Skip to main content

ভোলা-১ আসনের রাজনৈতিক শিষ্টাচার ছড়িয়ে পড়ুক সারাদেশে

শাহীন কামাল: ছবিটি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে। অনলাইন পোর্টালগুলো খুব দায়িত্বের সাথে সংবাদটি ছেপেছে। জাতীয় পত্রিকা, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় খবর বেরিয়েছে। ভোলা-১ আসনের আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বাণিজ্যমন্ত্রী জনাব তোফায়েল আহমেদ বিএনপি দলীয় তথা তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা বিএনপির সভাপতি জনাব গোলাম নবী আলমগীরের বাসভবনে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তাঁরা একে অপরকে আলিঙ্গন করেন উভয় দলের নেতাকর্মীদের সামনে, যা ভোলার নির্বাচন মাঠকে শান্তিপূর্ণ রাখার ইঙ্গিত বহন করে। দুজনের মধ্যকার বাক্যলাপ ছিল আন্তরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ। ভোলার শান্তিকামী জনগণ দুই প্রধান দলের প্রার্থীর আলিঙ্গন সামনের উত্তাল দিনগুলোতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের স্বপ্ন দেখে। পুরো বিষয়টা নির্বাচনী আবহে নতুন মাত্রা যোগ করে।\\ ভোলার অন্য আসনগুলোর অবস্থান পুরোটাই বিপরীত। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই বড় রকমের সংঘর্ষ হয়ে গেছে। বেশ কয়েকদিন আগে ভোলা-৪ এ সংঘটিত ঘটনাবলী সাধারণ নাগরিককে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ভোলা-৩ আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থীর দীর্ঘদিন পর এলাকায় আগমনকে সামনে রেখে বিএনপি- আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ হতাশার জন্ম দিয়েছে । ভোলা-২ এর সংঘর্ষও পূর্বেকার ঘটনাগুলো মনে করিয়ে অজানা আতঙ্ক তৈরি করে। ২০০১ নির্বাচনপূর্ব সময় ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলা মামলা শুধু স্থানীয় নয়, পুরো দেশেই আলোচিত ছিল। নির্বাচনে পরাজিত ঘরছাড়া মানুষগুলোর আহাজারি আর দুর্দশা ভুক্তভোগী ছাড়াও স্থানীয়রা অবলোকন করেছেন। সংখ্যালঘু নারীর সম্ভ্রমহানির ঘটনা আমাদের জন্য কলঙ্কের চিহ্ন হয়ে রয়েছে যা যুগ যুগে বহন করতে হবে।\ \ ২০০১ এর নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিপক্ষের প্রতি আক্রমণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের স্বাভাবিক দিনাতিপাতকেও ব্যহত করেছিল। দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ, প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাটের ঘটনা ছিল জাতীয় পত্রিকাগুলোর নিত্যদিনের খোরাক। তখনকার এক দলীয় নেতার প্রতিপক্ষের সাথে আত্মীয়তা বারণের নির্দেশনা ভোলা-৩ এর সাধারণ মানুষ মেনে নিতে পারেনি। দীর্ঘদিন এলাকা ছাড়া মানুষগুলোর প্রতি অবিচারের প্রতিদান আর প্রতিচ্ছবি ২০০৮ এর নির্বাচন। অপেক্ষাকৃত নবীন এক প্রার্থীর কাছে মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এর মত হেভিওয়েট প্রার্থীর পরাজয় ২০০১ এর নির্যাতনের নীরব প্রতিশোধ।\ \ \"\"\ \ আওয়ামী লীগের কর্মীদের উপর নির্যাতনে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের বড় এক অংশ নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছেন। কেউ কেউ আওয়ামী লীগেও যোগদান করেছেন। ফলে বিরোধী শিবিরের প্রতি উদারতা আর সহমর্মিতা দেখানো খুব কঠিন মনে হয় না। ‘তুমি অধম বলে আমি উত্তম হব না!’ ভেবে রাজনৈতিক সহাবস্থান সময়ের প্রত্যাশা। কেউ না কেউ তো শুরু করতে হবে। যিনি শুরু করবেন, তিনি উদারতা আর সহমর্মিতার প্রতিদান অবশ্যই পাবেন। সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তির সহাবস্থান প্রত্যাশা করে।\ \ চরদখলের ন্যায় মাঠ দখলের চেষ্টা সাধারণ মানুষ সমর্থন করে না। প্রতিপক্ষের গাড়ি বাড়িতে হামলা করে মাঠ দখলের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার সময় এসেছে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার পথ পরিহার করে নিজস্ব অর্জন আর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হওয়াই উত্তম পন্থা। নানাবিধ উন্নয়ন অগ্রগতির সাথে মানুষর বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমও পরিবর্তিত। সোস্যাল মিডিয়া আর দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতির কারণে মানুষ ভালমন্দ বিচারের সুযোগ পাচ্ছে। সাধারণ মানুষের বিচার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে প্রচার প্রচারণা করে জয়লাভের চেষ্টায় ব্রত হওয়া উচিৎ রাজনৈতিক দলগুলোর।\ \ মানুষ এমন এক রাজনৈতিক শিষ্টাচারের স্বপ্ন দেখে, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীগণ একই মঞ্চে পাশাপাশি বসে কথা বলবেন। নিজেরা নিজেদের ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করবেন। প্রয়োজনে প্রতিপক্ষের দুর্বলতা সাবলীলভাবে তুলে ধরবেন। অন্যজন তা প্রতিহত করবেন যৌক্তিকভাবে। নতুন করে স্বপ্ন দেখাবেন। হাতে হাত রেখে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ভোটারগণ তাদের কথা, তাদের দেখানো পথকে বিচার করে পরবর্তী ৫ বছরের জন্য তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। তিনি ব্যর্থ হলে তার পরিবর্তে নতুন নেতা খুঁজে নেবেন।\ \ শান্তির জনপদ প্রিয় স্বদেশের প্রতিটি নাগরিকের জান মাল তথা সম্মান রক্ষার্থে এ সংস্কৃতি শুরু হওয়া খুব করে দরকার। শুধু ভোলা নয়, পুরো দেশময় শুরু হোক ভ্রাতৃত্ববোধের এক রাজনীতির সংস্কৃতি। রাজনীতিবিদদের নিয়ে যেন আমাদের গর্ব আজীবন উঁচু থাকে। রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা যেন সম্মানহানির কারণ না হয়। তোফায়েল আহমেদ যেমন শুরু করেছেন, অন্যরাও তা করতে পারেন। এতে হার জিতের কিছু নেই। বিনয় মানুষকে মহৎ করে তোলে, এবং এতে ব্যক্তির সাথে জিতে যাবে রাজনীতি, জিতে যাবে আমাদের প্রিয় জন্মস্থান। জিতে যাবে পুরো বাংলাদেশ।\ \ লেখক : শিক্ষক, সাংবাদিক।