প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের : গোলাম মোর্তোজা

খায়রুল আলম : মানুষ যদি ভোট দিতে পারে, তাহলে আগামী নির্বাচন জমবে, আর যদি ভোট দিতে না পারে তাহলে জমবে না। এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপ প্রসঙ্গে এমন কথা বলেন, সাপ্তাহিক সম্পাদক গোলাম মোর্তোজা।

তিনি বলেন, ভোট দিতে পারা না-পারার উপর নির্ভর করে নির্বাচন কমিশন ভোটের পরিবেশ কতোটা ঠিক রাখতে পারবে। যখন একটি দলীয় সরকার ক্ষমতায় থাকে, সে দলীয় সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। তখনই নির্বাচনটি সুষ্ঠু হয়, যদি দলীয় সরকার নির্বাচন কমিশনকে মৌখিকভাবে নয়, কার্যকরক্ষেত্রে সর্বতোভাবে সাহায্য এবং সহায়তা করে। আরও নির্ভর করে নির্বাচন কমিশন সংবিধান তাদের যে ক্ষমতা দিয়েছে, সে ক্ষমতা প্রয়োগ করার জন্য তারা যদি শক্তিমত্তার প্রমাণ দিতে পারে। সরকারের সাথে দরকষাকষিতে তাদের আইনি ক্ষমতা যাতে প্রয়োগ করতে পারে। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন যদি তার সাহসের প্রমাণ দিতে পারে, সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে, তাহলে সরকার কিছু হলেও নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করতে বাধ্য হবে।  নির্বাচন কমিশন সে কাজটা করতে না পারলে, তারা যদি সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকে। সরকার কী বলছে, তারা কী মনে করতে পারে, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কী। তার পেক্ষিতে যদি নির্বাচন কমিশন সাড়া দেয়, তাহলে একটি সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হওয়া খুব কঠিন। বর্তমান সময়ে একটি অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নির্বাচনটি হয়তো অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে। কারণ প্রধান বিরোধী দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। কিন্তু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন মানেই সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নয়। সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার জন্যে ভোটের পরিবেশ ঠিক রাখা প্রয়োজন। সবাইকে সমান সুযোগ দিতে হবে এবং এটি নিশ্চিত করতে হবে যাতে সব দলই তাদের নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারে। মানুষ যাতে নিশ্চিন্তে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তার পছন্দ অনুযায়ী ভোট দিতে পারে সেটি নিশ্চিত করা দরকার। আর এ কাজটি করা দরকার নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এ কাজটি কখনোই পুরোপুরিভাবে করতে পারবে না, যদি না সরকার তাকে সহায়তা করে। নির্বাচন কমিশনের যে মতি-গতি, কথা-বার্তা তাতে মনে হয় না তারা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চায়। নির্বাচন করার জন্য তাদের যে একটি চ্যালেঞ্জে যাওয়ার দরকার তারা যাচ্ছে বলেও মনে হচ্ছে না, আবার যাবে বলেও মনে হচ্ছে না। বড় দুই দলের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই সরকারি দলের এগিয়ে থাকার কথা। তারাই এগিয়ে আছে।

এখানে এগিয়ে-পিছিয়ে থাকার ব্যাপার নয়। ব্যাপার হচ্ছে,  সাবাই তার  মতো করে কাজটি করতে পারছে কিনা। আমরা দেখছি বিরোধী দলের উপর আক্রমণের পরিমাণ অনেক বেশি। যদিও সরকারি দলের দুজন কর্মী মারা গেছে। কিন্তু বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা যখন প্রচারণায় নেমেছে, বিশ-ত্রিশ জায়গায় আক্রমণের খবর এসেছে। এসব ঘটনাগুলো যদি সামনের দিকে আরো বাড়ে তাহলে সরকার আরো এগিয়ে যাবে আর বিরোধী দল পিছিয়ে যাবে। আর যদি নির্বাচন কমিশন কিছু একটা করতে পারে, তাহলে হয়তো পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত