প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সব প্রস্তুতি শেষ ইসির

বাংলাদেশ প্রতিদিন : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ব্যালট বাক্সসহ প্রাথমিক নির্বাচনী সামগ্রী জেলায় জেলায় পৌঁছে গেছে। এবার ভোটের সাত দিন আগে মাঠপর্যায়ে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবে কমিশন। এ জন্য আগামী ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে ৩০০ আসনের ব্যালট পেপার ছাপানোর টার্গেট রয়েছে কমিশনের। এক্ষেত্রে ২৩ ডিসেম্বর প্রতি জেলায় তা পৌঁছানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে ছয়টি আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে। ইভিএম প্রস্তুত করা হচ্ছে। এদিকে মাঠপর্যায়ের ভোটের পরিবেশ-পরিস্থিতি জানতে আজ থেকে বিভাগীয় সফরে যাচ্ছেন সিইসি ও নির্বাচন কমিশনাররা। আজ রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম সফর করবেন তারা।

এ সময় ভোটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সার্বিক বিষয়ে কথা বলবেন প্রশাসনের স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে। এদিকে ২৪ ডিসেম্বর সেনাবাহিনী, ২২ ডিসেম্বর বিজিবি এবং পুলিশ, র‌্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ২৬ ডিসেম্বর নির্বাচনী মাঠে নামবে। নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এবার সব মিলিয়ে প্রায় ৬ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এবারের ভোটে ৩৯টি দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে এখন মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে ১ হাজার ৮৪৮ জন প্রার্থী। এরমধ্যে স্বতন্ত্র ৯৯ জন, দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৪৯ জন। ১০ ডিসেম্বর থেকে প্রচারে রয়েছেন তারা। ১০ কোটি ৪২ লাখের বেশি ভোটারের একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪০ হাজার ১৮৩টি কেন্দ্রে ২ লাখ ৫ হাজারেরও বেশি ভোটকক্ষ রয়েছে।

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেনা সদস্যরা ভোটের আগে-পরে মিলিয়ে ১০ দিনের জন্য মোতায়েন থাকবেন। আগামী ২৪ ডিসেম্বর মাঠে নামছেন তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী— ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় ভোটের ছয় দিন আগে মোতায়েন হবে সেনাবাহিনী; ভোটের পরও দুই দিন নির্বাচনী এলাকাগুলোতে থাকবেন তারা। সেই সঙ্গে বিজিবি সদস্যদের ১২ দিনের জন্য মোতায়েনের প্রস্তুাব করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ২২ ডিসেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর মাঠে থাকবে তারা। সেই সঙ্গে পুলিশ, র‌্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে ছয় দিনের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর নিয়োজিত রাখা হবে তাদের। আর ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা সদস্যদের ভোটের দুই দিন আগে ২৮ ডিসেম্বর থেকে মোতায়েন করা হবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, ভোটের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। ভোটের সাত দিন আগে ব্যালট পেপার নির্বাচনী এলাকায় পাঠানো হবে। সব কিছু সমন্বয় করেই ব্যালট পেপার ছাপানো হবে। যেসব আসনে সমস্যা নেই সেগুলোর ব্যালট পেপার ছাপানো কাজ চলছে। আর সমস্যা আছে এমন আসনের ব্যালট পরে ছাপানো হবে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছে, নির্বাচনে সাধারণ এলাকার ভোটকেন্দ্রের পাহারায় একজন পুলিশসহ ১৪ জন সদস্য, মেট্রোপলিটন এলাকার ভোটকেন্দ্রে তিনজন পুলিশসহ ১৫ জন এবং দুর্গম ও উপকূলীয় এলাকার ভোটকেন্দ্রে দুজন পুলিশসহ ১৪ জন সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে টহলে থাকবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আচরণ বিধি প্রতিপালনে দেড় হাজারের বেশি জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন। সবমিলিয়ে ভোটের মাঠের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছয় লাখের বেশি সদস্য মাঠে নামছেন। ৬৪০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভোটের আগে-পরে চারদিন মাঠে থাকবেন। এ সময় নির্বাচনী অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিচার করবেন তারা। ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা ভোটগ্রহণের দুই দিন আগে, ভোটের দিন ও ভোটের পরের দিন পর্যন্ত মোট চার দিন মাঠে থাকবেন। আর অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা ভোটগ্রহণের তিন দিন আগে মাঠে নেমে থাকবেন পরের দিন পর্যন্ত।

আজ থেকে বিভাগওয়ারি বৈঠক ইসির : এ বিষয়ে এর আগে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, ১৩ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয়ভাবে আইনশৃঙ্খলা বৈঠক শেষে বিভাগওয়ারি মাঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন সিইসি ও নির্বাচন কমিশনাররা। আট বিভাগে মাঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে ইসি। এর বাইরে তিন পার্বত্য জেলায় বৈঠক একসঙ্গে রাঙামাটিতে হবে আজ ১৮ ডিসেম্বর। আজ চট্টগ্রাম বিভাগে বৈঠকও হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে কমিশন বৈঠক করবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত