প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা কারো দানে পাওয়া নয়

মাহফুজ নান্টু : যে কোন জাতীয় দিবস আসলে বাঁশের মধ্য জাতীয় পতাকা টানিয়ে কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ নিয়ে ঘুরে বেড়ায় মৌসুমি হকাররা। বিভিন্ন আকৃতির জাতীয় পতাকা, মাথায় ও হাতে বাধা রিজব্যান্ড থাকে তাদের কাধে ও ব্যাগে । আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস।আগামী পরশু ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচিতে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ গ্রহন করা আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আসন্ন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা নিয়ে কুমিল্লা মহানগরীর অলিগলি থেকে গ্রামের মেঠোপথে চষে বেড়িয়েছেন মৌসুমী হকাররা। স্কুল কলেজের সামনে কিংবা নগরীর প্রানকেন্দ্র কান্দিরপাড়ের জনবহুল এলাকাগুলোতেই তাদের পদচারণা দেখা যায়।

মনোহরপুর সোনালী ব্যাংকের পাশে জাতীয় পতাকা বিক্রি করতে দেখা যায় দুই মৌসুমি হকার জোবায়ের ও মহসিনকে। মাদারীপুর জেলা থকে এসেছেন কুমিল্লায়। জানায় আরো অন্তত ত্রিশজন কিশোর এসেছে কুমিল্লায় জাতীয় পতাকা বিক্রি করতে।

কথা হয় মোহসিন ও জোবায়ের সাথে। তারা জানান, সম্পর্কে তারা বাল্য বন্ধু। একজন কাঠমিস্ত্রীর সহকারী হিসেবে কাজ করেন আরেকজন পোষাক শিল্প কারখানায় কাজ করে। তবে যে কোন জাতীয় দিবস আসলে বাঁশে জাতীয় পতাকা টানিয়ে কাধে ব্যাগ নিয়ে বিভিন্ন জেলা সদরে হেটে পতাকা বিক্রি করেন।

মুনাফা ভালো হলেও পতাকা বিক্রির মধ্য একটা গভীর টান অনুভব করে বলে জানায় দু হকার বন্ধু জোবায়ের ও মহসিন।
তবে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে কুমিল্লায় জাতীয় পতাকা বিক্রি তেমন ভালো না বলে জানান তারা। এছাড়াও নির্বাচন ছাড়াও স্কুল কলেজের শিক্ষকরাও বিভিন্ন দায়িত্ব নিয়োজিত থাকায় পতাকা বিক্রি অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক কম।

মন্দা অবস্থায় আজ কত বিক্রি হলো এমন প্রশ্নের জবাবে মোহসিন ও জুবায়ের জানায় দু জনে মিলে এক হাজার টাকাও বিক্রি করতে পারিনি। তবে আশা করি শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে কিছু বিক্রি হতে পারে তবে তা নিশ্চিত না।
বিক্রির অবস্থা বেশ মন্দা। ব্যাখ্যা করে জানালো জুবায়ের। সামনে সংসদ নির্বাচন। জাতীয় দিবস উদযাপনের চেয়ে নেতা নেত্রীরা এখন প্রচারন-প্রচারণায় ব্যস্ত । পতাকা কিনার সময় তাদের কই?

এদিকে কুমিল্লা শাসনগাছা মিরপুর সড়কে দেখা যায়,ইকবাল হোসেনকে। নগরীতে পতাকা বিক্রি তেমন ভালো না বলে গ্রামের মেঠো পথে ফেরী করে বেড়ায়। গতকাল দুপুরে দেখা হয় সড়কের মহেশপুর এলাকায় দেখা হয় ইকবালের সাথে। নানান কথার ভিড়ে জিজ্ঞেস করলাম জাতীয় সংগীত কিংবা দেশাত্ববোধক কোন গান গাইতে পারেন? কিছুটা অপ্রস্তুত ইকবাল। শেষে একটু বেশী অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারে নি। গান ধরলো ইকবাল। অগ্রাহায়নের নীল আকাশে হিমেল হাওয়া আর মাঠে থাকা দিগন্ত বিস্তৃত্ব দোল খাওয়া সোনালী ধানের জমি ছুয়ে গেলো ইকবালের মর্মস্পর্শী সুরে গাওয়া গান, “দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা কারো দামে পাওয়ার নয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত