প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিলেট বিভাগের ১৯ আসনে জয়-পরাজয়ে যত ফ্যাক্টর

সমকাল : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯ আসন নিয়ে পুলিশের এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০টিতে মহাজোটের প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। দুটি আসনে মহাজোটের প্রার্থী হারতে পারেন, দুটি আসনে মহাজোটের প্রার্থী ঝুঁকির মুখে। আর বাকি পাঁচটি আসনের ব্যাপারে জয়-পরাজয়ের কিছু ফ্যাক্টরের কথা উল্লেখ করা হলেও কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা হয়নি। তবে এসব আসনেও এগিয়ে আছেন মহাজোটের প্রার্থীরা। সব মিলিয়ে সিলেট বিভাগের ১৫টি আসনে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট ভালো অবস্থানে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর জয়-পরাজয়ে নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে কিছু ঘটনা। কিছু কারণে হেরে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন হেভিওয়েট কয়েকজন প্রার্থী। সিলেটের ১৯টি আসনের ভোটের রাজনীতি, দলীয় কোন্দল ও ভোটারদের সার্বিক চালচিত্র রয়েছে এতে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বড় রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী বাছাইয়ের আগেই মাঠপর্যায় থেকে একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করে থাকে। অনেক সময় সরকারি আবার কখনও বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমেও এসব প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। অনেক সময় দলগুলো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এসব প্রতিবেদন আমলে নিয়ে থাকে। আবার প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর জয়-পরাজয়ের ফ্যাক্টর নিয়েও গোয়েন্দারা প্রতিবেদন তৈরি করেন। কখনও কখনও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সঙ্গে ভোটের ফলাফলের মিল থাকে। আবার কখনও কখনও কাছাকাছি হয়। প্রতিনিয়ত ভোটের মাঠের চিত্র বদল হওয়ার প্রবণতা থাকায় কখনও আবার ফলাফলের সঙ্গে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের মিলও খুঁজে পাওয়া যায় না- এমন নজিরও রয়েছে। এরপরও ভোট এলে বিভিন্ন ইস্যুতে গোয়েন্দা প্রতিবেদনকে মাঠচিত্রের একটি দৃশ্যপট হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সিলেটের যেসব আসনে মহাজোটের প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা হলেন- মৌলভীবাজার-৪ আসনের প্রার্থী উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ। নির্বাচনে তার ইতিবাচক দিক হিসেবে বলা হয়, এ আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। বিগত সব নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। ‘৯১ সাল থেকে টানা পাঁচবার এমপি হয়েছেন উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ। এ ছাড়া এ আসনে মোট তিন লাখ ৯৮ হাজার ৮৩০ ভোটারের মধ্যে ৬০ হাজার সংখ্যালঘু ও চা শ্রমিক। দলীয় কোন্দল নিরসন করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে মৌলভীবাজার-৪ আসনে এবার নৌকার পালে হাওয়া লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে। মহাজোট প্রার্থীর বিপক্ষে যেসব ফ্যাক্টর রয়েছে তা হলো- কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমানের ভূমিকা। আবদুস শহীদের বিপক্ষে কাজ করছেন তিনি। এমনকি এ আসনের সঙ্গে নতুনভাবে যে চারটি ইউনিয়ন যুক্ত হয়েছে সেখানে আওয়ামী লীগের অবস্থা ততটা সুসংহত নয়। আর মৌলভীবাজার-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাজী মজিবুর রহমান চৌধুরী প্রচুর টাকার মালিক। তিনি নির্বাচনে টাকা খরচও করছেন।

মৌলভীবাজার-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহাব উদ্দিন বিজয়ী হতে পারেন। এ আসনে দলীয় কোনো কোন্দল নেই। এ আসনের প্রার্থীর ইমেজ স্বচ্ছ। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে তার বিজয় সুনিশ্চিত বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাহবুব আলী বিজয়ী হতে পারেন। ঐতিহ্যগতভাবে আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। বিগত সব নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এ আসনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিনকে কাজে লাগানোর কথা বলা হয়েছে। এখানে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদের তুলনামূলক শক্তিশালী প্রার্থী নন।

হবিগঞ্জ-৩ আসনে জয়ী হতে পারেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবু জাহির। এলাকায় তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে নৌকার প্রার্থী জয়ী হবেন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী জি কে গউছ।

হবিগঞ্জ-২ (আজমেরীগঞ্জ-বানিয়াচং) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবদুল মজিদ খান বিজয়ী হতে পারেন। এ আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। এ আসনের মধ্যে বানিয়াচংয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা দুর্বল। এ আসনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের আব্দুল বাসিত আজাদ।

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী গাজী মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ (মিলাদ গাজী) বিজয়ী হতে পারেন। এলাকায় তিনি জনপ্রিয়। এ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে গণফোরাম থেকে রেজা কিবরিয়া নির্বাচন করছেন। তাই এ আসনে বিএনপি নেতা শেখ সুজাত মিয়া নীরবে নেতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি কেয়া চৌধুরীকে সক্রিয়ভাবে মাঠে নামাতে হবে। এ আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে জয়ী হতে পারেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুহিবুর রহমান মানিক জয়ী হতে পারেন। এলাকায় তার জনপ্রিয়তা ব্যাপক। দোয়ারাবাজার উপজেলায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা ভালো। তবে এই প্রার্থীর কিছু নেতিবাচক দিকও আছে। ছাতক পৌর মেয়র শামীম চৌধুরী ও তার ভাই দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করছেন। এরপরও ভোটের মাঠে এগিয়ে আছেন মানিক। এখানে বিএনপির প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী।

সুনামগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম এ মান্নান জয়ী হতে পারেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই লাখ ৯২ হাজার ৫১১ ভোটারের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৪০ শতাংশ, বিএনপি ৩০, জাতীয় পার্টি ১০, অন্যান্য ৫ ও জামায়াত ১৫ শতাংশ।

সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা, তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন রতন জয়ী হতে পারেন। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী নজির হোসেন শক্তিশালী হলেও ভোটারদের ৫০ শতাংশ সংখ্যালঘু হওয়ায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী এগিয়ে থাকবেন। শামীমা শাহরিয়ার এ আসনে নারী ভোটারদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাকে কাজে লাগালে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর অবস্থা আরও সুসংহত হবে। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা ও মনোনয়নপ্রত্যাশী রনঞ্জিত সরকারের সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে তাকে নির্বাচনের মাঠে নামাতে হবে। এ আসনে দুই জোটের মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে। তবে জিততে পারেন নৌকার প্রার্থী।

সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হলেন সেলিম উদ্দিন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হলেন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান হাফিজ আহমদ মজুমদার। এলাকায় অত্যন্ত সজ্জন হিসেবে পরিচিত, জনপ্রিয়তাও ব্যাপক। আসনটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এ আসনে জয়ী হতে হলে জামায়াতবিরোধী ইস্যু কাজে লাগাতে হবে। আওয়ামী লীগের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জয়ের ব্যাপারে এখনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এর কারণ হিসেবে বলা হয়, সিলেটের মধ্যে এ আসনে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল সবচেয়ে বেশি। কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সরোয়ার হোসেনের ভূমিকা নাহিদের বিপক্ষে যেতে পারে। এ ছাড়া তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নুরুল ইসলাম নাহিদের যোগাযোগ কম। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দলীয় কোন্দল নিরসনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে আরও বলা হয়, গোলাপগঞ্জ আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। সেখানকার ভোট ব্যাংক কাজে লাগাতে হবে। অ্যান্টি-জামায়াত ইস্যু কাজে লাগানো যেতে পারে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়া আওয়ামী লীগ প্রার্থী নাহিদকে সমর্থন দিয়েছে। এটা কাজে লাগানো যেতে পারে। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফয়সাল আহমদ চৌধুরী।

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ ইয়াহ্‌ইয়া ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। এ আসনে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক অবস্থা দুর্বল। আসনটিতে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী বিএনপি প্রার্থী ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর। বর্তমানে আদালতের আদেশে তার মনোনয়ন স্থগিত রয়েছে। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ইস্যু সেখানে ফ্যাক্টর হতে পারে। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে বিজয়ী হতে হলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জগলুল চৌধুরীকে কাজে লাগাতে হবে।

সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী পীর ফজলুর রহমান মেজবাহর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ হিসেবে বলা হয়, এ আসনে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক অবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী না। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী মতিউর রহমান মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে কতটুকু কাজ করছেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এ আসনে মেজবাহ জয়ী হতে হলে সেটেলার ভোটারদের কাছে টানতে হবে। এ ছাড়া মতিউর রহমানকে কাজে লাগাতে হবে।

মৌলভীবাজার-২ আসনে মহাজোট প্রার্থী বিকল্পধারার এম এম শাহীনের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ হিসেবে বলা হয়- এ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ও বর্তমানে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের অবস্থান শক্তিশালী। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ নেতা নওয়াব আলী আব্বাস উদ্দিন কী ভূমিকা পালন করে সেটিও দেখার বিষয়।

সিলেট-১ আসনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ভাই ড. এ কে আবদুল মোমেনকে জয়ী হতে হলে সাবেক সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমেদ কামরানকে সক্রিয়ভাবে মাঠে নামাতে হবে। ৮০ হাজার চা শ্রমিক ও সংখ্যালঘুদের কাছে টানতে হবে। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ও চা শ্রমিক নেতাদের কাজে লাগাতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। এখানে বিএনপির প্রার্থী হলেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। তিনি খুবই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। এখানে কে জয়ী হবেন, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি প্রতিবেদনে।

সিলেট-৩ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। এ আসনে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক আছে। তবে দলীয় কোন্দল বেশি। হাবিবুর রহমান হাবিব, আবু জাহির ও টুটুল দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করছেন। এ আসনে জীয় হতে হলে দলীয় কোন্দল নিরসনসহ মেজবাহ উদ্দিন সিরাজকে কাজে লাগাতে হবে। এখানে বিএনপির প্রার্থী শফি আহমদ চৌধুরী। এখানে কে জয়ী হতে পারেন, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

সিলেট-৪ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইমরান আহমদ। এ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল কম। আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হতে হলে পাথর ব্যবসায়ী ও পাথর শ্রমিকদের অসন্তোষ মেটাতে হবে। জৈন্তাপুরে স্থানীয় নেতা কামাল ও লিয়াকতকে মাঠে নামাতে হবে। এখানে বিএনপির প্রার্থী দিলদার হোসেন সেলিম। এখানে কে জিতবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

সুনামগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়া সেনগুপ্তা। এ আসনে দলীয় কোন্দল বেশি। এখানে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট অবনী মোহন দাস শক্তিশালী ফ্যাক্টর। তার ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এ আসনে সংখ্যালঘু ভোটার ৪০ শতাংশ। জয়ী হতে হলে সংখ্যালঘুদের কাছে টানতে হবে। এ ছাড়া সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামছুল ইসলামকে কাজে লাগাতে হবে। অবনী ও সামছুল দু’জন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। এখানে বিএনপির প্রার্থী নাসির চৌধুরী শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। এখানে তীব্র প্রতিযোগিতার কথা বলা হয়েছে।

জয়া সেনগুপ্তা সমকালকে বলেন, সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছি। তবে অবনী ও সামছুল এক মঞ্চে এখনো আসেননি। শিগগির তারা একই মঞ্চ থেকে প্রচারণা চালাবেন বলে কথা দিয়েছেন। এক মঞ্চে না হলেও তারা এরই মধ্যে নৌকার জন্য কাজ করে চলেছেন।

অবনী মোহন দাস সমকালকে বলেন, এখনও জয়া সেনগুপ্তার মঞ্চে উঠে প্রচারণায় অংশ নেননি। তবে নৌকার জয়ে জন্য তার মতো করে কাজ করে যাচ্ছেন। জয়া সেনগুপ্তা আন্তরিকভাবে তাদের কাছে টেনে নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ তার।

মৌলভীবাজার-৩ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নেসার আহমেদ। এ আসনে তীব্র প্রতিযোগিতা হবে। এখানে দলীয় কোন্দল বেশি। সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের ছেলে এম নাসের রহমান এ আসনে বিএনপি প্রার্থী শক্তিশালী প্রার্থী। আসনটিতে আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি সৈয়দা সায়রা মহসিনের ভূমিকা জয়-পরাজয়ে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ