প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জিয়া-খালেদা-এরশাদ মানুষের সম্পদ লুটেপুটে খেয়েছে

যায়যায়দিন : শেখ হাসিনা বলেন, আগামীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না এলে পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা চাই না এই সেতুর কাজ বন্ধ হোক, চলমান উন্নয়নের কাজ বন্ধ হোক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফেরার পথে মানিকগঞ্জে নিবার্চনী পথসভায় বক্তৃতা করেন। এ সময় মঞ্চে ছিলেন স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ জাহিদ মালেক এবং সঙ্গীতশিল্পী ও সাংসদ মমতাজ বেগম -ফোকাস বাংলা পঁচাত্তরের পনেরো আগস্টের পর বিভিন্ন দফায় ক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জনগণের সম্পদ ‘লুটেপুটে খেয়েছে’ বলে অভিযোগ করেছেন শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে নির্বাচনী পথসভায় এ কথা বলেন তিনি।শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কখনো স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ‘বিশ্বাস করেন না’।

২০০১ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে’ ক্ষমতায় আসতে পারেনি মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ওই সময় ক্ষমতায় এসে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার দেশের অর্থ ‘বিদেশে পাচার’ করেছে।

‘তখন ক্ষমতায় এলো বিএনপি-জামায়াত জোট। আপনাদের মনে আছে, কীভাবে তারা দেশকে লুটে খেয়েছে? দেশের অর্থ মানুষের কাজে ব্যয় না করে নিজেরা ভোগ করেছে, বিদেশে পাচার করেছে।’

‘দুদকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, টঙ্গীর বিসিক শিল্প এলাকায় একটি ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কার্যক্রম পরিচালনা করে ‘নির্মাণ কনস্ট্রাকশন’ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাদিজা ইসলামের কাছ থেকে তারেক ও মামুন ২০০৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০০৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা নিয়ে তা সিঙ্গাপুরে পাচার করেন।’

২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানায় এই অভিযোগে তারেক রহমান ও তার বন্ধুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। এদিকে খালেদা জিয়ার আরেক ছেলে আরাফাত রহমান কোকোও সিঙ্গাপুরে অর্থপাচারের মামলায় দ-িত হয়েছেন।

ওই মামলায় বলা হয়, সায়মনের সহায়তায় কোকো অবৈধ উপায়ে অর্জিত ৯ লাখ ৩২ হাজার ৬৭২ মার্কিন ডলার এবং ২৮ লাখ ৮৪ হাজার ৬০৪ সিঙ্গাপুরি ডলার সে দেশে পাচার করেছিলেন।

এ প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, “মানি লন্ডারিংয়ের জন্য খালেদা জিয়ার দুই ছেলে অভিযুক্ত হয়েছে আমেরিকার ফেডারেল কোর্টে। এফবিআই লোকেরা এসে সাক্ষ্য দিয়ে গেছে।’

২০০৪ সালের একুশ আগস্টে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার পাশাপাশি সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া ও সাবেক সাংসদ আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যাকা-ের কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

২০০৪ সালের ৭ মে টঙ্গীতে এক জনসভায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন আহসানউল্লাহ মাস্টার; ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যেরবাজারে জনসভার পর বোমা হামলায় নিহত হন কিবরিয়া।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে উঠে আসে, ২০০৪ সালের এপ্রিলে চট্টগ্রামের সিইউএফএলের জেটিতে দশ ট্রাক অস্ত্র ধরা পড়ার কথাও।

কিবরিয়া হত্যাকা- ও দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় আসামি করা হয় বিএনপির তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে। এ বছরই একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় বাবরসহ ১৯ জনের ফাঁসির রায় দেয় আদালত। ওই ঘটনায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে দেয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদ-।

২০১৪-১৫ সালে সরকার উৎখাত আন্দোলনের নামে ‘বিএনপি অগ্নিসন্ত্রাস’ করেছে বলেও অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘৩৯০০ মানুষকে অগ্নিসন্ত্রাসে তারা জ্বালিয়েছে। পাঁচশর মতো মানুষকে তারা হত্যা করেছে। ২০১৫ সাল থেকে পুরো তিন মাস, ৯২ দিন মানুষ হত্যা করেছে। কোনো সুস্থ মানুষ কোনো জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করতে পারে? বলেন আপনারা। পারে না।’

‘অথচ তারা মানুষ হত্যা করে, ওটাই নাকি তাদের আন্দোলন। যাদের মানুষের প্রতি অতটুকু দরদ নেই, যারা মানুষের ভালো-মন্দ বোঝে না, তারা ধ্বংস করা ছাড়া দেশের কাজ করতে পারেনি।’

দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘কোনো রাজনৈতিক কারণে বন্দি করা হয়নি’ বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘এতিমের নামে বিদেশ থেকে টাকা এসেছে। একটা এতিমও একটি টাকা পায়নি। নিজে দুই হাতে লুটপাট করেছে। দশ বছর মামলা করেছে। সে মামলায় আজকে সাজা পেয়েছে।’

‘প্রয়োজন হলে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু’

নদী পার হওয়ার আগে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ডে এক নির্বাচনী সভায় শেখ হাসিনা বলেন, বলেন, ‘এই পদ্মা সেতু (মাওয়া-কাওড়াকান্দি) হওয়ার পর যদি প্রয়োজন হয় তাহলে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু করব।’

সেখানে রাজবাড়ী-১ আসনের নৌকার প্রার্থী কাজী কেরামত আলী এবং রাজবাড়ী-২ আসনের প্রার্থী মো. জিল্লুল হাকিমকে ভোটারদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি।

এদিকে মানিকগঞ্জ থেকে সাভারের ধামরাইয়ে এসে হার্ডিঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে সভায় বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে, গ্রাম পর্যায়ে কোনো ঘর অন্ধকার থাকবে না, সারা বাংলাদেশের সব ঘরে আমরা আলো জ্বালাব।’

বিজয়ের মাসে ধামরাইবাসীর কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই অঞ্চলের যারা জনগণ আছেন তাদের কাছে আমার একটা অনুরোধ থাকবে, বাংলাদেশে সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ করেছি, মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি; এখন বাংলাদেশকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, মাদক ও জঙ্গিবাদমুক্ত করতে আপনাদের সহযেগিতা চাই।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত