প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজাকার-অরাজাকার : আমার পর্যবেক্ষণ

গোলাম মোর্তোজা : একজন রাজাকার, সারাজীবন রাজাকার। একজন মুক্তিযোদ্ধা, সারাজীবন মুক্তিযোদ্ধা। একজন রাজাকার যদি পরবর্তী জীবনে অসংখ্য ভালো কাজও করেন, তবুও তার পরিচয় রাজাকারই থাকবে। তার ভালো কাজের প্রশংসা করতে পারেন, তবে ভালো কাজ দিয়ে রাজাকার পরিচয় মুছে দেওয়া যাবে না।

একজন মুক্তিযোদ্ধা পরবর্তী জীবনে যা কিছুই করুন না কেন, তিনি সারাজীবন মুক্তিযোদ্ধাই থাকবেন। তার খারাপ কাজের সমালোচনা করতে পারেন, অপরাধের বিচার করে শাস্তি দিতে পারেন। কিন্তু তার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় মুছে দেওয়ার অধিকার কারও নেই।

‘একজন রাজাকার সারাজীবন রাজাকার, একজন মুক্তিযোদ্ধা সারাজীবন মুক্তিযোদ্ধা নয়’Ñ এই তত্ত্ব তারা তৈরি করেছেন, যাদের ১৯৭১ সালের পরিচয় অস্বচ্ছ। যারা ১৯৭১ সাল গোপন করে, ১৯৭২-৭৩ সাল থেকে জীবন শুরু করেন। ১৯৭১ সালে ঢাকা শহরে থেকেও বহু মানুষ নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সক্রিয় থেকেছেন। মুক্তিযুদ্ধে যারা সরাসরি যোগ দেননি, তারা অবশ্যই রাজাকার নন। রাজাকাররা মোটামুটিভাবে চিহ্নিত এবং সংখ্যায় সামান্য। কিন্তু ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যোগ না দিয়ে কেউ যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন, সুবিধাজনক সময়ে কিছু লেখালেখি করে মুক্তিযোদ্ধাদের রাজাকার বলার চেষ্টা করেন, তবে সেই ব্যক্তিদের ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায়। বিশেষ করে জীবন থেকে ১৯৭১ সাল যারা গোপন করেন।

জুলুম,নিপীড়ন- নির্যাতন, অন্যায্যতা- অসাম্যত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ,অসত্যের বিপক্ষে সত্যের পক্ষে অবস্থান নেয়াই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। জাতীয় স্মৃতিসৌধে, শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে, শহীদ মিনারে…মুক্তিযুদ্ধ- মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের নিয়ে, তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে, যে কাউকে প্রশ্ন করা যাবে। সাংবাদিকদের ‘খামোশ’ বললে তার প্রতিবাদও হবে।

সমস্যাটা হয় তখন যখন সাংবাদিকদের ‘খবিশ’ বা ‘অ্যালসেশিয়ান কুকুর’ বললে, প্রতিবাদের নামে মিনমিন করা হয়। সমস্যা হয় তখন, যখন প্রশ্ন করা হয় ‘দেখে-বেছে’। সমস্যা হয় তখন, যখন সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানের প্রশ্ন করা দেখে দেশের মানুষ বিনোদন খুঁজে পান।

লেখক : সাংবাদিক। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত