প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জীবনটাকে উৎসর্গ করেছি, রাতে ৫ ঘণ্টা ঘুমাই : শেখ হাসিনা

আবুল বাশার নূরু : নিজের জীবনটাকে দেশের জন্য উৎসর্গ করেছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, আসলে আমার নিজের বলতে কিছু নেই। রাতে ৫ ঘণ্টা ঘুমাই। আর বাকি সময় চেষ্টা করি, কত দ্রুত আমার কাজগুলো শেষ করতে পারি।

সম্প্রতি রাজধানীর একটি মিলনায়তনে ‘লেট’স টক’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা ডা. নুজহাত চৌধুরীর “এত খাটেন, আপা নিজের জন্য সময় পান?” এমন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরো বলেন, আমি জানি যেকোনো মুহূর্তে চলে যেতে হতে পারে। কখনো গুলি, কখনো গ্রেনেড হামালায়। তাই প্রতিটি মুহূর্তে দেশের মানুষের জন্য কিছু করে যাওয়ার চেষ্টা করি। অনুষ্ঠানটি কয়েকদিন আগে ধারন করা হয়। যা আজ বিভিন্ন সম্প্রচার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে।
শরীর সুস্থ রাখতে যা করেন প্রধানমন্ত্রী তরুণদের সঙ্গে প্রাণবন্ধ আলাপনের ওই অনুষ্ঠানে এত পরিশ্রমের মাঝে শরীরকে কিভাবে ঠিক রাখছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জীবনে রুটিন ঠিক থাকে না। তবে ফিট থাকতে- আমি নামাজ পড়ি নিয়মিত। তিনি বলেন, তেমন ব্যায়াম করার সুযোগ হয় না। আর গণভবনে থাকা বন্দিজীবনের মতন। তারপরও চেষ্টা করি সকালে উঠে একটু হাঁটতে। ছাদে হাঁটি। শেখ হাসিনা বলেন, পরিমিতভাবে খেলে সুস্থ থাকা যায়। আর চিন্তা-ভাবনাকে সচ্ছ রাখা এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ আমি সুস্থ্য থাকব এটা ভাবা।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) আয়োজিত ‘লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে সারাদেশ থেকে শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা, তরুণ পেশাজীবী, অ্যাথলেটস, খেলোয়াড়, সংস্কৃতিকর্মীসহ দেড়শোর মতো তরুণ অংশ নেন। তরুণদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শোনেন তরুণণদের স্বপ্নের কথাও। রান্নাঘরের কথা থেকে শুরু করে, কৈশরের দুরন্তপনা, স্কুলজীবনের মজার ঘটনা, মায়ের কাছে আবদার মেটানোর কৌশল, পারিবারিক ট্রাজেডি, বাধার পর বাধা ডিঙিয়ে এগিয়ে চলার গল্পসহ প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে শেখ হাসিনার ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনের নানা অজানা কথা উঠে এসেছে লেট’স টক অনুষ্ঠানে।

ইচ্ছা ছিলো প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক হবো: প্রধানমন্ত্রী

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছে ছিলো বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ছোটবেলায় আমার ইচ্ছা ছিলো ডাক্তার হবো। এসএসসি পরীক্ষা দিলাম, তখন দেখলাম অঙ্কে কাঁচা। আর বন্ধুরা সবাই আর্টসে ছিলো, আমিও আর্টসে ভর্তি হই। এরপর ইচ্ছা ছিলো শিক্ষক হবার। আবার শিক্ষক মানে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। বাচ্চাদের পড়াব।

রাজনীতিতে না এলে কী করতেন? ছোটবেলায় কী হতে চেয়েছিলেন? তরুণদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা জানান।

রাজনীতিতে কখন কিভাবে এলেন এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক একটি পরিবারে জন্ম আমার। আর রাজনীতি আমাদের সাথে এমনভাবে জড়ানো ছিলো যে, রাজনীতিতে ঠিক কখন প্রবেশ করলাম তা সঠিকভাবে বলতে পারব না। তিনি বলেন, স্কুলজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত। সেই সময় শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বাতিলের আন্দোলন, তারপর আরো বিভিন্ন আন্দোলন। যখন আন্দোলন হতো, তখন এটা ঠিক স্কুল পালিয়ে চলে যেতাম সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় মিটিং শোনার জন্য। আবার স্কুল থেকে আমাদের সংগঠন করতে হবে, ছাত্রলীগ করতে হবে বলা হলো। তাই স্কুল থেকে বিভিন্ন স্কুলে যেতাম। মেয়েদের বোঝাতাম কেন আমাদের সংগঠন করতে হবে।

অবসরে নাতি-নাতনিদের সঙ্গে লুডু খেলি

অবসরে নাতি-নাতনিদের সঙ্গে লুডু-ক্যারাম-দাবা খেলেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
নানি বা দাদি হিসেবে আপনি কেমন? নাতি-নাতনিদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন? তরুণদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেটা আমার নাতিদের জিজ্ঞাসা করলে বলবে। আমরা লুডু খেলি, ক্যারাম খেলি, দাবা খেলি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা আমার হাতের রান্না পছন্দ করে। আর ছোট একটা আছে সে আবার খুব ডিমান্ড করে, বলে দেয় তুমিই রান্না করবে। ববির ছোটটা, সে বলে তুমিই রান্না করবে। সে কোলে চড়ে বসে আবার নির্দেশও দেয়। এটা দাও, ওটা দাও। বৃদ্ধ বয়সে নাতি-নাতনি নিয়ে থাকার চেয়ে আর কোনো সুখের সময় হয় না।

‘লেট’স টক’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো তরুণদের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কয়েকদিন আগে অনুষ্ঠানটির চিত্র ধারণ করা হয়। যা আজ বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচার করা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত