প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাশরাফি কি পারবেন রাজনীতির মাঠে সফল হতে?

আবু সুফিয়ান শুভ: বাংলাদেশের ক্রিকেটার হিসেবে মাশরাফি তুলনামূলকভাকে সফল। তার হাত ধরে বাংলাদেশের ছোট বড় অনেক অর্জন করে্ছে। বর্তমান বাংলাদেশ একটি পরিনীত দল হিসেবে আবিভূত হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটে মাশরাফি এক উজ্জল নক্ষতত্রের নাম। যৌবনে তারা কাঁপিয়েছেন ক্রিকেটের ২২ গজের পিচ। এরপর অনেকেই নেমেছেন রাজনীতির মাঠে। এর মাঝে কেউ সফল, আবার কেউ চরমভাবে ব্যর্থ। আসুন দেখে নিই ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া এমন ৫জন খেলোয়াড়কে।

মনসুর আলি খান পতৌদি

ভোপালের নবাব পরিবারের সন্তান মনসুর আলি খান পতৌদি। মাত্র ২১ বছর বয়সে ভারতীয় ক্রিকেট দলের কনিষ্ঠতম অধিনায়ক নির্বাচিত হন। ভারতের হয়ে ১৯৬১ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত ৪৬টি টেস্ট ম্যাচ খেলেন, যার মধ্যে ৪০টি ম্যাচেই তিনি ছিলেন অধিনায়ক। ১৯৬৯ সালে তিনি বিখ্যাত অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাক্রুকে বিয়ে করেন। বলিউড সেলিব্রেটি সাইফ আলি খান এবং সোহা আলি খান এই দম্পতিরই সন্তান।
ক্রিকেট ছেড়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন মনসুর আলি খান পতৌদি। কিন্তু সুবিধা করতে পারেননি। ১৯৭১ এবং ১৯৯১ সালে দুইবার নির্বাচনে দাঁড়ান, কিন্তু দুইবারই পরাজিত হন।

অর্জুনা রানাতুঙ্গা

অর্জুনা রানাতুঙ্গা ছিলেন শ্রীলঙ্কার একমাত্র বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক। ৯৩ টেস্ট এবং ২৬৯টি ওয়ানডে খেলা এই শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি’র হাত ধরেই শ্রীলঙ্কা বিশ্ব ক্রিকেটে পরাশক্তি হিসাবে আবির্ভূত হয়, ১৯৯৬ সালের সেমিফাইনালে স্বাগতিক ভারত, এবং ফাইনালে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করে ঘরে তুলে বিশ্বকাপ শিরোপা।
১৯৯৬ এর ফাইনালে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে একরকম কাঁদিয়েই ছেড়েছিল রানাতুঙ্গার শ্রীলঙ্কা!

ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন রানাতুঙ্গা। ২০০৪ সালে তিনি নিযুক্ত হন শিল্প, বিনিয়োগ এবং পর্যটন উপমন্ত্রী হিসেবে। ২০১০ সালে দল পরিবর্তন করে যোগ দেন ডেমোক্রেটিক পার্টির উপনেতা হিসেবে। ২০১৫-এর মাইথ্রিপালা সিরিসেনাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সমর্থন জানান। মাইথ্রিপালা বিজয়ী হলে রানাতুঙ্গা সড়ক ও বন্দর মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন

৯০ এর দশকের সেরা মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের একজন মোহাম্মদ আজহারউদ্দীন। শচীন, কাম্বলি, জাদেজা, দ্রাবিড়, কুম্বলে, শ্রীনাথ এর মত তারকা ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া ভারত জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অনেক বছর।সেই সাথে ৯৯ টেস্ট ম্যাচে ৬২১৫ রান এবং ৩৩৪ একদিনের ৯৩৭৮ রান তার অনবদ্য ক্যারিয়ারের প্রমাণ।

তবে ২০০০ সালে ম্যাচ ফিক্সিং কলঙ্কে জড়িয়ে পড়েন। যদিও পরে আদালত তাকে অব্যহতি দেয়, কিন্তু বিসিসিআই তার আজীবন বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয়নি৷

২০০৯ সালে তিনি জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন এবং সেবার নির্বাচনে জয়লাভও করেন।

নবজ্যোত সিং সিধু

প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার এবং বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতিবিদ সিধু বাংলাদেশীদের একরকম চোখের বিষ বলা যায়। ১৯ বছরের ক্রিকেটীয় জীবনে ৬১ টেস্ট এবং ১৩৬ একদিনের ক্রিকেট খেলেন তিনি।

২০০০ সালে ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে রাজনীতিতে মনোযোগ দেন। ২০০৪ সালে যোগ দেন ভারতীয় আমজনতা পার্টিতে এবং ২০১৪ সাল পর্যন্ত অমৃতসরের এমএলএ ছিলেন। তবে ২০১৭ সালে তিনি প্রাক্তন দলকে বিদায় জানিয়ে জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন

ইমরান খান

প্রাক্তন পাকিস্তানী প্লেয়ার এবং অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার ইমরান খান। তার হাত ধরে পকিস্তান তাদের প্রথম ও একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করে। ৮৮ টেস্টে ৩৮০৭ রান এবং ৩৬২ উইকেট, এবং ১৭০টি একদিনের ম্যাচে ৩৭০৯ রান ও ১৪২ উইকেট তার দখলে।

পাকিস্তানের ক্রিকেটকে বদলে দেওয়া ইমরান এখন দায়িত্ব নিয়েছেন পাকিস্তান দেশটিকেই বদলাবার!

১৯৯২ সলে ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে রাজনীতিতে মন দেন ইমরান খান। তেহরিক-ই-ইনসাফ দলের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। প্রথমবারের নির্বাচনে ব্যর্থ হলেও হাল ছেড়ে দেননি, লেগে ছিলেন ধৈর্য ধরে। ২৪ বছরের রাজনৈতিক জীবনের পর ২০১৮ সালে পকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তালেবানদের প্রতি সহানুভূতিশীল এই নেতা। যদিও সমালোচকরা মনে করেন, পাকিস্তানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর ছত্রছায়া না পেলে ইমরানের পক্ষে বিজয়ী হওয়া সম্ভব ছিল না।

অতি শীঘ্রই বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। তিনি কি পারবেন খেলার মাঠের মতই রাজনীতির মাঠে সফল হতে? কিংবা তারচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- রাজনীতিবিদ মাশরাফি কি খেলোয়াড় মাশরাফি’র মতই সবার ভালবাসা অর্জন করে নিতে পারবেন?

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত