প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যা রয়েছে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে

শাহানুজ্জামান টিটু, শিমুল মাহমুদ : ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’ শিরোনামে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০১৮ ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সোমবার সকালে রাজধানীর মতিঝিল পূর্বাণী হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।

৩৫ প্রতিশ্রুতির এই ইশেতহারে বলা হয়েছে- প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ। প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনা হবে। মন্ত্রিসভাসহ প্রধানমন্ত্রীকে সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকার সাংবিধানিক বাধ্যবাদকতা নিশ্চিত করা হবে। পর পর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকা যাবে না। গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি হবে ১২ হাজার টাকা। পুলিশ ও সামরিক বাহিনী ছাড়া সরকারি চাকরিতে প্রবেশের কোনও বয়সসীমা থাকবে না। ত্রিশোর্ধ্ব শিক্ষিত বেকারের জন্য বেকার ভাতা চালু করার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা পরীক্ষা করে বাস্তবায়ন করার জন্য একটি কমিশন গঠন করা হবে। এ ছাড়া তুলে দেওয়া হবে পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে পুরোপুরি স্বাধীন করা হবে। বিভাগীয় সদরে স্থায়ী হাইকোর্ট বেঞ্চ থাকবে। ভূমিহীনদের মধ্যে সরকারের খাস জমি বন্টন করা হবে। প্রথম বছরে গ্যাস, বিদ্যুৎ এর দাম বাড়ানো হবে না।

ইশতেহারটি তুলে ধরা হলো: সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের কল্যাণে সরকার পরিচালণা করবে। এই পরিচালনার মূলনীতি হবে ঐক্যমত্য, সকলের অন্তর্ভুক্তি এবং যে কোনো রকম প্রতিহিংসা থেকে মুক্ত থাকা। ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’ সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে বর্ণিত এই নীতির ভিত্তিতে সরকার পরিচালণায় যাবতীয় পদক্ষেপের ভিত্তি হবে রাষ্ট্রের মালিকগণের মালিকানা সুদৃঢ় করা। রাষ্ট্রের এই মালিকানা শুধুমাত্র নির্বাচনে জেতা দলের মানুষের নয়, এই মালিকানা থাকবে নির্বাচনে পরাজিত দলের নেতা, কর্মী, সমর্থকদেরও।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ইশতেহারের সারসংক্ষেপ পাঠ করেন। এর আগে লিখিত বক্তব্য রাখেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না,গনস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা:জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগন ভোট দিতে না পারলে দেশের অবস্থা ভয়াবহতার দিকে রুপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে ড.কামাল হোসেন বলেন, জনগণের রুখে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে এক গণ-অভ্যুত্থানের দিন হবে ৩০ ডিসেম্বর। ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার জনগণের ইশতেহার। জনগণের কল্যানে, জনমতের ভিত্তিতে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার তৈরী করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণের ধারা অব্যাহত থাকবে। আমি পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের অনুরোধ করবো আপনারা আর বেআইনী আদেশ মানবেন না,অন্যায় বিরোধী।৩০ ডিসেম্বর জনগণ ভোট দিতে না পারলে দেশের অবস্থা ভয়াবহতার দিকে রুপ নিতে পারে।

নির্বাচনে বিজয়ী হলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যেসব কাজ সম্পন্ন করবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো- ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা; নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনী আইন ও নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিতকরণ, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এবং বিকেন্দ্রীকরণ, তরুণদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, দুর্নীতি দমন, স্বাস্থ্য, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ, মাদক নিয়ন্ত্রণ, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, আদালত, কৃষি ও কৃষক, শিল্পায়ন, শ্রমিক কল্যাণ, ব্যাংকিং খাত, শেয়ারবাজার ও বাজেট, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, সামাজিক নিরাপত্তা, বয়োবৃদ্ধ, নারীর নিরাপত্তা এবং ক্ষমতায়ন, নিরাপদ সড়ক, যাতায়ত এবং পরিবহন, প্রবাসী কল্যাণ, গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্রযুক্তি, সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ, ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প, মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্রনীতি এবং অন্যান্য।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত