প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিজয়ের ৪৭ বছর কেউ মনে রাখেনি পাঁচ শতাধিক বীর শহীদের বধ্যভূমি রসুলপুরকে!

মাহফুজ নান্টু : নগর জীবনকে কেন্দ্র করেই আজ চারদিকে বিজয়োল্লাস। নগরীর শহীদ মিনারে শত শত ফুলে ডালা- পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি সমবেত সুরে জাতীয় সংগীত গাওয়া সবকিছুই আজ নগর কেন্দ্রিক হয়ে গেছে।রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনগুলো নিজেদের সংগঠনের কার্যক্রম প্রদর্শণ মনোভাব নিয়ে উল্লাস করছে নগরীজুড়ে।

অন্যদিকে দেশকে স্বাধীন করতে গিয়ে প্রানোৎসর্গ করা অন্তত পাঁশ শতাধিক শহীদের বধ্যভূমি রসুলপুরের আজ রাষ্ট্রীয় কোন অনুষ্ঠানের ছোয়া লাগেনি। এখানে এসে কেউ শহীদবেদীতে একটি ফুলের পাপড়ী ছিটিয়ে দেয় নি, কেউ এসে শহীদদেও আত্মার মাগফেরাত কামনা করে একটু দোয়া কওে নি। দেশকে ভালোবেসে প্রানোৎসর্গ করা বীর সেনানীদের বধ্যভূমি রসুলপুর আজ অবহেলার শিকার। সুনশান নিরবতায় পার হয়ে যাচ্ছে দিনটি।

সকাল সাড়ে ১০ টায় রসুলপুর বধ্যভূমিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,হিমশীতল কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল হাওয়ায় মধ্য এক নিস্তব্দ পরিবেশ বিরাজ করছে বধ্যভূমিতে। অথচ যাদের জীবনের বিনিময়ে আমরা বিজয় অর্জণ করেছি, একটি লাল সবুজের পতাকা পেয়েছি,বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাড়াতে শিখেছি, নাগরিক জীবনে যারা আজ বিজয়োল্লাসে উৎফুল্ল হয়ে নানান কর্মসূচীতে বিদসটি পালন করছি কিন্তু সেই সব বীর সেনানীদেও কথা ভেবমালুম ভূলে গিয়েছি। গত দুযেক বছর যাবত বিভিন্ গণ মাধ্যমে এ নিয়ে লেখালেখি ও সংবাদ প্রচার করা হলে দু একটা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান করা হয়। পরবর্তীতে আগের রুপে ফিরে পায় রসুলপুর বদ্ধভূমি। বিজয়ের ৪৭ তম বছরে কেউ খোঁজ রাখেনি। একটি গোলাপের পাপড়ী জোটেনি পাঁচ শতাধিক শহীদের রসুলপুর বধ্যভুমিতে।

বিষয়টি নিয়ে রাগ ক্ষোভ আর আবেগঘণ কন্ঠে বীরমুক্তিযোদ্ধা আবদুস সামাদ বলেন, এখানে অনেক নিরীহ বাঙ্গালিকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করা হয়েচে। শিয়াল কুকুড়ে কামড়ে খেয়েছে ওই সব শহীদের লাশ। আমি নিজে এ বদ্ধভূমিতে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। আশেপাশের গ্রামের বয়বৃদ্ধরা এ বধ্যভূমির নিশৃংতার কথা জানেন। তারাও দেখেছেন। অথচ আজ বিজয়ের দিনে অবহেলিত রসুলপুর বদ্ধভূমি। এটা কি জাতির জন্য নি:সন্দেহে অশুভ লক্ষন। সংশ্লিষ্টদেও শুভ বুদ্ধিও উদয় হউক। শহীদরা তাদের সম্মান ফিওে পাক এই আশা ব্যক্ত করেন মুক্তিযুদ্ধা আবদুস সামাদ।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা জেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে রসুলপুর রেলস্টেশন। ১৯৭১ সালে এ স্টেশন ছিল পাকাহানার বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প। ক্যাম্প থেকে সিকি মাইল দক্ষিনে রসুলপুর বধ্যভূমি। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হায়নারা অন্তত ৫ শতাধিক নিরীহ নারী-পুরুষ ও মুক্তিযুদ্ধাদের ধরে এনে হত্যা করে মাটি চাপা দেয়। পরবর্তীতে বধ্যভূমি হিসেবে স্বীকৃত দেয়া হয়। পরে ২০০৫ সালে বধ্যভূমিটিতে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে সংস্কারহীন ও রক্ষানাবেক্ষনের অভাবে অবহেলিত হয়ে আছে বধ্য ভূমিটি। গত কয়েক বছর গণ মাধ্যমে এ বিষয়ে রেখালেখির পরে কিছুটা সংস্কারের ছোয়া লাগলেও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান থেকে কোন কর্মসূচী বরাদ্দ থাকে না বধ্যভূমিটির জন্য।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত