Skip to main content

চলমান নির্যাতনে জাতিসংঘ কমনওয়েলথ কোথায়

আমাদের সময় : ধানের শীষের প্রার্থীদের ওপর ক্ষমতাসীনদের অব্যাহত হামলা, নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, হামলা-মামলাসহ নির্যাতনে নির্বাচন অবাধ-নিরপেক্ষ হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ফ্রন্টের নেতারা বলেন, আমরা তো মানুষ। বিরোধীদের ওপর চলমান এ নির্যাতনের মধ্যে জাতিসংঘ, কমনওয়েথ কোথায়?\\ গতকাল বিকালে পুরানা পল্টনে জামান টাওয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা এ কথা বলেন। নির্বাচনের প্রচারে বিভিন্ন স্থানে ধানের শীষের প্রার্থীদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণসহ নানা ঘটনা তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।\ এক প্রশ্নে ড. কামাল হোসেন বলেন, আশঙ্কা তো আছেই। নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে দেওয়া হবে না- তারা বুঝতে পারছে মানুষের জনমত। আপনারাও এটা জানার চেষ্টা করলে জানতে পারবেন। জনমত কোন দিকে আছে? সরকারের পক্ষে, না বিরোধী দলের পক্ষে- তা আপনারা জেনে নিন।\ \ আমরা শুধু আপনাদের তথ্যগুলো দিচ্ছি। এ ব্যাপারে (বানচাল) আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আপনারা দেখুন- পুরানা পল্টনে জামান টাওয়ারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগে নির্বাচনের প্রচারে এবং বিভিন্ন স্থানে ধানের শীষের প্রার্থীদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণসহ নানা ঘটনা তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলন। তিনি বলেন, আজ (গতকাল) বিজয় দিবস। এই বিজয় দিবসের সঙ্গে নির্বাচনেরও কাজ চলছে। আমাদের স্বাধীন দেশের সংবিধানে নির্বাচিত সংসদের বিধান রয়েছে। দেশের মালিক জনগণ। ভোটাররা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন নির্বাচনের মাধ্যমে। এ কারণে নির্বাচনের গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে। এতে আপনারা (গণমাধ্যম) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন, যেন স্বাধীন ও সুষ্ঠুভাবে ভোটাররা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন। আপনারা থাকবেন।\ \ গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ঘটনার অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, যারা মিছিল করছেন তাদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে, প্রার্থীদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে এবং ভোটের প্রচারে প্রার্থীরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এমন ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এটা কারও খেয়াল-খুশির ব্যাপার নয়।\ \ কামাল বলেন, সংবিধানে আছে- অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। যারা নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করে, আক্রমণ করে, অন্যভাবে সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করে; তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা। সংবিধানের এ কর্তব্য পালন করার ব্যাপারে আমরা ঘাটতি দেখছি। অন্যদিকে দেখছি বিরোধী দলের প্রার্থীকে হয়রানি করা হচ্ছে। অবাক কাণ্ড যারা শিকার হচ্ছেন আক্রমণের, তাদের গ্রেপ্তার করে বন্দি করা হচ্ছে আর যারা আক্রমণ করছে তারা বহালতবিয়তে আছে।\ \ ড. কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচন সামনে। অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে এসব ঘটনা যদি ঘটতে থাকে, স্বাভাবিকভাবেই আশঙ্কা ভোটের দিন কী হবে? আপনারা জনগণের হয়ে পাহারা দেবেন, ভোটের দিন সেরকম কোনো কিছু যাতে না ঘটে। ভোটাররা যাতে তাদের অধিকার ফিরে পান, স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন এবং অন্যভাবে কেউ যেন জাল ভোট দিতে না পারে। আমাদের পাশাপাশি থেকে এসব অবলোকন করতে হবে।\ \ সংবাদ সম্মেলনে জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, নির্বাচনের আর মাত্র ১৩ দিন বাকি। এখন যদি প্রার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণ হয়, নোয়াখালীতে মাহবুব উদ্দিন খোকনের ওপর পাঁচটি গুলি করা হয়েছে, সিরাজগঞ্জে প্রার্থী রুমানা মাহমুদের ওপর গুলি হয়েছে, ঢাকায় সুব্রত চৌধুরীর ওপর হামলা হয়েছে। ঢাকা-৮, ঢাকা-৯, ঢাকা-১০ আসনসহ বিভিন্ন আসনে হামলা হয়েছে। সম্প্রতি উত্তরায় মাজারে গিয়েছিলাম, সেখানেও হামলা হয়েছে। ১৩ দিন আগে যদি গুলি হয়, তা হলে এর পর কী চলবে? ট্যাংক চালাবে, কামান চালাবে? এ কী অবস্থা? পৃথিবী কোথায়, জাতিসংঘ কোথায়, কমনওয়েথ কোথায়? আমরা তো মানুষ। একাত্তরে বর্বর পাকিস্তানিরাও এরকম ঘটনা ঘটায়নি।\ \ তিনি বলেন, তারা (ক্ষমতাসীনরা) জনগণকে নামতে দেবে না, কর্মীদের নামতে দেবে না, প্রার্থীদের নামতে দেবে না-এটা কী? আমরা তো নির্বাচন করতে চাই। ভয় দেখালে ভয় পাওয়ার লোক আমরা নই। এটা ভয় না, ওরা তো গুলি চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের কর্মীদের সংযত থাকতে বলেছি, সহনশীল থাকতে হবে, সাহসের সঙ্গে থাকতে হবে। আমরা যদি একবার জনগণকে বলি এই হামলার মোকাবিলা কর, জনগণ যদি মোকাবিলা করতে যায়, তখন পরিণতি কী হবে সেটি একটু চিন্তা করুন। আজ জনগণ জয়লাভ করতে চাচ্ছে। জনগণকে যদি জয়লাভ করতে না দেন; একাত্তর সালে জনগণ যদি অস্ত্র দিয়ে জবাব দিয়ে থাকে, এখন অস্ত্র ছাড়া ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ জবাব দেবে। সরকারকে বলব, এখনো সময় আছে আপনারা সংযত হোন। আপনারা হামলা-মামলা বন্ধ করুন, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে দিন।\ \ নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, নির্বাচনে যেসব সহিংসতা, সব কিছু সরকারের মদদে হচ্ছে। ওরা নিরস্ত্র জনগণের ওপর হামলা করছে। আমরা একটা যুদ্ধের মধ্যে আছি। তাদের কর্মকা- দেখে মনে হচ্ছে তারা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তা হলে আমরাও যুদ্ধ করব। ৩০ ডিসেম্বর আমরা ব্যালটের মাধ্যমে এর জবাব দেব। ঢাকাসহ সারাদেশে ধানের শীষের প্রার্থীদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার নানা অভিযোগও তুলে ধরেন নেতারা।\ \ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু, আতাউর রহমান ঢালী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, জগলুল হায়দার আফ্রিক, নুরুল হুদা মিলু চৌধুরী, বিকল্পধারার অধ্যাপক নুরুল আমিন পাটোয়ারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।