প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে জামায়াত

হ্যাপি আক্তার : ডিসেম্বরের ১৩-১৪ তারিখে তালিকা ধরে বুদ্ধিজীবী হত্যাকা-ে মেতে ওঠে স্বাধীনতাবিরোধী দলটির নেতাদের নেতৃত্বাধীন আল বদর বাহিনীর জল্লাদরা। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ভয়ঙ্কর এই অপরাধ প্রমাণিত হলেও এখনও নিষিদ্ধ হয়নি জামায়াত। বর্তমানে সাংবিধানিকভাবে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সুযোগ নেই। তাই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমেও জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব বলে মনে করেন আইনজ্ঞরা। ডিবিসি নিউজ।

একাত্তরে বাঙালির বিজয় যখন হাতছানি দিচ্ছিলো পরাজয়ের মুখে পাকিস্তানী বাহিনী যখন পলায়নপর, তখনই বাঙালি জাতিকে মেধাশূণ্য করতে বুদ্ধিজীবীদের শেষ করে দিতে বিশেষ অভিযানে নামে আল বদর ও আল শামসের জল্লাদরা। এই দুটি আধা সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব দেয় জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্রসংগঠনের নেতারা।

টর্চার সেল- মোহাম্মদপুর শারীরিক শিক্ষা কলেজে জাতির মেধাবী সন্তানদের জড়ো করে পৈশাচিক বর্বরতায় মেতে ওঠে ঘাতকেরা।
বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী রুস্তম আলী মোল্লা বলেন, ‘আলী আহসান মুজাহিদ, গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, মঈনুদ্দীনে ও আশরাফ এই পাঁচজন এসে পাকিস্তানীদের সাথে মিটিং করতো। এই রাজাকাররাই তাদের তুলে নিয়ে এসে চোখ তুলে পরে জবাই করে মেরে ফেলে দিতো।’
নিজামী, মুজাহিদ, আশরাফুজ্জামান ও মঈনুদ্দীনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারেও প্রমাণ হয়েছে, বুদ্ধিজীবী হত্যার নীল নকশা বাস্তবায়ন করে জামায়াত।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ বলেন, জামায়াত এবং তাদের ছাত্র সংগঠন একটি মিলিটারি ইউনিটের মত কাজ করে ছিলো। তারাই এর পুরো পরিকল্পপ্না করে এবং এটি বাস্তবায়নেও এর সাথে ছিলো।

একাত্তরে জামায়াত নেতাদের কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে অপরাধ করে থাকতে পারে বলে স্বীকার করছে দলটির বর্তমান নেতৃত্ব।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বলছি না যে আমদের নেতৃবৃন্দ নিষ্পাপ। মানুষ মাত্রই ভুল হয়। তাদের ভুল থাকলে তখন কেনো তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়নি। এখন করলেও তা কেনো স্বচ্ছভাবে করা হচ্ছে না।’

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সংগঠনের বিচারের সুযোগ না থাকায় এখনও আটকে আছে জামায়াতের বিচার। এছাড়া, নিবন্ধন বাতিলের রায়ের চূড়ান্ত পরিণতি না হওয়ার সুযোগ নিয়ে রাজনীতি করে যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দলটি।
সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, ‘মামলাটির কার্যক্রম যদি শেষ হয় তাহলে সংবিধান অনুায়ী জামায়তের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু তারা আপিল করার ফলে এর সুযোগ নিয়ে রাজনীতি করছে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত