প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আজ মহান বিজয় দিবস
বাংলাদেশ বিশ্বের বিস্ময় উন্নয়নের রোল মডেল

আমাদের সময় : আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে শৌর্যবীর্য ও বীরত্বের স্মারক এক অবিস্মরণীয় দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার দিন। সময়ের ব্যবধানে তলাবিহীন ঝুড়ির তকমা ঝেড়ে দূরন্তগতিতে এগিয়ে চলা বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিস্ময় উন্নয়নের রোল মডেল।জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে ৯ মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে বিকালে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। এবার বিজয়ের ৪৭তম বার্ষিকী।মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দলমত নির্বিশেষে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই।

মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ও চেতনা বাস্তবায়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরও বেশি অবদান রেখে দেশ এবং জাতিকে সমৃদ্ধ আগামীর পথে এগিয়ে নিতে দেশবাসীর প্রতি তিনি আহ্বান জানান।প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, আসুন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের এই উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করি। দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করেন জাতীয় চার নেতা, ৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোনকে; যাদের অসামান্য আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।আজ সরকারি ছুটির দিন। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। রাজধানীসহ শহরগুলোর প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হবে। গতকাল রাতেই গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘যার যা কিছু আছে’ তা নিয়েই স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। পরে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা তৎকালীন ইপিআরের ওয়্যারলেসের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালি অস্ত্র হাতে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী দেশ ভারত, ভুটান, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সাহায্য-সহযোগিতা করে। ভারতে আশ্রয় নেন এক কোটির বেশি বাস্তুচ্যুত বাঙালি। অবশেষে বাঙালি দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে বুকের উষ্ণ রক্তে রাঙিয়ে রাত্রির বৃন্ত থেকে ছিনিয়ে আনে ফুটন্ত সকাল।বিজয়ের এই ৪৭ বছর অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়েছে জাতি। কখনো এগিয়েছে, আবার পিছিয়ে গেছে নানা রাজনৈতিক টানাপড়েনে। তবু হতোদ্যম হয়নি জাতি। বিলম্বে হলেও শুরু হয়েছে ইতিহাসের দায়-মোচনের প্রচেষ্টা। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। চলছে একাত্তরের তাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। পাকিস্তানিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মুক্তিকামী বাঙালিকে দমনে জামায়াতে ইসলামী গঠন করেছিল রাজাকার, আলবদর, আলশামস নামে ভয়ঙ্কর সব খুনে বাহিনী। ইতোমধ্যে এসব বাহিনীর প্রধান জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মীর কাসেম, কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে মিরপুরের কসাইখ্যাত কাদের মোল্লার দ- কার্যকরের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জাতির শাপমোচনের পর্ব। ৯০ বছরের কারাদ-াদেশ মাথায় নিয়ে বন্দি অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে রাজাকারদের গুরু জামায়াতের তৎকালীন আমির গোলাম আযমের। ফাঁসি কার্যকর হয়েছে বিএনপি নেতা কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর। তবে বুদ্ধিজীবী হত্যায় মৃত্যুদ- নিয়ে বিদেশে পলাতক চৌধুরী মঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খানকে এখনো ফেরানো যায়নি। আরও অনেক যুদ্ধাপরাধী কারাগারে থাকলেও বিচারে ধীরগতিতে ক্ষুব্ধ শহীদদের স্বজনরা।‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ আখ্যা দিয়ে উপহাসের শিকার বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। বৈশ্বিক নানা সূচকে প্রতিবেশী অনেক দেশকেই পেছনে ফেলে এগিয়ে চলেছে দূরন্তগতিতে। স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল এবং নিম্নআয়ের দেশ থেকে উন্নীত হয়েছে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে। নিজ অর্থে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করে বিশ্বে নতুন করে নিজেকে চিনিয়েছে বাংলাদেশ।বিজয় দিবসের কর্মসূচিপ্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে একাত্তরের শহীদদের শ্রদ্ধা জানাবেন। এর পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিক, মুক্তিযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় সেনাবাহিনীর আমন্ত্রিত সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। তবে এবার বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ হচ্ছে না।দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদ, সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি, গণফোরামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, শিশু একাডেমি, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করেছে।এ ছাড়া মহানগর, জেলা ও উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। ডাক বিভাগ স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করবে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশের শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হবে এবং এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, হাসপাতাল, জেলখানা, সরকারি শিশুসদনসহ অনুরূপ প্রতিষ্ঠাগুলোয় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। দেশের সব শিশুপার্ক ও জাদুঘরগুলো বিনাটিকিটে উন্মুক্ত রাখা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও একই ধরনের বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।আওয়ামী লীগের তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশে সংগঠনের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল সাড়ে ৬টায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন। সকাল ৮টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ জিয়ারত ও মিলাদ মাহফিল। বেলা ৩টায় বিজয় শোভাযাত্রাসহ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থান ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমবেত হয়ে শিখা চিরন্তনে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ধানম-ি ৩২ নম্বর অভিমুখে বিজয় র‌্যালি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত