প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলাদেশে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড

তাসমিয়া আহমেদ : বাংলাদেশে বিচার-বহির্ভূত হত্যা নিয়ে সম্প্রতি ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইট সাপোর্ট সোসাইটি। তারা বলছে, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ১২১টি বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটেছে, যার বেশির ভাগই করা হয়েছে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে। এর মধ্যে ১১৭টি ঘটনা বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ার, ২টি নির্যাতনের পর হত্যা এবং বাকি ২টি কারা হেফাজতে মৃত্যু।

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ৯ জন সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, দুই গ্রুপের সংঘর্ষে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর, এই তিন মাসের প্রতি মাসে ৪১ জন হত্যার শিকার হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই তিন মাসে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে। সর্বোচ্চ ৭০ জন নিহত হয়েছে জুলাই মাসে, এই হার একটু কমেছে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে উল্লেখযোগ্য কিছু বিচারবহির্ভুত হত্যার দিকে তাকালে বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে যায়। জুলাই মাসের প্রথম দিনে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কায়েমকোলা বাগমারা বিলে কথিত “বন্দুকযুদ্ধে” নিহত হন জাহিদ হোসেন টোকন নামে এক যুবলীগ নেতা। নিহতের বাবা অভিযোগ করেন, গত ২৯ জুন রাতে যশোরের চাচড়া এলাকার ভাড়া বাসা থেকে টোকনকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।

৯ জুলাই শরীয়তপুর সদর উপজেলায়, কালু শিকদার নামে ২৫ বছর বয়সী এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। ঘটনার দু’দিন আগে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার আনন্দ বাজারে এক তরুণকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিদ্ধে। নিহতের নাম পাভেল শেখ। ৩০ জুলাই রাজধানীর মোহাম্মদপুরে “বন্দুকযুদ্ধে” নিহত হন অভিযুক্ত এক মাদক ব্যবসায়ী। নিহত রাজন (২৫) ওরফে গাঞ্জা রাজনের নামে অন্তত ২৫টি মামলা ছিলো বলে দাবি করেছে র‌্যাব। ৭ আগস্ট গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে র‌্যাবের সাথে কথিত “বন্দুকযুদ্ধে” নিহত হয় সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম।

একই দিন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের কমল্লা গ্রামে সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন র‌্যাবের সাথে “বন্দুকযুদ্ধে” নিহত হয়। ১৩ আগস্ট চট্টগ্রামের রাঙুনিয়া উপজেলায় ডিবি পুলিশ আলতাফ (৪০) নামের একজনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরদিন তার মরদেহ পাওয়া যায় রাস্তার পাশে ঝোপের মাঝে। আলতাফ মরিয়ম নগর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। ৪ সেপ্টেম্বর শরীয়তপুরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে কথিত “বন্দুকযুদ্ধে” মারা যায় এক সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ী। নিহতের নাম সুমন পাহাড়। সুমনের পরিবার বলছে, গত ২৮ আগস্ট গ্রামের একটি দোকানের সামনে থেকে সুমনকে উঠিয়ে নিয়ে যায় সাদা পোশাকের কিছু লোক।

এসব ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশে একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের হত্যা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয় বরং আইনের শাসনের চরম পরিপন্থী। এগুলো দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। আমরা আশা করবো, ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যারা সরকার গঠন করবে তারা বিচার বহির্ভূত হত্যাকা-ের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবে এবং এগুলো বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, দ্য ডেইলি আওয়ার টাইম। সম্পাদনা : নুসরাত, আলমগীর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত