প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনী উত্তাপে সারাদেশ, ৩০০ আসনেই হামলার অভিযোগ বিএনপির

শিমুল মাহমুদ: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হামলা-মামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনেই বিএনপির প্রার্থী, সর্মথক ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও গ্রেফতারের অভিযোগ বিএনপির। শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই এই হামলাগুলো সংঘটিত হয়। সকল আসনেই বিএনপি প্রার্থীর পোস্টার লাগাতে বাধা দেয়া হয়েছে, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। প্রায় সকল প্রচারণার মাইক ভাঙচুর করা হয়েছে, ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। ৩০০ আসনেই গণগ্রেফতার চলছে।

তিনি বলেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে এখন পর্যন্ত বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের দেড়’শো প্রার্থীর ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলা হয়েছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নামে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা সরকারের নির্দেশে দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, পুলিশকে সন্ত্রাসীদের উৎসাহদাতা হিসেবে আপনি (সরকার) মদদ দিয়েছেন। আপনার আমলে যারা মামলা-মোকদ্দমার শিকার, গ্রেফতারের শিকার তারা ন্যায়ের পক্ষে, তারা গণতন্ত্রের পক্ষে। আজকের চলমান ন্যায় ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের তারা মুক্তিযোদ্ধা। তফসিল ঘোষণার পরে পুলিশের কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী নির্বাচন কমিশন।

ক্ষমতাসীন দল ও নির্বাচন কমিশন একই ঝাঁকের কৈ বলে মন্তব্য করে বিএনপির এ নেতা বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য ও কার্যকলাপ পুলিশের ভয়ঙ্কর দমনের প্রবণতাকে আরও উস্কিয়ে দিচ্ছে। দেশব্যাপী অকল্পনীয় সহিংসতা, রক্তপাত ও পুলিশি আক্রমণের বিষয়ে কমিশনে অভিযোগ দিলেও ইপ্সিত ফল মেলেনি।

এ সময় সারা দেশে নির্বাচনী হামলার ঘটনা উল্লেখ করেন তিন

বাগেরহাট জেলা: মোল্লারহাট বাজারে জুম’আ নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে নামার পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শহিদ এবং যুবলীগের সভাপতির নেতৃত্বে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর পৈশাচিক সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। হামলায় ১০ জনের বেশি নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা: ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের পুলিশ বিনা কারণে গ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন-পৌর বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাফেজ খায়রুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সদস্য আ: হাই, হেলাল, ঠান্ডু ফকির, সাখাওয়াত হোসেন, যুবদল নেতা হাফিজুর রহান, মঞ্জু সিদ্দিকী, ছাত্রদল নেতা পাপ্পু, শিমুল সরকার, হেলাল প্রমুখ।

ভুয়াপুরে নির্বাচনী প্রচারণার মাইক ভেঙে দিয়েছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। এছাড়া গোপালপুর পৌর এলাকা থেকে বিএনপির ৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নেত্রকোনা-২: নেত্রকোনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ডা. আনোয়ারুল হক এর বাসায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও বাড়ির লোকজনকে অত্যাচার করে আহত করে। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নাবিলা ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরে পুলিশ এসে ২০/২৫ জনকে গ্রেফতার করে এবং প্রার্থীকে লাঞ্ছিত করে।

নোয়াখালী-৪: সদর থানায় প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারীসহ ৩৬৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে বাকশালী পুলিশ। শহর যুবদল যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ হোসেন, শহর যুবদল যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন সুমন, পৌর ছাত্রদল নেতা মো. অপু ।

সিরাজগঞ্জ জেলা: শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিরো ও ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফকে আজ সকাল পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

মৌলভীবাজার জেলা: মৌলভীবাজার-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হাজী মুজিবর রহমান গতকাল নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার পথে পুলিশ তাদের ওপর হামলা চালিয়ে শ্রীমঙ্গল থানাধীন মির্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মো. সুফি মিয়া, উপজেলা বিএনপি নেতা মো. মছদ্দর আলী, মো. আহাদ মিয়া মেম্বার, যুবদল নেতা মোসাব্বির মিয়া, মো. আতা মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ময়মনসিংহ-১১: ভালুকা-আসনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা যৌথভাবে বিএনপি‘র নেতাকর্মীদের বাড়ীতে বাড়ীতে হামলা চালাচ্ছে। নির্বাচনী এলাকায় গ্রেফতার অভিযান তীব্র মাত্রা লাভ করেছে। নেতাকর্মীরা কেউ বাড়ীতে থাকতে পারছে না। নির্বাচনী কার্যালয় ভেঙে ফেলা হচ্ছে। পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে সন্ত্রাসীরা। এ ব্যাপারে পুলিশকে অভিযোগ করলে পুলিশ জানিয়েছে বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর এখনও অনুমতি নাই।

যশোর-৬: বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান, যুবদল নেতা আকরাম হোসেন, বিএনপি নেতা গফুর, বিল্লালকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল: জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুনুর রশীদ মামুনকে গতরাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নেত্রকোনা জেলা: প্রার্থীর বাসায় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত হলে পুলিশ বাড়ী ঘেরাও করে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ: ঢাকা-১২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম নীরব পক্ষে মহিলা দলের নেত্রী রুনু বেগম, লাবনী, চম্পা, বিথি, ঝরনা, রিয়া, আনোয়ারা, রাশেদা, মাকসুদা বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রচারণার সময় ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং পুলিশ কর্তৃক তাদের বাধা দেয় এবং লিফলেট ছিনিয়ে নেয় ও তাদের আটকিয়ে রাখে।

সাতক্ষীরা-১ এর প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব প্রচারণা চালানোর সময় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা লাঠিসোটা ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়। এতে প্রার্থী নিজেসহ ২৫/৩০ জন আহত হয়। এদের মধ্যে উপজেলা বিএনপি সভাপতি বজলুর রহমান, জেলা বিএনরি সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ চেয়াম্যান, বিএনপি নেতা তকদির হোসেন রুবেল, হাফিজুল ইসলাম এর অবস্থা এখন আশঙ্কাজনক।

নাটোর জেলা: জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম বাচ্চুসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে।

ফেনী-২ : সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়ন জাসাসের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন সোহাগ এবং ফরহাদনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুল আলম মাবু এবং ছাত্রদল নেতা মো. আজাদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা: বিএনপি প্রার্থী আব্দুল খালেক আজ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করেন। শুরুতেই করিতোলা ফেরিঘাট পার হবার পরেই ছাত্রলীগের ক্যাডার মনিরের নেতৃত্বে প্রার্থীর গাড়ি বহরে হামলা হয়। হামলায় উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি সহ ৩/৪ জন আহত হয়। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হামলায় একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

ঝিনাইদহ জেলা: হরিনাকুণ্ডু উপজেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম ধানের শীষের প্রার্থীর বাড়ি থেকে বের হয়ে ফেরার পথে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। তিনি এখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মুমূর্ষ অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এবং ফলসি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আজিম উদ্দিনকে একই সময়ে হামলা চালিয়ে মারাত্মক আহত করে ও তার মটরসাইকেল ভাঙচুর করে।

মৌলভীবাজার জেলা: জুম্মার নামাজ পড়ে ২০ দলীয় জোটের জুড়ী উপজেলা নেতা লুৎফুর রহমান আজাদীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

কুমিল্লা-৮ : মহেশপুর ইউনিয়নের হরিপুর বাজারে চিকরদা ইউনিয়নে মুকুন্দপুর বাজার, শিলমুড়ি বাজার, অম্বদিয়া বাজারে ধানের শীষের প্রার্থী জাকারিয়া তাহের এর সমর্থকদের উপর একাধিকবার হামলা করা হয়েছে। দোকানপাট ভাংচুর ও ব্যাপক লুটপাট করে স্থানীয় আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে। ধানের শীষের প্রার্থী প্রতিপক্ষ ও প্রশাসনের বাধার সম্মুখিন হচ্ছে।

কুমিল্লা-৩: বিকাল ৫ টার দিকে মুরাদনগর থানার সামনে ধানের শীষের প্রার্থীর প্রচারনার সময় প্রার্থী মজিবুল হকের গাড়ি বহরে পিচ্চি কামাল ও তার ভাই হাবিবের নেতৃত্বে হামলা হয়। হামলার সময় পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করে। হামলায় গাড়ি ভাঙচুর ও অনেকে আহত হয়।
মুরাদনগরে বিএনপি’র কর্মী সমর্থকদের গণসংযোগে প্রতিপক্ষ আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বাধা ও হামলা করেছে। এতে আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক ধানের শীষের সমর্থক ও বিএনপি নেতাকর্মী। মারাত্মক আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছে। এদের মধ্যে ১নং শ্রীকাইল ইউনিয়নের মো. মোসলেম মিয়া ও ধামগড় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম ও ধমগড় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নেছার উদ্দিনের অবস্থা গুরুতর।

ঢাকা-২: ঢাকা-২ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার রুহিতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মোকসেদ ও কামরাঙ্গীরচর থানা মৎস্যজীবী দলের সভাপতির ছেলে ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে ছাত্রলীগের সহযোগীতায় গ্রেফতার করে পুলিশ। একই সাথে সাভার থানার তেতুলঝরা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহ আলমের ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থীর পোস্টারে অগ্নিসংযোগ করে।

চাঁদপুর-১: প্রচারণার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে বিনা কারণে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এস.আই. মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে গ্রেফতার অভিযান অব্যহত রয়েছে।

নোয়াখালী-২: সমীর মুন্সির হাটবাজার থেকে ২০ দলীয় জোট নেতা ডা. মাইন উদ্দিনকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ৮ নং বীজবাগ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

নোয়াখালী-৪: শহর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহেদ, যুবনেতা আনোয়ার হোসেন ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা অপুকে বিনা কারণে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নোয়াখালী-৬: ধানের শীষের প্রার্থী হরনী কান্দী ইউনিয়নে অবরুদ্ধ আছে। যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

পটুয়াখালী-১: পটুয়াখালী সদর থানার লোহালিয়া খেয়া ঘাটের সামনে ধানের শীষের পোস্টার ছিড়ে ফেলে এবং আগুনে পুড়িয়ে দেয় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ইউনিয়ন যুবদলীগের সভাপতি কুল্লে আলম। প্রতিবাদ করায় মরিচবুনিয়া ছাত্রদলের নেতার একজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্টকে মারধর করে এবং লাঞ্চিত করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা বাড়িঘরে আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়।

পটুয়াখালী-৪: রাঙ্গাবালী উপজেলার ছাত্রদলের সদস্য মো. মলিন সহ গত দুইদিনে ৩৩ জন নেতাকর্মী ও সমর্থককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়াও নির্বাচনী প্রচারে বাধা, সাধারণ কর্মীদের দোকানে তালা, বাড়ী থেকে গরু ছাগল সহ ব্যাপক তাণ্ডব করে আওয়ামী সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীরা।

বাগেরহাট-১: মোল্লারহাট এলাকায় ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণার সময় আওয়ামী সন্ত্রাসী শেখ হেলালের গুন্ডা বাহিনী ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা ও যুবদল নেতা শেখ দেলোয়ার হোসেন সহ অসংখ্য নেতাকর্মীদের উপর অতির্কিত হামলা করে। এতে দেলোয়ার হোসেন সহ অসংখ্য নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়।

বাগেরহাট-২: স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বাগেরহাট বিএনপি কার্যালয় থেকে ধানের শীষের পোস্টার লিফলেট লুট করে নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দেওয়ায় বিএনপি কর্মী মাসুদ শেখকে তার মটরসাইকেলসহ অপহরণ করে। তার সন্ধান এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এবং কচুয়া উপজেলার রাড়িপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বিষদ গ্রামের নজরুল শেখ, সালাম মোল্লা, বাগেরহাট সদরের মমতাজ হোটেলের ম্যানেজার আনিসুর রহমানের উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হতে নগদ ৫০ হাজার ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করছে।

নরসিংদী-৪: পুলিশ বাড়ি বাড়ী গিয়ে হুমকি দিচ্ছে এবং পুলিশের সামনে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ রামদা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বেলাব উপজেলা যুবদল সভাপতি জাহাঙ্গীর ও রিপন মাস্টার সহ ৭/৮ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় ধানের শীষের পোস্টার কেড়ে নিয়ে পুড়ে ফেলা হচ্ছে।
মনোহরদী থানার শুকুন্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাতেন ও বিএনপি নেতা বাছেদ মেম্বারকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ।

বরিশাল-১: গণসংযোগ চলাকালীন সময়ে গৌরনদী সরীকল বাজারে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা অ্যাড. রহমান নামের একজন বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তাকে বরিশাল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া গণসংযোগ চলাকালীন পুলিশের সহযোগীতায় বিভিন্ন জায়গায় হামলা করে বাড়িঘর ভাঙচুর করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সন্ত্রাসীরা।

ঝালকাঠি-২: ধানের শীষের প্রার্থী জেবা আমিন খানের গণসংযোগে নলছিটি সদরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীদের হামলায় বিএনপির ১৫ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত ও ২টি গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করে।

রংপুর-৬: কাবিলপুর ইউনিয়ন লালদীঘির মেলা অফিস ভাংচুর করে ৩৭ জনের নাম ও অজ্ঞাত দুই শতাধিক নেতাকর্মীদের নামে উল্টা মামলা দায়ের করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুগ্ম সচিব (নিরাপত্তা) জাহাঙ্গীর আলম বুলবুল (সাবেক এপিএস, পিএম) স্পিকারের সঙ্গে প্রকাশ্যে মিছিল/মিটিং এ বলছে নৌকায় ভোট না দিলে জঙ্গি/মাদক ইত্যাদির মামলায় জড়ানো হবে।

ঝিনাইদহ-২: ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় আওয়ামী যুবলীগ সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র সহ ঘেরাও করে রেখেছে। বাড়ী বাড়ী গিয়ে সবাইকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। পোস্টার, ব্যানার ছিড়ে ফেলছে।

মানিকগঞ্জ-২: গতকাল ১৩ ডিসেম্বর বিকাল ৩.৩০ এর সময় ধানের শীষের মিছিলে হামলা করে সিঙ্গাইল বায়রা বাজার আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। এরা ধানের শীষ শ্লোগান দিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ভাঙচুর করে এবং বিএনপির ২৭ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

রাজবাড়ী-২: জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক সফিউল্লাহ, পাংসা ছাত্রদলের সভাপতি শেখ রাকিব , জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম খোকন, পানসা উপজেলা বিএনপির সদস্য ধীরাজ শেখ, জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক মুক্তার হোসেন, সাওরাইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জুলমত বিশ্বাস, যুবদল নেতা আনিস মোল্লা, সাওরাইল ইউনিয়ন বিএনপি’র সহ সভাপতি আক্কাস মোল্লা, যুবদল নেতা আলাউদ্দিন সহ ১৫ জনের অধীক নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
এছাড়া পাংসা টেকিপাড়া বিএনপি নেতা কায়সার হামিদ, বাদল বিশ্বাস, জসিম শেখ, সেলিম সরদার, আকুল শেখ, রবি বিশ্বাস, রব মেম্বার, আশিক, দুলাল মেম্বার, উকিল মন্ডল, আনোয়ার হোসেন, হক বিশ্বাস, রাসেল, বাবলু, হোসেন, জাহিদুল ইসলাম সহ অসংখ্য নেতাকর্মীর বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীদের হামলায় উল্লেখিত নেতৃবৃন্দ সকলেই গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

মাদারীপুর-২: ধানের শীষের প্রার্থী রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী ইউনিয়নে গণসংযোগ চালানোর সময় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মিছিল করে হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ইমরান হোসেন। এছাড়া আরও আহত হয়েছেন বাবু, ভভতোষ, সুখদেবসহ অনেকে।

চট্টগ্রাম-৩: পৌর এলাকায় প্রচার কাজে বাধা দিচ্ছে আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী এবং দুইটি প্রচারের মাইক কেড়ে নিয়েছে। পোস্টার লাগাতে দিচ্ছে না। লাগালে ছিড়ে ফেলছে, পোস্টার লাগাতে গেলে হামলা করা হচ্ছে। পুলিশের সহযোগীতায় এসব করা হচ্ছে। আজিমপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মো. ফরিদ, মো. আনোয়ার হোসেন, যুবদল নেতা আলাউদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ইউএনও, এএসপি কার্ড, ওসি, প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকার প্রার্থীকে জেতাতে দায়িত্ব নিতে হবে মর্মে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-৪: ভাটিয়ারী বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরনবী চৌধুরী, যুবনেতা শাহাদাত, মো. জাবেদ, মোনসুর সহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে বিনা কারণে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম-৯: ধানের শীষের প্রার্থী গণসংযোগ চালানোর সময় স্থানীয় বিএনপি কর্মী জামাল, ইকবাল ও বুড়ামিয়ার উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে প্রচার মাইক ভাঙচুর করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

রাঙামাটি: লংগদু উপজেলায় ৭০ জনকে আসামী করে গায়েবী মামলা দায়ের করেছে বাকশালি পুলিশ। দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের আসামী করেছে।

চট্টগ্রাম-১০: ডবল মুরিং থানায় ১৩২ জনের নামে গায়েবী মামলা দায়ের করে পুলিশ। যেখানে বর্তমানে কারাবন্দী নেতা এস.এম. ফরিদুল আলমকেও আসামী করে। মহিলা দলের কর্মীদেরও আসামী করে। আজ বিকালে পাছলাইশ থানা বিএনপি নেতা শহীদুল আলম খসরুকে গ্রেফতার করেছে চকবাজার থানা পুলিশ। নির্বাচনী প্রচারে বাধা, ব্যানার, পোস্টার ছিড়ে ফেলা হচ্ছে। এছাড়াও খুলশীতে কর্মী সভার প্রস্তুতির সময় পুলিশ এসে চেয়ার নিয়ে যায়।
হালিশহর থানায় ১০০ জনের নাম উল্লেখ করে গায়েবী মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম-১৫: সাতকানিয়া ঢেউদিঘী মাদকশা ইউনিয়নে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগের সময় হামলা করে গাড়ি ও মাইক ছিনতাই করে নিয়ে যায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। লোহাগড়া আরাকান রোডে প্রচার গাড়ি থেকে দলীয় কর্মীকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। এখন পর্যন্ত তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পদুয়া তেহেরিহাট বাজারে মিছিলে পুলিশ বাধা দেয়। সাতকানিয়া দঃ মাদাকশাহ পুকুরপাড় এলাকায় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি. ফরমান সিকদারকে সাদা পোশাকধারীরা তুলে নিয়ে গেছে। তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

কুষ্টিয়া-১: নির্বাচনী এলাকায় বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের খোজ করছে। না পেলে পরিবারের লোকজনদের ভয়ভীতি ও বিভিন্ন চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে। এবং বোয়ালিয়া ইউনিয়ন বিএনপি যুগ্ম সম্পাদক আনিসুর রহমান সহ তিনজন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নড়াইল-১: ধানের শীষের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাসের বাড়িতে ঢুকে আসবাবপত্র ভাংচুর ও তাদের বাড়ি ও নির্বাচনী পোস্টারে অগ্নিসংযোগ করে তা জ্বালিয়ে দিয়েছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তার বাড়ি ঘিরে রেখেছে এবং নান্নু মিয়া নামের একজনকে হামলা করে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে খুলনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

খাগড়াছড়ি: দিঘীমালা উপজেলার বেতছড়ীতে ছালাম মেম্বারের দোকান ও বাড়িতে হামলা করে ব্যাপক লুটপাক করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। এবং উল্টা তাদের ৭৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে এবং ৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এছাড়া রামগড় উপজেলার সোনাইপুল এলাকায় ওসি তারেক আবদুল হান্নানের নেতৃত্বে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ মিলে নেতাকর্মীদের এলোপাথাড়ি লাঠিচার্জ ও কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। এতে ১২ জন আহত হয়। শ্রমিক দল সভাপতি কামাল হোসেনের অবস্থা আশংকাজনক। মহালছড়িতে স্বেচ্ছাসেবক দলের ১ নেতাকে পিটিতে হাত ভেঙে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

ঢাকা জেলা: সাভার থানাধীন হেমায়েরপুরে ধানের শীষের পোস্টার লাগাতে গেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান সমর তাদের দুজনকে আটকিয়ে রেখে শারীরিকভাবে নির্বাচন করছে এবং এখনও আটকিয়ে রেখেছে। তাছাড়া তেতুলঝড়া ইউনিয়ন শ্রমিক দল নেতা মোশারফ হোসেনের বাসায় পুলিশ তল্লাসীর নামে ভাঙচুর করে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত