প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কুমিল্লায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিজয় দিবস উদযাপিত

মাহফুজ নান্টু : শান্তি সম্প্রতি বজায় রেখে ক্ষুধা, দারিদ্রমুক্ত,তথ্যপ্রযুক্তি সম্পন্ন কুমিল্লা গড়ার দীপ্ত শপথ গ্রহণ ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে উদযাপিত হলো ৪৭ তম বিজয় দিবস। দিনের প্রথম প্রহরে ৩১ বার তোপধ্বনীর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল,শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও বিজয় মিছিল-আলোচনার সভা ও পুরস্কার বিতরনীর ছিলো দিবসটির কর্মসূচী।

কুমিল্লা জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যেগে আজ দিবসের প্রথম প্রহরে ৩১ বার তোপধ্বনী ও শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় সমবেত কন্ঠে জাতীয় পরিবেশন করা হয়। সকাল সাড়ে ৭ টায় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ষ্টেডিয়ামে পুলিশ, আনসারসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কুচকাওয়াজ পরিদর্শণ ও অভিবাদন গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক মোঃআবুল ফজল মীর ও পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম।

এ সময় বিভিন্ন শিক্ষা ও সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শারিরিক কসরৎ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।
ভাষা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ষ্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানে সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করার সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ সময় শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা,বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো:আবুল ফজল মীর।

এদিকে দিবসটির প্রথম প্রহরে কুমিল্লা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসহ কুমিল্লা মহানগর ও জেলা আওয়ামীলীগ,বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা টাউনহলের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসন আয়োজিত সকাল সাড়ে ১১ টায় জেলা প্রশাসকের বাসভবনের শহীদ ডিসি সামসুল হক খান মঞ্চে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার-মুক্তিযোদ্ধাদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদর আসনের সাংসদ ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আ.ক.ম বাহা উদ্দিন বাহার।কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো:আবুল ফজল মীরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো:নুরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বক্তরা বলেন, বঙ্গবন্ধু না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। বাংলাদেশ স্বাধীন না হলে আজ আমরা এখানে দাড়িয়ে কথা বলতে পারতাম না। বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে যুগে যুগে বহু নেতার আর্বিভাব হলেও বঙ্গবন্ধুর মাধ্যমেই মূলত আমরা লাল সবুজের পতাকা সম্বলিক স্বাধীন দেশ পেয়েছি। আর এই দেশটাকে স্বাধীন করতে ত্রিশ লাখ বাঙ্গালী ও দু লাখ মা বোননের সম্ভ্রম হারাতে হয়েছে। আজ বিজয়ের দিনে শহীদ ও জীবিত সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আর যারা বেঁচে আছেন আপনাদেরকে জিয়ের রক্তি সালাম জানাই। মূলত আপনারা মুক্তিযোদ্ধরাই দেশের সোনালী সন্তান। এদিকে দিবসটিকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের সার্বিক ত্বত্তাবধানের মাধ্যমে বাদ জোহর জাতির শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে জেলার প্রতিটি মসজিদ,মন্দিও ,গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপসানালয়ে বিশেষ দোয়া-মোনাজাত প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। এছাড়াও দুপুরে কিংবা সুবিধাজনসক হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম,এতিমখানা, শিশু পরিবার ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানসূমহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।

কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল এ্যান্ড কলেজে বিকেল ৩টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত চলে মহিলা ও শিশুদের ক্রীড়া অনুষ্ঠান(দেশীয় খেলাধালা) এবং মহিলাদের অংশগ্রহণে মুক্তিযোদ্ধভিত্তিক আলোচনা ও পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠিত হয়।বিকেল তিনটায় কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্ববধানে টাউনহল থেকে একটি বিজয়র‌্যালী নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে আবার টাউন হলে এসে শেষ হয়্।

বিকেল ৪টায় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ষ্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসন- জেলা ক্রীড়া সংস্থা বনাম মুক্তিযোদ্ধাদের প্রীতি ফুটবল,কাবাডি খেলা ও ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়

বেলা সাড়ে ৫টায় কুমিল্লা টাউনহলে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামান্যচিত্র প্রদর্শণ, আতবাজি ও ফানুশ উড্ডয়ন করা হয়। সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সন্ধ্যা ৬ টায় টাউনহলের বীরমুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মঞ্চে ডিজিটাল প্রযুক্তির সার্বজনীন ব্যবহার এবং মুক্তিযুদ্ধ শীর্ষক আলোচনা ও সিম্পোজিয়াম এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এছাড়াও জেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনের মাধ্যমে বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বীরের কন্ঠে বীর কাহিনী প্রচার এবং আলোচনা অনুষ্ঠান ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত