প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২০১৮ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় মানবাধিকারের চরম বিপর্যয়, ১৯’ কি আনবে প্রত্যাশা ?

লিহান লিমা: ২০১৮ সালকে দক্ষিণ এশিয়ার মানবাধিকারের জন্য সবচেয়ে ভয়ানক বছর হিসেবে উল্লেখ করেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক নির্বাহী বিরাজ পাটনিক। দ্য হানস ইন্ডিয়ায় লেখা কলামে তিনি তুলে আনেন বছরজুড়ে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজজীবনে আলোচিত দিকগুলো।

বছরের প্রায় পুরোটা সময়ই ধর-পাকড়, মুক্তমত দমনের মত বিষয়গুলো উঠে এসেছে গণমাধ্যমে। একের পর এক জোরপূর্বক গুমের খবর আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে। আফগানিস্তানে হতাহতের খবর রেকর্ড ছাড়িয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশেই সুশীল সমাজ হয়রানির শিকার হয়েছেন, সাংবাদিকরা লক্ষ্যবস্থুতে পরিণত হয়েছেন, রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন, ধর্মীয় এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় প্রতিনিয়ত নিপীড়নের সম্মুখীন হয়েছেন।

বছরের শুরুটা হয় মানবাধিকারের জন্য অকুণ্ঠ কণ্ঠস্বর, সাহসী ও প্রতিবাদী পাকিস্তানি আইনজীবী ও অধিকার কর্মী আসমা জাহাঙ্গিরের মৃত্যুর বিদারক খবর দিয়ে। দশকব্যাপী তিনি দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের লড়াইয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। বিশেষ করে ধর্ম অবমাননার আইনকে সংখ্যালঘু নিপীড়নের হাতিয়ার ব্যবহার করার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদের মাত্রা দিয়েছিলেন তিনি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনামলে ধর্মীয় সংখ্যাঘুদের ওপর আক্রমণ মানবাধিকারকে কলঙ্কিত করেছে। হিন্দুত্ববার্দী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের আগ্রাসী মনোভাব এবং সেই সঙ্গে মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনা নজর কেড়েছে। সরকার হামলার তদন্ত করতে অক্ষম হয়েছে। সুশীল সমাজের ওপর ধর-পাকড় চলাকালীন সময়েই মোদি সরকার দেশজুড়ে অধিকারকর্মী, ও আইনজীবীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে অপরাধ প্রমাণ করার জন্য দমনমূলক আইন ব্যবহার করা হয়েছে। ভারাভারা রাও, ভারনোন গঞ্জালেভ, গৌতম নাভালখা, সুধা ভরাদ্দাজ ও অরুণ ফেরারর মত অনেক মানবাধিকার কর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে জয়লাভের কয়েক সপ্তাহ পরেই ২৫ অক্টোবর মোদি সরকারের লক্ষ্যবস্তু হয় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। অর্থনৈতিক দায় চাপিয়ে ১০ ঘন্টা অ্যামনেস্টির অফিসে তল্লাশি চলানো হয় এবং এর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়।

এদিকে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ। অন্যদিকে মানবাধিকারের বিরুদ্ধে অনেক ভয়াবহ অভিযোগের কোন গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে পারে নি বাংলাদেশ সরকার। বিখ্যাত আলোকচিত্রী শহিদুল আলম ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি ছিলেন। তাকে সমালোচিত ৫৭ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো। তার বন্দি অবস্থায়ই বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ণ করে, যার ধারাগুলোকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও ভিন্নমতকে দমন করার হাতিয়ার বলে আশঙ্কা করছেন সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীরা।

আফগান জনগণের সুরক্ষায় কোন ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। জাতিসংঘের মতে আফগানিস্তানে প্রতিমাসে দুইটি হামলা হয়, নিহত হন ১০ কিংবা তার থেকে বেশি। ২০০১ সালে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে এই বছর দেশটিতে সাংবাদিক নিহতের খবর রেকর্ড ছাড়িয়েছে। দেশটিতে মোট ১২ জনের বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

শ্রীলংকায় প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর দ্বন্দ্বে সরকার পরিবর্তন, পাল্টা পালাবদলের পর এখনো রাজনৈতিক পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা সন্দিহান। দেশটিতে কট্টর বৌদ্ধ পুরোহিতদের সহিসংতা ধর্মীয় পরিবেশকে দিন দিন অসহিঞ্চু করছে। সহিংসতার সময় সরকার জরুরি অবস্থা জারি করা সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে। যা দেশটিতে তিন দশক ধরে চলে আসে আসা দাঙ্গা-সহিংসতার জন্য কোন সুনির্দিষ্ট ও বিচারিক পদক্ষেপ নয়।

তবে এত অসহিঞ্চুতার মাঝেও রয়েছে প্রত্যাশা। মালদ্বীপে সরকার পরিবর্তন বছরের পর বছর ধরে রুদ্ধ থাকা মানবাধিকার ও স্বাধীনতার দুয়ার খুলেছে। কারাবন্দিরা ছাড়া পেয়েছেন, গণমাধ্যম তার নিজস্ব পথে চলছে এবং আশা করা হচ্ছে স্বাধীন বিচারবিভাগ দমন-পীড়নের ইতি টানবে। সেই সঙ্গে অন্য দক্ষিণ এশিয় দেশগুলোও ভারত মহাসাগরের এই দেশটির উদাহরণ অনুসরণ করবে। দ্য হানস ইন্ডিয়া।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত