প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আরজ আলী মাতুব্বর এবং তাঁর চিন্তা ও দর্শন

কামরুল হাসান মামুন : আজকের বাংলাদেশে কি আরেকজন আরজ আলী মাতুব্বর তৈরি হওয়ার মতো পরিবেশ আছে? অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে সেই সময় উনি যেসব কথা লিখতে পেরেছেন বা বলতে পেরেছিলেন আজকের বাংলাদেশের বাস্তবতায় কি কেউ পারবে? আমরা এগোচ্ছি না পিছাচ্ছি তার উত্তর এই প্রশ্নের উত্তরের মাঝেই অন্তর্নিহিত।

আরজ আলী মাতুব্বর ছিলেন একাধারে একজন দার্শনিক, একজন চিন্তাবিদ এবং একজন লেখক। তার দর্শন, তার চিন্তা, তার লেখনী অনেকের পছন্দ না হতে পারে। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু একটি সুস্থ, সুন্দর সমাজ গঠনের জন্য ভিন্ন দর্শন, ভিন্ন চিন্তা আর ভিন্ন ধাঁচের লেখার মানুষদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ থাকা উচিত। এইরকম পরিবেশ না থাকলে এক রৈখিক চিন্তা দর্শনের মানুষে ভরে গিয়ে সমাজটা একটা ভাগাড়ে পরিণত হয়।

তার লেখাপড়া শুরু গ্রামের মক্তবে, যেখানে শুধু কোরান ও অল্পস্বল্প ইসলামিক ইতিহাসের ওপর শিক্ষা দেয়া হতো। পরে তিনি নিজ চেষ্টা ও সাধনায় বিজ্ঞান, ইতিহাস, ধর্ম ও দর্শনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর জ্ঞান অর্জন করেন। এই ব্যাপারে বরিশাল শহরে অবস্থিত এক লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ানের ভূমিকা স্মরণযোগ্য। আজকের বাংলাদেশে লাইব্রেরির ভূমিকা কি? এমন কি আমাদের জাতীয় লাইব্রেরিতে কি সত্যিকারের পড়াশোনার পরিবেশ আছে? এছাড়া বিএম কলেজের দর্শনের এক শিক্ষক কাজী গোলাম কাদির তাকে ওই লাইব্রেরি থেকে বই পেতে সাহায্য করতেন। এভাবেই তার মানসিক আকৃতি গঠিত হয়। তার লেখায় ধর্ম, জগৎ ও জীবন সম্পর্কে নানামুখী জিজ্ঞাসা উঠে এসেছে। তার লেখা কয়েকটি বই যেমন সত্যের সন্ধানে, সৃষ্টির রহস্য, অনুমান এবং স্মরণিকা উল্লেযোগ্য।

কথিত আছে যে শৈশবে তার মায়ের মৃত্যুর পর মায়ের ছবি তোলার দায়ে গ্রামের মানুষ তার মায়ের জানাজা পড়াতে রাজি হয়নি। শেষে বাড়ির কয়েকজন লোক মিলে তার মায়ের সৎকার করেন। এই ঘটনা আরজ আলীর ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কার বিরোধিতার এবং সত্যানুসন্ধিৎসু হয়ে ওঠার পেছনে কাজ করেছিলো।

আবারও জন্মদিনের শুভেচ্ছা। সম্পূর্ণ নিজ চেষ্টায় কোনো রকম প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়াও যে জ্ঞানী হওয়া যায় এরকম অনন্য উদাহরণ রেখে যাওয়ার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আপনি ঠিকই বলে গেছেন ‘বিদ্যাশিক্ষার ডিগ্রি আছে, জ্ঞানের কোনো ডিগ্রি নেই’। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত