প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনকেন্দ্রিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ বিজিএমইএর

সমকাল : জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির উদ্দেশ্যে পোশাক খাতে শ্রম অসন্তোষের ষড়যন্ত্র করছে একটি মহল। নিরীহ শ্রমিকদের উসকানির মাধ্যমে কর্মবিরতি পালন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাজে না যাওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেছে পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ। কয়েক দিন ধরে বিচ্ছিন্নভাবে চলে আসা শ্রমিকদের কর্মবিরতি গতকাল আরও কয়েকটি কারখানায় ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

গতকাল পর্যন্ত অর্ধশতাধিক কারখানায় শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করেন। হাজিরা দিয়ে তারা কারখানা থেকে বেরিয়ে পড়েন। কোনো কোনো কারখানায় ঢিল ছুড়ে জানালার কাচ ভেঙেছেন শ্রমিকরা। রাস্তা অবরোধ করে গাড়ি ভাংচুরও করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে হা-মীম গ্রুপের কারখানায় যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন ক্রেতা প্রতিনিধি আটকা পড়েন। পরে হেলিকপ্টার দিয়ে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করে আনে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন থেকে আজ বৃহস্পতিবার থেকে কাজে যোগদানের জন্য শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। মজুরি নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে কারখানা কর্তৃপক্ষ, বিজিএমইএ কিংবা সরকারের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মজুরি কাঠামোর অধীনে প্রয়োজনে মজুরি সমন্বয় করার আশ্বাসও দেন তিনি। পাশাপাশি ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এবং হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদ বলেন, তার কারখানায় গতকাল অসন্তোষ দেখা দেওয়ায় শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছে কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকদের তারা বলেছেন, সরকার ঘোষিত নতুন মজুরি কাঠামো অনুযায়ী মজুরি পাবেন শ্রমিকরা। যদি মজুরি কম হয় তাহলে সমন্বয় করে দেওয়া হবে। আগামী মাসে বেতন দেওয়ার পর কম-বেশি সেটি বোঝা যাবে। এরপর শ্রমিকরা বলেছেন, কাজ করে বাড়ি ফিরে গেলে তাদের মারার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আসলে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মালিক, শ্রমিক এবং সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করা এবং সুপরিকল্পিতভাবে সমস্যা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। তার কারখানায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের আটকেপড়া এবং পরে হেলিকপ্টারে উদ্ধারের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, এতে সারা বিশ্বে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে। আশুলিয়ার ভালো মানের কারখানাগুলোর ওপর বার বার হামলা হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, মজুরি ঘোষণা এবং গেজেট প্রকাশ করার এত দিন পর নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে কেন এই অসন্তোষ। এর পেছনে দেশকে অস্থিতিশীল করা ছাড়া আর কি উদ্দেশ্য থাকতে পারে? শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর নেতারা বলেছেন, নির্বাচন সামনে রেখে এই মুহূর্তে কোনো ধরনের আন্দোলনের সঙ্গে নেই তারা। তাহলে কারা নিরীহ শ্রমিকদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ঘোষণার পরপরই অন্তত ৫২টি সংগঠন মজুরি কাঠামোতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল এবং সর্বশেষ চলতি মাস থেকে কার্যকর হওয়া কাঠামো অনুযায়ী মোট ৩৮১ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

অসন্তোষে জড়িয়ে পড়া শ্রমিকদের মূল দাবি, বিভিন্ন গ্রেডের মজুরিতে বৈষম্য আছে। সব গ্রেডে সমান হারে মজুরি বাড়েনি। এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, সব গ্রেডেই একই হারে মজুরি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। এরপরও কোনো সমস্যা থাকলে কারখানা মালিক, বিজিএমইএ ও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন শ্রমিকরা। সেটা না করে শ্রমিকদের সরলতার সুযোগে দেশের অর্থনীতির প্রাণ এবং কর্মসংস্থানের প্রধান এই খাতটি নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিজিএমইএর সহসভাপতি এস এম মান্নান কচি, মোহাম্মদ নাছির, বিটিএমএর সাবেক সভাপতি আবুল মতিন চৌধুরীসহ বিভিন্ন কারখানার মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত