার তিনচারজন রিক্সাওয়ালাকে অবসর সময় কাটাতে। হাবীব, জসিম, কেরামত তিনজন রিক্সাওয়ালা দৈনিক ৮০ টাকা জমার বিনিময়ে একবেলা কেউবা দেড়শ টাকায় পুরো দিনের জন্য ভাড়া নেন। রিক্সাওয়ালা তিন যুবক জানান, বৃষ্টির কারনে আজ বেলা ৪ টা পর্যন্ত শুধু ভাড়ার টাকা রোজগার করতে পেরেছেন। সন্ধ্যার আগেই মানুষজন বাসায় ফিরে যাবে। শুধু অকাল বৃষ্টির কারনে তাদেরক বা তাদেরমত নিম্ন আয়ের পেশার মানুষদেরকে খেয়ে না খেয়ে আজ দু’দিন পার করতে হবে।

হঠাৎ করে এমন বৃষ্টি আর ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশী দুর্ভোগে পড়েছে বয়বৃদ্ধ আর শিশুরা।হঠাৎ করে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। গত দু’ দিনে ঠান্ডাজনিত রোগের কারনে সরকারি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভীড় বাড়ছে। তবে চিকিৎসার কোন সমস্যা নেই উল্লেখ করে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মজিবুর রহমান জানান, এমন বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছি।

এদিকে কুমিল্লায় বৃষ্টিপাতের সাথে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে সমস্যা হওয়ায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আজ মঙ্গলবার দিনভর বিদ্যুৎ নেই। এতে আরো বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে নগরবাসী।

কুমিল্লা বিদ্যুৎ বিভাগের বিক্রয় ও বিতরণ থেকে জানানো হয়, নগরীসহ আশেপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন মেরামত করতে মাঠে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন কাজ করছে। সন্ধ্যার পরে বিদ্যুৎ সঞ্চালন স্বাভাবিক হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত