প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হিজাব কিসের প্রতিনিধিত্ব করে ?

ওমর ফারুক: আশির দশকে ঢাকা শহরে হিজাব ও বোরকা পরিহিত নারীদের খুব কমই দেখা যেত। কিন্তু এখন ঢাকার রাস্তায় বের হলেই দেখা যায় প্রায় অর্ধেক নারী কোনো না কোনোভাবে পর্দা নিয়েছেন। যেমন- আবেয়া, নিকাব, চাদর, খিমার, বোরকা ও হিজাব ইত্যাদি।

কয়েক বছর আগেও সাধারণত বয়স্ক বাঙালি নারীরা এসব ইসলামী পর্দা পরিধান করতেন। কিন্তু এখন এই প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছে তরুণী, কিশোরী এমনকি স্কুল যাওয়ার বয়স হয়নি এমন মেয়েদের মধ্যেও।

এছাড়া আরও কিছু চরম রক্ষণশীল মুসলিম নারী দেখা যায় যারা পা থেকে মাথা পর্যন্ত কালো বোরকা দ্বারা ঢেকে রাখেন। হাত ও পায়ে পড়েন মোজা।

১৯৯০ সালের শুরুর দিকে বাংলাদেশি নারীরা এই আরবি ধাঁচের পর্দা পরা শুরু করেন। বিগত এক দশকে বাংলাদেশি মুসলিমদের মনে রক্ষণশীলতা ও ধার্মিকতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

খুব আশ্চর্যের বিষয় হলো, মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা ট্র্যাডিশনাল পর্দা ছেড়ে আধুনিক ধাঁচের পর্দা গ্রহণ করা শুরু করেছেন। অবশ্য শ্রমজীবী নারীদের মধ্যে এসব পর্দা তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। যেমন – ঢাকার পোশাক শিল্পে কর্মরত নারীদের মধ্যে পর্দার ব্যবহার দেখা যায় না। এখানে খুব অল্প কিছু নারী আছে যারা ওড়না দিয়ে মাথা ঢেকে রাখেন।

পোষাক শিল্পের নারীদের তথাকথিত পর্দা না পরার প্রধান কারণটা মানসিক নয়, বরং তারা যে পরিবেশে কাজ করে সেখানে অত্যন্ত গরম। কাজও করতে হয় কখনও কখনও ১২ ঘন্টা।

২০১০ সালে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত নারীর সম্পত্তিতে সমনাধিকার আইনের ব্যাপক বিরোধিতা করে। ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্ত্বরে সরকারের সামনে ১৩ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিল। কিন্তু তারা এটা বুঝতে সমর্থ নয় যে এই আইন রুদ্ধ হলে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তারা বোঝে না যে এটা সৌদি আরব নয়। এদেশের বেশিরভাগ নারীদের কাজ করে খেতে হয়।

আসলে বর্তমানে হিজাব বা ইসলামিক পর্দা পরিধান এক ধরনের ফ্যাশন, বিশ্বাস ও বিনয়ের প্রতীক যা সমাজের কিছু শ্রেনিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধান চালিকা শক্তি পোশাক শিল্পে কর্মরত নারীদের মধ্যে এই চর্চা দেখা যায় না বললেই চলে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত