প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সব আন্দোলন-সংগ্রামে বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন পুরোধা ব্যক্তিত্ব : শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী

আমিরুল ইসলাম : যেসব বুদ্ধিজীবীর তালিকা পাকিস্তানিরা করেছিলো ও হত্যা করেছিলো তারা সাবাই ছিলেন সমাজের  মাথা। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকে সকল আন্দোলন সংগ্রামেই ১৪ ডিসেম্বর শহীদ হওয়া বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন পুরোধা ব্যক্তিত্ব বলে মনে করেন শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চেীধুরী।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন,  বুদ্ধিজীবীরা একদম সামনের সারিতে থেকে বিভিন্ন আন্দোলন করেছিলেন। ভাষা আন্দোলনে অনেকে জেল খেটেছেন। উনসত্তরের গণআন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলনসহ  যতোগুলো আন্দোলন হয়েছিলো সবগুলোতেই তারা অংশগ্রহণ করেছিলেন বলেই সকলে চিহ্নিত ছিলেন দুশমনদের কাছে। দুশমনরা বুঝতে পেরেছিলো এরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। এরা এতোদূর পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে এসেছেন, এরাই ভবিষ্যতে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এজন্য তাদেরকেই আগে মারতে হবে।

যখন পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী দেখলো তাদের পরাজয় সুনিশ্চিত, তারা আর এদেশটিকে তাদের অধীনে রাখতে পারবে না, তখন তারা দেশটাকে মেধাশূন্য করার জন্য শ্রেষ্ঠ বুুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রস্তুত করে, তালিকা অনুযায়ী  নির্মম ভাবে হত্যা করেছে। এ তালিকাটি তারা আগে থেকেই প্রস্তুত করে রেখেছিলো। তাদের সন্দেহ হয়েছিলো বীর বাঙালির কাছে তারা পরাজিত হবে। তবু তারা আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলো যুদ্ধে জয়লাভ করার জন্য। এ দেশটাকে তাদের করতলে রাখার জন্য। কিন্তু তারা পারেনি। আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা অসীম সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করে তাদের পরাজিত করেছে। সেই পরাজয় তারা মেনে নিতে পারেনি। দেশটা যেনো মাথাতুলে দাঁড়াতে না পারে। দেশটা যেনো মেধাশূন্য হয়ে ধ্বংসের দিকে যায় সেকারণে তারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিলো।

স্বামী ডা. আলীম চৌধুরীকে তুলে নেয়ার সময়ের কথা উল্লেখ করে শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, আমার স্বামীকে তারা আমার চোখের সামনে থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলো।  হাত বেঁধে, চোখ বেঁধে নিয়ে গিয়েছিলো । ফিজিক্যাল ইনস্টিটিউশনে রেখে অত্যাচার করেছিলো। ১৫ ডিসেম্বর তুলে নেওয়া হয়েছিলো । ড. ফজলে রাব্বীকেও তুলে নেওয়া হয়েছিলো একই দিনে। তারপর নির্মমভাবে হত্যা করে তারা ফেলে রেখেছিলো রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে। আমরা লাশ পেয়েছি ১৮ তারিখে। মানুষ মানুষকে এরকম নির্মমভাবে হত্যা করতে পারে এ লাশ দেখে আমরা বুঝেছি। একটা হিং¯্র জন্তুও এতো নির্মম হতে পারে না । তারা এতো নির্মম ছিলো , এতো বড় দুশমন ছিলো আমাদের।

বুদ্ধিজীবীদের এবং ত্রিশলক্ষ শহীদের ক্ষতিপূরণ কখনোই সম্ভব না। তবে তাদের যে আদর্শ তারা রেখে গেছেন। সে আদর্শকে অনুসরণ করে আমরা যতোটুকু পারি আমরা এগিয়ে যাবো। গত দশ বছরে তরুণদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অনেকটা জাগ্রত হয়েছে। জামায়াত-বিএনপি তরুণ প্রজন্মকে ভুল ইতিহাস শেখানোর  চেষ্টা করছে । এ ব্যাপারে আমাদের আরো বেশি সোচ্চার হতে হবে বলে মনে করেন এই শহীদ জায়া ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত