প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তৃতীয় শক্তির ষড়যন্ত্র খতিয়ে দেখার তাগিদ
নির্বাচনে সব গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি বাড়াতে পরামর্শ সিইসির

সাইদ রিপন: নির্বাচন নিয়ে তৃতীয় কোনো শক্তির ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার তাগিদ দিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। সুষ্ঠু নির্বাচনে সব গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি বাড়াতে হবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ তাগিদ দেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদের উদ্দেশ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেন, নির্বাচন থেকে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। মাস্তানদের থেকে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে ইভিএম ব্যবহার করতে চাই।

তিনি বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিজিবিকে সম্পৃক্ত করতে হবে। মহিলাদের আলাদাভাবে নিরাপত্তা দিতে হবে । প্রত্যেক এলাকার মাস্তান ও গোলযোগ সৃষ্টিকারীদের তালিকা তৈরি করতে হবে।

সিইসি বলেন, যারা এবারের নির্বাচনে দায়িত্বে আছেন সবাইকে পেশাদারি ও নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা ও মানসিকতা দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে কোনভাবেই যেন এবার ২০১৪ সালের মতো যেন তান্ডব না হয়।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের অবস্থা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। ওই সময় দেশে ভয়ংকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। সে অবস্থার আলোকে আমাদের এ বছরের নির্বাচনের প্রস্তুতির রূপরেখা অবলম্বন করা প্রয়োজন। তখনও মাঠে সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ছিল, তবুও আমরা দেখেছি পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে, প্রিজাইডিং অফিসার নিহত হয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেট নিহত হয়েছে, শত শত মানুষ নিহত হয়েছে, শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই এবারের নির্বাচনে আপনাদের দায়িত্ব জনগণের জীবন রক্ষা, মালামাল রক্ষা, দেশের পরিবেশ পরিস্থিতি শান্ত রাখা।

ইভিএম ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইভিএম ব্যবহারের মাধ্যমে মাস্তানদের থেকে সাধারণ জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই। কোনভাবেই এ নির্বাচনে মাস্তানদের হাতে ভোটারদের সিদ্ধান্ত ছেড়ে দেয়া যাবে না। তাছাড়া নির্বাচন কমিশন বিশ্বাস করে ইভিএম পদ্ধতির মাধ্যমে ভোটারদের নিশ্চয়তা প্রদান সম্ভব হবে। ইভিএম সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হলে নির্বাচনে শতকরা ৮০ ভাগ অনিয়ম দূর করা সম্ভব। সমগ্র নির্বাচন ইভিএমের অধীনে নিয়ে আসার লক্ষ্য নিয়ে আমরা অগ্রসর হচ্ছি। এটিকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কারণ বর্তমান পদ্ধতিতে নির্বাচনের অনিয়ম দূর করতে এটাই একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম বলে আমি মনে করি।

নূরুল হুদা আরো বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে সব বাহিনীর কৌশল অবলম্বন করতে হবে। সব গোয়েন্দা সংস্থার সতর্ক নজরদারি বাড়াতে হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিজিবিকে সম্পৃক্ত করতে হবে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া মহিলাদের নিরাপত্তায় গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আলাদাভাবে দেখতে হবে। যেন তারা ভোট দিয়ে নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারে প্রত্যেক এলাকার মাস্তান ও গোলযোগ সৃষ্টিকারীদের তালিকা তৈরি করতে হবে। ইতিমধ্যেই আমরা আশঙ্কাগুলো অবহেলা করতে পারি না। প্রতীক বরাদ্দের পরদিনিই যে ঘটনা, তা যতো তুচ্ছ হোক না কেন, দুটো জীবনের মূল্য অনেক। এখানে ওখানে ভাংচুর প্রতিহত করা এগুলো পেছনে কী শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণ নাকি ২০১৪ সালের মত ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টির পায়তারা চলছে কি না সেদিকে নজর দিতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত