প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্যাটিংয়ে সেরা হোপ, বোলিংয়ে মেহেদি মিরাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে স্বাগতিক বাংলাদেশের তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের সবগুলো ম্যাচের সমাপ্তি ঘটলো গত শুক্রবার। অপেক্ষা এবার টি-২০ সিরিজের জন্য। সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে তিন ম্যাচের সিরিজটি শুরু হওয়ার আগে চলছে ওয়ানডে সিরিজের কাটাছেঁড়া। সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ, হেরেছে উইন্ডিজ। তবে সিরিজে ব্যাট ও বল হাতে কারা ছিলেন উজ্জ্বল? সিরিজের সেরা তিন ব্যাটসম্যান ও বোলারই বা কারা? একনজরে দেখে নেওয়া যাক ব্যাটে-বলে কারা ছিলেন উজ্জ্বল।

শাই হোপ:
ব্যাট হাতে সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ক্যারিবীয় এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। সিরিজের সেরা ছয় ব্যাটসম্যানের তালিকায় একমাত্র ক্যারিবীয়ও এই ডানহাতি ক্রিকেটার। প্রথম ম্যাচে দলের ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। তবে জ্বলে উঠেছেন দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচে। দ্বিতীয় ম্যাচে দলকে জিতিয়েছেন একাই। শেষ ম্যাচে লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়েছেন, যদিও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি। সিরিজ হারায় রঙ হারিয়েছে হোপের সিরিজ সেরার খেতাবটিও। সিরিজে তিন ম্যাচ খেলে শাই হোপের রান ১৪৬। আছে দুটি শতক। দুটি ম্যাচেই অপরাজিত থাকায় গড় অবিশ্বাস্য- ২৯৭.০০!

তামিম ইকবাল:
চোট থেকে ফিরেই ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ দলের বাঁহাতি ওপেনার হাঁকিয়েছেন দুটি অর্ধ-শতক। বেশ ভোগানো চোট কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে দুই অঙ্ক পেরোতেই সাজঘরে ফিরেছিলেন। সেই জেদ থেকেই হয়ত পরের দুই ম্যাচে ফিরেছেন স্বরূপে। দ্বিতীয় ম্যাচে ঠিক অর্ধ-শতক হাঁকানোর পর আউট হয়ে গেলেও সিরিজ জেতানো শেষ ম্যাচে তামিম মাঠ ছেড়েছেন দলকে জিতিয়েই। তিন ম্যাচে তামিমের মোট রান ১৪৩। আছে দুটি অর্ধ-শতক। শেষ ম্যাচে ৮১ রান করে অপরাজিত থাকায় গড় বেশ ভালো- ৭১.৭৫।

মুশফিকুর রহিম:
বাংলাদেশ দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান তামিমের মতই হাঁকিয়েছেন দুটি অর্ধ-শতক। প্রথম ম্যাচে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছিলেন। দল জিততে না পারলেও দ্বিতীয় ম্যাচেও ছিলেন উজ্জ্বল। যদিও সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচে ব্যাট হাতে খুব একটা অবদান রাখার সুযোগ পাননি। তামিমের ছায়া হয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন ১৬ রানে অপরাজিত থেকে। তিন ম্যাচেই ব্যাট হাতে নামা এই ক্রিকেটারের সিরিজে মোট রান ১৩৩। দুটি অর্ধ-শতক ও দু০টি অপরাজিত ইনিংসে গড় তামিমের চেয়েও বেশি এবং সিরিজে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ- ১৩৩.০০।

এছাড়াও ব্যাট হাতে রান করার দিক থেকে সিরিজের চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হলেন- সৌম্য সরকার (১০৫), সাকিব আল হাসান (৯৫) ও লিটন দাস (৭২)।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ম্যাচ জিতার ক্ষেত্রে বোলিংয়ের অনেক প্রভাব ছিল। দেখে নেয়া যাক বোলিংয়ে নৈপূণ্য দেখিয়েছেন যারা।

মেহেদী হাসান মিরাজ:
প্রাণবন্ত এই ক্রিকেটার সিরিজের শেষ ম্যাচে টাইগারদের জয়ের নায়ক। একইসাথে সিরিজ জয়ের নায়ক বললেও ভুল হবে না। ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান শিমরন হেটমেয়ারকে বারবার শিকার করে এসেছিলেন আলোচনায়। ৩ ম্যাচে ৬টি উইকেট শিকার করা এই স্পিনারের সেরা বোলিং ফিগার ২৯/৪, বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের ম্যাচে তথা শেষ ম্যাচেই। ওভারপ্রতি বিলি করেছেন ৩.৩৭ রান, তার ২৯ ওভার থেকে মাত্র ৯৮ রান নিয়েছে উইন্ডিজ। মিতব্যয়ী বটে!

মাশরাফি বিন মুর্তজা:
দেশের মাটিতে এটিই মাশরাফি বিন মুর্তজা শেষ সিরিজ কিনা এ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। তবে সেই ‘সম্ভাব্য’ শেষ সিরিজেও মাশরাফি ছিলেন উজ্জ্বল। মিরাজের মতই ২৯ ওভার বল করেছেন, উইকেটও পেয়েছেন মিরাজের সমান- ৬টি। ১১৬ রান খরচায় তার ইকোনোমি রেট ৪.০০। প্রথম ম্যাচে ৩০/৩ বোলিং ফিগার নিয়ে ম্যান অব দ্যা ম্যাচের অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক।

মুস্তাফিজুর রহমান:
তার বোলিং নৈপুণ্যে তালিকার তৃতীয় নামটিও বাংলাদেশি ক্রিকেটারের। আগের মত ক্ষুরধার বোলিং পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে না পারলেও এই সিরিজে খুব একটা খারাপ করেননি। পুরো ৩০ ওভার বল করার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৫টি উইকেট শিকার করেছেন ১৩১ রানের খরচায়; ইকোনোমি রেট ৪.৩৬। প্রথম ম্যাচে ৩৫ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট শিকার করেছিলেন, এটিই সিরিজে তার সেরা বোলিং ফিগার।

এছাড়াও উইকেট শিকার ও ইকোনোমি রেটের দিক থেকে সিরিজের চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ বোলার হলেন- ওশানে থমাস (৪), কিমো পল (৪) ও সাকিব আল হাসান (৩)।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত