প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোটের পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা, সহিংসতায় লাগাম টেনে ধরার পরামর্শ

বাংলা ট্রিবিউন : নির্বাচনি প্রচারণার শুরুতেই সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। ঘটেছে প্রাণহানিও। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তা কমিশনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এখনই ঘটনার লাগাম টানা দরকার, তা না হলে প্রচারণার শুরুতেই যা দেখা যাচ্ছে তা চলতে থাকলে নির্বাচনে উৎসবের পরিবেশ বিঘ্নিত হবে।
তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি বুঝে ওঠার আগেই এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে মন্তব্য করে কমিশন বলেছে, সার্বিক পরিবেশ পর্যালোচনা করে ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনি প্রচারণা গত ১০ ডিসেম্বর শুরু হলেও প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ওই দিন আনুষ্ঠানিক প্রচারে নামেনি অধিকাংশ দল বা প্রার্থীরা। পরদিন ১১ ডিসেম্বরই ভোট প্রার্থনায় মাঠে নামেন প্রার্থীরাসহ তাদের কর্মী-সমর্থক বাহিনী। আর ওইদিনই ঘটে যায় তিনটি সহিংসতার ঘটনা। নোয়াখালী ও ফরিদপুরে মারা যায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই কর্মী। ঠাকুরগাঁওয়ে নিজের নির্বাচনি এলাকায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলা হয়। এরপর বুধবার ও বৃহস্পতিবার (১২ ও ১৩ ডিসেম্বর) প্রাণহানি না হলেও দেশের বেশকিছু স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে— রাজধানীর সদরঘাটে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ভোলা-৩ আসনের প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের ওপর হামলা, নেত্রকোনার আটপাড়ায় আওয়ামী লীগের মিছিলে পেট্রোল বোমায় সাতজন আহত, একই ঘটনার জেরে আওয়ামী লীগের মিছিলে বিএনপি প্রার্থীর গুলি, সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে ককটেল বিস্ম্ফোরণ ও গুলিবর্ষণ, চট্টগ্রামে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর গণসংযোগে হামলা, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে বিএনপি প্রার্থী মাহবুব উদ্দিন খোকনের গাড়ি ভাঙচুর, পটুয়াখালী ও নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ ইত্যাদি।
ঘটনার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা দুঃখ প্রকাশ করে বিষয়টি তাদের জন্য বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেন। ঘটনা তিনটি তদন্ত করে তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে পুলিশপ্রধানকে চিঠি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ ডিসেম্বর) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কথা তুলে ধরে সিইসি বলেন, ‘আমরা কিন্তু আশঙ্কাগুলো একেবারেই অবহেলা করতে পারি না। যেদিন প্রতীক বরাদ্দ হলো তার পরের দিনই দুর্ঘটনা। কেন হলো? এখানে-ওখানে ভাঙচুর, প্রতিহত করা। এগুলোর পেছনে কি রাজনৈতিক, সামাজিক কারণ, নাকি সেই ২০১৪ সালের মতো ভয়াবহ পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে তা কিন্তু ভালোভাবে নজরে নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হালকাভাবে নিলে হবে না। এর মধ্যে তৃতীয় কোনও শক্তির ষড়যন্ত্র আছে কিনা, খতিয়ে দেখতে হবে।’
এ সভায় নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার সব প্রার্থীর জন্য ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করে বলেন, ‘পেশাদারিত্ব দেখাতে হবে। অতি উৎসাহ বা নির্লিপ্ততা যেন না দেখি।’
আরেক কমিশনার কবিতা খানম বলেন, ‘কোনও কারণ ছাড়া গ্রেফতার করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জবাবদিহি করতে হবে।’
আর বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ‘নির্বাচনে কোনও ধরনের সহিংসতা ও প্রাণহানি হোক তা আমরা চাই না।’
ভোটের মাঠে সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রত্যাশিত ছিল না। তবে, ঘটনার লাগাম এখনই টানতে হবে। এই ধরনের ঘটনার প্রবণতা শুরু হয়ে গেছে তা ইসির আয়ত্তের বাইরে চলে যাবে। সেক্ষেত্রে কমিশন চাইলেও তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। যার প্রভাব ভোটের মাঠে থাকবে।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল  বলেন, ‘নির্বাচনি প্রচারণার শুরুতেই যে সহিংসতাগুলো আমরা দেখছি, যেভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে তাতে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে যথেষ্ট আশঙ্কা আছে।’
বর্তমানে সব দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘কমিশন দৃঢ়ভাবে এই সমস্যার সমাধান না করে এবং এখনই না থামায় নির্বাচনের সময় এগুলো বেড়েও যেতে পারে। দৃর্বৃত্তপনা যারা করছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে না পারলে এটা বাড়তেই থাকবে। তবে, ভোটের দিন কী হবে সেটা তো আগাম বলা যাবে না। সবকিছু নির্ভর করছে কমিশন এই বিষয়গুলি কীভাবে মোকাবিলা করে তার ওপর।’
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) ড. এম শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘গত তিন দিনে যা দেখলাম তা থামবে বলে লক্ষণ দেখছি না। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে যে ভোট হবে এসব নানা কাণ্ডকারখানায় তার আলামত তো দেখা যাচ্ছে না। শুরুর থেকেই যেভাবে গাড়ি ভাঙচুর, মারপিট অপ্রতিরোধ্যভাবে চলছে, তাতে ভোটের দিনে কী হবে তা আন্দাজ করা যেতে পারে।’
চলমান ঘটনার অব্যাহত থাকলে সাধারণ ভোটার, নারী ও সংখ্যালঘুরা ভোট দিতে আসবে না বলেও মনে করেন সাবেক এই কমিশনার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত