প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ত্রিপুরার প্রবীণ সাংবাদিক সমীরণ রায়
মুক্তিযুদ্ধে দৈনিক সংবাদের অবদান ভোলার না

প্রিয়াংকা আচার্য্য : ত্রিপুরা দর্পণের সম্পাদক সমীরণ রায়। তার জন্ম আগরতলায় হলেও বাবা সতীশ চন্দ্র রায় ছিলেন পূর্ব বাংলার লোক। বাংলাদেশের প্রতি তাই অনুভব করেন নাড়ীর টান। মুক্তিযুদ্ধে তার বাবা প্রত্যক্ষভাবে অনেক ভূমিকা রেখেছিলেন। তরুণ সমীরণ তখন ছিলেন ছাত্র। ২০১৭ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ত্রিপুরা দর্পণের অফিসে বসেই জানালেন মুক্তিযুদ্ধকালে তার নানা অভিজ্ঞতার কথা।

১৯৭১ সালে ত্রিপুরা থেকে তিনটি দৈনিক কাগজ বের হতো। জাগরণ, গণরাজ ও সংবাদ। দৈনিক সংবাদ তখন বাংলাদেশের পক্ষে বিশাল কাভার করেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে দৈনিক সংবাদের অবদান ভোলার না। সেসময়ের সংবাদ ঘাটলেই এর সত্যতা উপলব্ধি করা যায়। সংবাদের অফিসটিই ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার কেন্দ্র। সম্পাদক ভূপেন দত্ত ভৌমিকের অবদান অবিস্মরণীয়। এছাড়া বিশ্বদেব ভট্টাচার্য, মিহির দেব, বিকচ চৌধুরীসহ গুনীজনরা সাংবাদ অফিসে বসে গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা করতেন।
বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা দৈনিক সংবাদের অফিসে এসেই তথ্য সংগ্রহ করতেন। বরুণ সেনগুপ্ত, মানস ঘোষসহ সবাই এখানে এসে ব্রিফ নিতেন। দৈনিক সংবাদের অফিসটিকে যুদ্ধের ক্যাম্প অফিস হিসেবে কাজ করেছে বলা যায়। বাংলাদেশ সরকার কয়েকবছর আগে ভূপেন দত্ত ভৌমিক ও বিকচ চৌধুরীকে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ প্রদান করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে ত্রিপুরার সবারই একটা ভীষণ আবেগ কাজ করেছে। কারণ এখানকার অধিকাংশ মানুষেরই পূর্ব পুরুষ বাংলাদেশের। যুদ্ধচলাকালে ত্রিপুরার জনগোষ্ঠীর চেয়ে বেশি লোক শরণার্থী হিসেবে এখানে আশ্রয় নিয়েছিল। সারা শহর লোকে গমগম করতো। একটা অন্যরকম আমেজ ছিল সমস্ত এলাকায়। শিল্পী আব্দুল জব্বারকে দেখতাম এখানকার শিল্পী পান্না দত্তের সাথে কর্নেল চৌমুহুনীর এক চায়ের দোকানে বসে গান গেয়ে সবাইকে মাতিয়ে রাখতেন, উজ্জীবিত করতেন।

আমরা তখন কলেজ থেকে মাত্র বেড়িয়েছি। জয় বাংলা অফিসটা ছিল আমাদের বাড়ির কাছে। আমার বাবা সতীশ চন্দ্র রায় পূর্ব বাংলার লোক হওয়ায় প্রায় আত্মীয়-স্বজনসহ প্রায় ৭০ জন আমাদের বাড়িতে সেই সময়ে উঠেছিল। এমনকি অনেক মুক্তিযোদ্ধাও আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নিতেন। একদিনের ঘটনা বলি, একটা স্যুটকেস হাতে এক ভদ্রলোক এসেছিলেন। রাতের খাওয়ার পর আমি তার সাথে ঘুমাই। শেষরাতের দিকে হঠাৎ শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেলে দেখি তিনি তার স্যুটকেস খুলে একটা পিস্তল বের করেছেন। তখন বয়স কম থাকায় একটু ঘাবড়ে গেলেও মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপকতা ঐ একটা মুহূর্তেই বুঝে গিয়েছিলাম।

সেসময় ত্রিপুরায় ডিসট্রিক্ট ছিল একটা। এর ডিএম ছিল ওমেশ সাইগল। আমি ও মানিক সরকার (ত্রিপুরার সাবেক মুখ্য) একই ক্লাসের। একসাথে ছাত্র ফেডারেশন করতাম। শরণার্থী শিবিরে আসা ছাত্রদের জন্য ত্রাণ সহায়তা সংগ্রহের জন্য আমরা ওমেশ সাইগলের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত