প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘যতদিন বেঁচে থাকব ততোদিন চলচ্চিত্রকে ভালোবেসে যাবো’

মহিব আল হাসান : তার পরিচয়ের দরকার পরে না। যেখানেই তাকে দেখা দেখা যায় সেখানে তাকে নিয়ে মাতামাতির কমতি থাকে না। এককথায় তার পরিচয় তিনি নিজে। তার নাম শুনলে মানুষের হৃদয়ে আসে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। বলছি নব্বই পরবর্তী বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবনূরের কথা। স্নিগ্ধ চেহারা, মায়াবী হাসি, মধুমাখা চাহনি আর প্রাণবন্ত অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আজ বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম নায়িকা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

আজ নন্দিত এই অভিনেত্রীর জন্মদিন। জীবনের এই বিশেষ দিনটিতে ভক্তদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন তিনি। চলচ্চিত্রের সহকর্মীরা শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। এই শুভেচ্ছা আর ভালোবাসাকেই জীবনের সেরা অর্জন বলে মনে করেন শাবনূর।

শাবনূর আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, ‘আজ আমি শাবনূর হয়েছে চলচ্চিত্রের কারণে। দেশ-বিদেশে আমার যে সুনাম তা চলচ্চিত্রই আমাকে দিয়েছে। আমি চলচ্চিত্রের মানুষ। যতদিন বেঁচে থাকব ততোদিন চলচ্চিত্রকে ভালোবেসে যাবো।’

জন্মদিন সম্পর্কে জানতে চাইলে শাবনূর বলেন, ‘আমি চলচ্চিত্রের মানুষ চলচ্চিত্রের মানুষদের সাথে নিয়ে জন্মদিন পালন করবো। তবে আয়োজনের কিছু নেই। পারিবারিক আয়োজনে আজ বাড়িতেই কাটবে জন্মদিন। একান্তই কাছের কিছু মানুষের সঙ্গে দেখা হতে পারে। গল্প-আড্ডা আর স্মৃতিচারণে কথা হবে।

শাবনূর ১৯৭৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর যশোর জেলার শার্শা উপজেলার নাভারণে জন্মগ্রহণ করেন। তখন তার নাম ছিল নুপুর। ঢাকাই চলচ্চিত্রে পরিচালক এহতেশামের হাত ধরে ‘চাঁদনী রাতে’ সিনেমার হাত ধরে অভিষেক হয় তার। ১৯৯৩ সালের ১৫ অক্টোবর ‘চাঁদনী রাতে’ মুক্তি পায়। সাব্বিরের বিপরীতে অভিনীত চলচ্চিত্রটি ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হয়।

তবে হয় ১৯৯৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জহিরুল হক পরিচালিত ‘তুমি আমার’ ছবি দিয়ে রাতারাতি তারকা বনে যান শাবণূর। সালমান শাহের সঙ্গে জুটি বেঁধে এই নায়িকা ১৪টি ছবি করেন। তার সবগুলোই রেকর্ড সংখ্যকভাবে ব্যবসায়িক সাফল্য পায়। এটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে সফল জুটিগুলোর অন্যতম। বলা হয়ে থাকে সালমান-শাবনূর জুটি ইন্ডাস্ট্রির মিথ।

পরবর্তীতে এদের আদর্শ মেনেই এখানে নায়ক-নায়িকার জুটি গড়ে উঠেছে। তবে সালমানের যুগে ওমর সানী, অমিত হাসান, আমিন খান, বাপ্পারাজদের সঙ্গেও অভিনয় করে সফলতা পান শাবনূর। সালমান মৃত্যু পরবর্তী সময়ে রিয়াজ, শাকিব খান, ফেরদৌসসহ অনেক নায়কের বিপরীতে অভিনয় করে সফলতা পান।

দীর্ঘ অভিনয় জীবনে শাবনূরের সবচেয়ে বড় অর্জন ভক্ত-দর্শকের ভালোবাসা। পাশাপাশি অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত দুই নয়নের আলো চলচ্চিত্রের জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এছাড়া পেয়েছেন বাচসাস পুরস্কার ও সর্বাধিক ১০ বার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার।

ব্যক্তি জীবনে ২০১১ সালে ৬ ডিসেম্বর ব্যবসায়ী অনিক মাহমুদের সঙ্গে শাবনূরের আংটি বদল হয় এবং ২০১২ সালের ২৮ ডিসেম্বর তাদের বিয়ে হয়। এরপর তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস শুরু করেন ও নাগরিকত্ব লাভ করেন। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর তিনি ছেলে সন্তানের মা হন। তার ছেলের নাম আইজান নিহান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত