Skip to main content

৬০ প্রতিষ্ঠানের রয়েছে এলপিজি লাইসেন্স: চাহিদা ১০ লাখ টন

শাহীন চৌধুরী: নগর উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। আর সাধারণ মানুষের এই চাহিদা পূরণে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাসের পরিবর্তে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসই (এলপিজি) অন্যতম ভরসা। এই প্রেক্ষাপটে সরকার বেসরকারিভাবে এলপি গ্যাস আমদানির মাধ্যমে তা বোতলজাত করে বাজারজাত করার অনুমোদন দেয়। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে ভোক্তারা প্রতারণার শিকার হচ্ছে।\\ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০ বছর আগে ১৯৯৭ সালে ছোট আকারে এলপি গ্যাস আমদানির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে বিকল্প এই জ্বালানি পৌঁছে দেয়া শুরু হয়। ২০১০ সালের দিকে অভ্যন্তরীণভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোগ দেওয়া বন্ধ করে দিলে এর চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠানকে এলপি গ্যাস আমদানির অনুমোদন দেয়। ওই সময় মাত্র ৮০ হাজার টন গ্যাসের চাহিদা ছিল, যা বর্তমানে বেড়ে প্রায় ১০ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। এই সুযোগটি নেয় কিছু প্রতিষ্ঠান। তারা গ্যাস আমদানি না করে কৌশলে নামিদামি প্রতিষ্ঠানের বোতল সংগ্রহের পর অবৈধভাবে গ্যাস রিফিলিং এবং তা বাজারজাত করতে থাকে। তাদের বোতল নিম্নমানের বলে মাঝে মাঝে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে থাকে। বিষয়টি সরকারের নজরে এলে সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয় প্রকৃত গ্যাস আমদানিকারকদের। আমদানিকারকরা এখন সতর্ক হওয়ায় ওই অসাধুচক্র বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।\ \ এই খাতের উদ্যোক্তারা জানান, সাধারণ জনগণের জ্বালানি চাহিদা নিশ্চিত করার সক্ষমতা উদ্যোক্তাদের থাকলেও একটি অসাধু মহল আমদানি না করে সংগৃহীত বোতলে গ্যাস ভরে বাজারজাত করছে। ফলে ভোক্তারা দাম ও ওজনে যেমন ঠকছে, অনিরাপদ গ্যাস বোতল ব্যবহারের ফলে মাঝে মাঝে বাসাবাড়িতে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটছে। ফলে অনিরাপদ হয়ে পড়েছে বিকল্প জ্বালানি এলপিজি।\ \ এ প্রসঙ্গে লাফ্স গ্যাস বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাঈদুল ইসলাম বলেন, ভোক্তাদের নিরাপদ জ্বালানি নিশ্চিত করাসহ নায্য দামে গ্যাস সরবরাহের জন্য সম্প্রতি জ্বালানি মন্ত্রণালয় প্রকৃত আমদানিকারকদের নির্দেশ দেয়। এর ফলে তাঁরা এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া ভোক্তা পর্যায়েও তাঁরা সতর্কতা তৈরিতে কাজ করছেন। এ কারণেই অবৈধ সুবিধাভোগীরা বাজারে নানা সংকটের গুজব ছড়াচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহ এবং একই সঙ্গে নিরাপদ বোতল বাজারজাত করারও তাগিদ দেওয়া হয়।\ \ জানা য়ায়, আমদানিকারকদের কাছ থেকে গ্যাস সংগ্রহ করে বাজারে চার-পাঁচটি প্রতিষ্ঠান প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার টন গ্যাস বোতলজাত করে বাজারে বিক্রি করে আসছিল। এসব বোতল নিম্নমানের, একই সঙ্গে ওজনে কম দেওয়া হতো। ১২ কেজি একটি বোতলে ১০ কেজি দেওয়া হতো। এ ছাড়া নামি প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে কম দামে তারা বিক্রি করত। যেসব এলাকায় তারা গ্যাস সরবরাহ করত ওই সব এলাকায় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঢুকতেই দিত না। ফলে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাছে দাম, মান ও সুনামের দিক থেকে অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছিল। সরকারি কর্তৃপক্ষ, সেই সঙ্গে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা সতর্ক হয়ে ওঠায় গ্যাসপ্রাপ্তিতে সমস্যায় পড়ে অবৈধ গ্যাস ফিলাররা।\ \ বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. জাকারিয়া জালাল বলেন, বোটলিং প্রতিষ্ঠানগুলো তিন কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ৩০০ কোটি টাকার বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সুনাম প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ভোক্তাদের ঠকিয়ে নিজেরা ফুলে-ফেঁপে বড় হলেও অনিরাপদ করে তুলছে এলপি গ্যাস শিল্প। ফলে অনেক বাসাবাড়ি আজ গ্যাস বিস্ফোরণের শিকার হচ্ছে। তিনি নিরাপদ জ্বালানি নিশ্চিত করাসহ অবৈধ ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনার পরামর্শ দেন।\ \ এ প্রসঙ্গে জ্বালানি সচিব আবু হেনা মোহাম্মদ রহমতুল মুনিম বলেন, এলপি গ্যাস ব্যবহারের পাশাপাশি এ নিয়ে দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে। সিলিন্ডারে উচ্চচাপে এলপি গ্যাস ভর্তি করার কারণে বিস্ফোরণ হয় না। আর প্রকৃতপক্ষে সিলিন্ডারে উচ্চচাপে এলপিজি ভর্তিও করা হয় না। এলপিজি ভর্তিজনিত কারণে কোনো সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয় না। তার মতে, মূল কারণ হচ্ছে সিলিন্ডার ব্যবহারের সঠিক নিয়ম না জানা। অসতর্কতা এবং সঠিক পরিবেশে সিলিন্ডার ব্যবহার না করা। সেইসঙ্গে সিলিন্ডারের গুণগতমান যাচাই না করা। তাই ব্যবহারকারী, উৎপাদনকারী ও বিপণনকারীকে সিলিন্ডার ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। তবেই দুর্ঘটনা কমে যাবে।