প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উড়ছে টাকা, হারছে রাজনীতি

সমকাল :  টাকার কাছে কি হেরে যাবে রাজনীতি? এ আশঙ্কাই ঘুরপাক খাচ্ছে গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশক থেকে রাজনৈতিক বিশ্নেষকদের মনে। ১৯৯০ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পেশাজীবী হিসেবে ব্যবসায়ীরা শীর্ষে উঠে আসেন। তার পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের। টাকার কাছে হারতে শুরু করেছে রাজনীতি। তাই রাজনৈতিক দলগুলো মনোনয়নে তাদেরই গুরুত্ব দিচ্ছে, যারা কি-না টাকাওয়ালা। আবার রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন ঘটার কারণে অনেক সৎ ব্যবসায়ীও চাইছেন, রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ক্ষমতায়ন ঘটিয়ে পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণ করতে। রাজনীতিকরাও ব্যবসায় ঝুঁকছেন রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নিজের অস্তিত্বকে সুরক্ষিত করতে। এমন রাজনৈতিক আবর্তনে শেষ পর্যন্ত টাকার কাছে রাজনীতি বাঁধা পড়ছে। অবস্থা এমন হয়েছে, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ পর্যন্ত এ প্রবণতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ২০১৫ সালে একটি সমাবেশে বলেছিলেন, ‘রাজনীতি এখন ব্যবসায়ীদের পকেটে চলে গেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখের বিষয়। যেভাবেই হোক, এ অবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে।’

১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার আইনসভায় ব্যবসায়ী সদস্যের সংখ্যা ছিল চার শতাংশের মতো। ছয় দশক পর সর্বশেষ ২০১৪ সালের সংসদে ৫৯ শতাংশ এমপির পেশা ব্যবসা। সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে নির্বাচিত ৩০০ এমপির ২০৬ জনেরই পেশা ব্যবসা। ২০১৮ সালে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, চলতি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যেও ব্যবসায়ী বেশি।

১৯৭৩ সাল থেকে প্রতিটি সংসদে বেড়েছে ব্যবসায়ীর সংখ্যা। রাজনীতিবিদরা ব্যবসায় আসায় তাদের সংখ্যা আরও বেড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্নেষকরা বলছেন, নির্বাচন দিন দিন ব্যয়বহুল হচ্ছে। এ কারণেই রাজনৈতিক দলগুলো ব্যবসায়ীদের অধিক সংখ্যায় মনোনয়ন দিচ্ছে। এবারের নির্বাচনে বড় দু’দল- আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ২৫৯ ও ২৪১ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। একটি গবেষণা পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, ২৮৬ থেকে ৩০০টি আসনে বড় দু’দলের নেতৃত্বাধীন জোট প্রার্থীদের প্রায় ৬২ শতাংশ প্রার্থীই ব্যবসায়ী। তৃণমূলে রাজনীতি করা নেতাদের মনোনয়ন না দিয়ে দলগুলো বেছে নিয়েছে আগে থেকেই ব্যবসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত নেতাদের পরিবারের কাউকে। রাজনীতিতে অবদান না থাকলেও কিংবা প্রাথমিক পর্যায় থেকে রাজনীতি না করলেও তাদের ‘উদারহস্তে’ টিকিট দিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা  বলছেন, দলে গণতন্ত্র চর্চার অভাব এবং সমাজে এখনও সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা বহাল থাকায় উত্তরাধিকারের রাজনীতি অব্যাহত রয়েছে। এবার বিএনপি প্রায় ৩০টি আসনে দলীয় নেতাদের স্ত্রী, সন্তান, পরিবারের সদস্যকে মনোনয়ন দিয়েছে। আওয়ামী লীগও মনোনয়ন দিয়েছে বেশ কয়েকজন নেতার উত্তরাধিকারদের।

তবে রাজনীতি রাজনীতিবিদদের হাতছাড়া হয়ে গেছে- এ কথা পুরোপুরি সঠিক নয় বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। তিনি  বলেন, ব্যবসায়ীদের মনোনয়ন দেওয়া দোষের নয়। তারা যদি জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে জনগণের  কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারেন, তাহলে তো ক্ষতি নেই। তার দাবি, আওয়ামী লীগের হয়ে এখনও রাজনীতিবিদরাই সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান একই দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, ব্যবসায়ী হিসেবে কাউকে মনোনয়ন দেয়নি বিএনপি। এলাকায় যাদের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাদেরই প্রার্থী করা হয়েছে।

তবে সংসদে ব্যবসায়ীদের জয়ী হয়ে আসা যে হারে বাড়ছে এবং অন্যদিকে বিভিন্ন পেশাজীবীর সংখ্যা যে হারে কমছে, তা বিশেষ পর্যালোচনার দাবি রাখে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে ব্যবসায়ী এমপির সংখ্যা ছিল ১৮ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি এমপি-রাজনীতিক এসেছিলেন আইনজীবীদের মধ্য থেকে- ৩১ শতাংশ। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদে ব্যবসায়ী ছিল ২৪ শতাংশ। এর পর ১৯৯০-এর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত সংসদে ব্যবসায়ীরা শীর্ষে উঠে আসেন। ৩৮ শতাংশ ব্যবসায়ী নির্বাচিত হন এ সংসদে। এর পর ১৯৯৬ সালের সংসদে ৪৩ শতাংশ, ২০০১ সালে ৫৮ ও ২০০৮ সালে ৫৭ শতাংশ ব্যবসায়ী এমপি নির্বাচিত হয়ে পেশাগত শীর্ষস্থান অব্যাহত রাখেন। অন্যদিকে, ২০১৪ সালে আইনজীবীর সংখ্যা মাত্র ১০ শতাংশে নেমে আসে, যা ১৯৭৩ সালে ছিল ৩১ শতাংশ।

একইভাবে সংসদে অন্যান্য পেশাজীবীর সংখ্যাও ক্রমে কমেছে। কৃষিজীবী পেশা থেকে নির্বাচিত এমপি প্রথম জাতীয় সংসদে (১৯৭৩) ছিল ১১ শতাংশ। দ্বিতীয় সংসদে (১৯৭৯) তা কিছুটা বাড়লেও (১৩ শতাংশ) এর পর ক্রমেই কমেছে। কৃষিজীবীর মধ্য থেকে ১৯৯০ সালে ১১ শতাংশ, ১৯৯৬ সালে ৮, ২০০১ ও ২০০৮ সালে ৭ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে মাত্র ৫ শতাংশ জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন।

বাংলাদেশের সমাজ-কাঠামোয় শিক্ষকতা একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে বিবেচিত। এই পেশা থেকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার হারও ক্রমে নিম্নমুখী। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে ১২ শতাংশ, ১৯৭৯ সালে ৬, ১৯৯০ সালে ৭, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে ৮, ২০০৮ সালে ১ ও ২০১৪ সালে ২ শতাংশ শিক্ষক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

অন্যান্য পেশা থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ১৯৭৩ সালে ২৮ শতাংশ, ১৯৭৯ সালে ৩১, ১৯৯০ সালে ২৯, ১৯৯৬ সালে ২৫, ২০০১ সালে ১৫ শতাংশ এবং ২০০৮ ও ২০১৪ সালে ২১ শতাংশ।

অতীতের সব হিসাব ছাড়িয়ে চলতি দশম সংসদে ব্যবসায়ী এমপি ৫৯ শতাংশ। আরেকটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংরক্ষিত আসনের নারী এমপিসহ এই সংখ্যা ৬৯ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ, জাতীয় সংসদে ক্রমে প্রান্তিক পর্যায়ে চলে যাচ্ছেন অন্য পেশাজীবীরা। এর ফলে রাজনীতিতে অন্য পেশাজীবীর অংশগ্রহণও ভবিষ্যতে কমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। সাম্প্রতিক একটি গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ৬১ শতাংশ ব্যবসায়ী, ১০ শতাংশ আইনজীবী, ৫ শতাংশ কৃষিজীবী, ২ শতাংশ শিক্ষক এবং ২২ শতাংশ অন্যান্য পেশাজীবী প্রার্থী।

রাজনৈতিক দলগুলো কেন ব্যবসায়ীদের প্রার্থী করছে? এ প্রশ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, এ প্রবণতা নতুন নয়। আগামী সংসদে ব্যবসায়ীর সংখ্যা বোধকরি আরও বাড়বে। কারণ, নির্বাচন ক্রমে ব্যয়বহুল হচ্ছে। তাই অর্থশালী ও বিত্তবানরাই দলের মনোনয়নে প্রাধান্য পাচ্ছেন। তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারতেও লোকসভা ও রাজ্যসভায় ব্যবসায়ী বাড়ছে। অন্যদিকে, আইনজীবী ও শিক্ষকের মতো পেশাজীবীর রাজনীতিতে আসা কমছে। এই প্রবণতা রাজনীতির জন্য ভালো না হলেও এটাই এখনকার বাস্তবতা।

সংসদে ব্যবসায়ীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, বেড়েছে কোটিপতি এমপির সংখ্যাও। দশম সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ৩০০ এমপির হলফনামা বিশ্নেষণ করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জানাচ্ছে, বর্তমান এমপিদের ২২৬ জন কোটিপতি। ৬৫ শতাংশের বেশি এমপির কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে। সম্পদের বাইরে আয় বিবেচনায় ৫৫ এমপির বার্ষিক আয় কোটি টাকার বেশি বলে দেখা গেছে এ গবেষণায়। তাদের স্ত্রী- সন্তানরাও বিপুল সম্পদের মালিক।

নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমীন মুর্শিদ  বলেন, নির্বাচন মানেই টাকার খেলা। যাদের টাকা আছে, তারাই খেলার নিয়ন্ত্রক হবেন- এটাই স্বাভাবিক। তাই পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থাটাই ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। ব্যবসায়ীরাই রাজনীতিক- এটি নতুন ধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্নেষকরা বলছেন, হলফনামায় এমপিদের দেওয়া সম্পদের বিবরণ তাদের নিজস্ব তথ্য। এ তথ্য যাচাইয়ের দৃষ্টান্ত নেই। তাই তাদের সম্পদের পরিমাণ হলফনামায় দেওয়া তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। রাজনীতিবিদরাও ব্যবসায় নামায় তাদের সম্পদ বাড়ছে। এমন এমপি রয়েছেন, ১০ বছর আগেও যার কিছুই ছিল না, অথচ এখন ব্যাংকের মালিক। রাজধানীতে ফ্ল্যাট ও প্লট অর্জন করেছেন, যা তার আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

হলফনামায় দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ১০ বছরে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন যশোর-৪ আসনের এমপি রঞ্জিত কুমার রায়। ২০০৮ সালের হলফনামা অনুযায়ী, স্ত্রীর সম্পদসহ তার মোট সম্পদ ছিল ৭০ হাজার টাকা এবং ১৫ হাজার টাকা দামের পাঁচ তোলা স্বর্ণ।

নভেম্বরে দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, রঞ্জিত রায়ের স্ত্রী নিয়তি রায়ের রাজধানীর মিরপুরে দুই হাজার ৭১২ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, যশোর শহরে তিনটি বহুতল বাড়ি, ৫০ লাখ টাকা দামের আরও দুটি ফ্ল্যাট, ১৬ লাখ ১০ হাজার টাকা দামের ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ি, ব্যাংকে ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার ডিপিএস এবং ৩৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা আছে। রঞ্জিত রায়ের পূর্বাচলে ১০ কাঠার প্লট, কোটি টাকা দামের দুটি জিপগাড়ি, ৯০ লাখ টাকার আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন এবং দুই কোটি ২৫ লাখ ৮০ হাজার টাকার আসবাব আছে। হলফনামা অনুযায়ী, তার আরও অনেক সম্পদ রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক  বলেছেন, আদর্শিক রাজনীতির জায়গায় অর্থনির্ভর রাজনীতি শক্তিশালী হচ্ছে। একটা সময়ে আদর্শিক রাজনীতিরই প্রাধান্য ছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই রাজনীতি করেছেন। এখন অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। রাজনীতি ও নির্বাচন দুটোই অর্থনির্ভর হয়ে গেছে।

ব্যবসায়ীরা কে কোন দলে :এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হয়েছেন ঢাকা-১ আসনে। একই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন কুমিল্লা-৩ আসনের প্রার্থী। এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মাতলুব আহমাদের স্ত্রী নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও উইমেন্স চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সেলিমা আহমাদ মেরি প্রার্থী কুমিল্লা-২ আসনের।

আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ী প্রার্থীদের মধ্যে আরও রয়েছেন- মধুমতি ব্যাংকের পরিচালক ফজলে নূর তাপস (ঢাকা-১০), নূর-ই-আলম চৌধুরী (মাদারীপুর-১), মিডল্যান্ড ব্যাংকের উদ্যোক্তা কাজী জাফরউল্লাহ (ফরিদপুর-৪), মণ্ডল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মমিন ম ল (সিরাজগঞ্জ-৫), গাজী গ্রুপের চেয়ারম্যান ও যমুনা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম দস্তগীর গাজী (নারায়ণগঞ্জ-১), মধুমতি ব্যাংকের পরিচালক মো. দিদারুল আলম (চট্টগ্রাম-৪), বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম (নোয়াখালী-২) এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের পরিচালক বজলুল হক হারুন (ঝালকাঠি-১)।

এ দল থেকে আরও নির্বাচন করছেন- সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসানুল ইসলাম টিটু (টাঙ্গাইল-৬), ন্যাশনাল ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক এ কে এম এনামুল হক শামীম (শরীয়তপুর-২), হামিদ ফ্যাশন ও হামিদ রিয়েল এস্টেটের এমডি নসরুল হামিদ বিপু (ঢাকা-৩), পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ইন্টারস্টপ অ্যাপারেলসের এমডি শাহরিয়ার আলম (রাজশাহী-৬) এবং সিপাল গার্মেন্টের এমডি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি টিপু মুনশি (রংপুর-৪)।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন- মাইশা গ্রুপের কর্ণধার আসলামুল হক (ঢাকা-১৪), বেস্ট ডেনিম অ্যাপারেলের এমডি কামাল আহম্মেদ মজুমদার (ঢাকা-১৫), ফাবিয়ান গ্রুপের এমডি তাজুল ইসলাম চৌধুরী (কুমিল্লা-৯), বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সালাম মুর্শেদী (খুলনা-৪), কুশিয়ারা কম্পোজিট ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ-উস-সামাদ (সিলেট-৩)।

বিএনপিতেও কম নেই ব্যবসায়ী প্রার্থী। এ দল থেকে নির্বাচন করছেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১১), মুন্নু গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খান রিতা (মানিকগঞ্জ-৩), ইসলাম গ্রুপের মঈনুল ইসলাম খান (মানিকগঞ্জ-২), একমির প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান সিনহা (মুন্সীগঞ্জ-২), বারাকা পাওয়ারের চেয়ারম্যান ফয়সল আহমেদ চৌধুরী (সিলেট-৬), এস এ খালেক গ্রুপের ভাইস সিইও সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক (ঢাকা-১৪) ও পঁচা গ্রুপের শরীফুল আলম (কিশোরগঞ্জ-৬)। বিএনপি থেকে আরও নির্বাচন করছেন- সাবাব ফেব্রিক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর চৌধুরী (সিলেট-১), বিজিএমইএর সহসভাপতি মাহমুদুল হাসান খান বাবু (চুয়াডাঙ্গা-২), বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান (নারায়াণগঞ্জ-১), আনোয়ারুল আজিম (কুমিল্লা-৯) ও মেগা ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খালেদ হোসেন মাহবুব (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩)।

বিএনপির ব্যবসায়ী প্রার্থীর মধ্যে আরও রয়েছেন- ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক জাকারিয়া তাহের সুমন (কুমিল্লা-৮), জনশক্তি রফতানিকারক খোন্দকার আবু আশফাক (ঢাকা-১), বেঙ্গল এনএফকে টেক্সটাইলের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান (ঢাকা-১০), পোশাক খাতের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম আজাদ (নারায়ণগঞ্জ-২), আরকু ও লালমাই ইন্ডাস্ট্রিজের কর্ণধার মোহাম্মদ আমিনুর রশীদ ইয়াসিন (কুমিল্লা-৬), এক্সিলেন্ট প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জালাল উদ্দিন (চাঁদপুর-২), পোশাক খাতের ব্যবসায়ী আবদুল হান্নান (চাঁদপুর-৪), মার্ক বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক (চাঁদপুর-৫) ও অ্যালবার্ড ডেভিট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফি আহমদ চৌধুরী (সিলেট-৩)।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টির ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে নির্বাচন করছেন বিকেএমইএর সভাপতি সেলিম ওসমান (নারায়ণগঞ্জ-৫), প্রিন্স গ্রুপ অব কোম্পানির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আতিকুর রহমান (হবিগঞ্জ-১), ব্যবসায়ী গোলাম কিবরিয়া টিপু (বরিশাল-৩) প্রমুখ।

ভোটারদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন, সত্যিকারের রাজনীতিকরা কি পারবেন রাজনীতিতে অর্থের কেনাবেচা থামিয়ে উঠে আসতে? নির্বাচন মানেই তো টাকার দৌরাত্ম্য- তা হোক কালো টাকা, না হয় সাদা টাকা। নির্বাচন কমিশন কি পারবে প্রার্থীদের আয়-ব্যয়কে যথাযথভাবে পরিবীক্ষণ করে সত্যিকারের রাজনীতিক আর জনগণের মনে ভরসা জাগাতে?

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ