প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আয়কর দিতে সবাইকে উৎসাহিত করতে হবে

বিভুরঞ্জন সরকার : ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা কি আমাদের জাতিগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পড়ে? ঢালাও বললে হয়তো অনেকে আপত্তি করবেন। তবে এটা ঠিক যে আমাদের মধ্যে নেতিবাচক প্রবণতা বেশি। যেটা করা উচিত নয়, সেটা করার লোভ আমরা সামলাতে পারি না। আমরা নিজে যেটা করি না, সেটা অন্যের কাছে আশা করি। নিজে সৎ না থেকে অন্যের কাছে সততা আশা করি। আমাদের দেশে মানুষের মাথা পিছু আয় বেড়েছে। এমনকি অর্থবিত্তের অধিকারী মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। এক সময় আমরা ছিলাম চরম অভাবগ্রস্ত জাতি। বিদেশি ঋণ ও সাহায্যনির্ভরতার দুঃসয় দিন পার হয়ে আত্মনির্ভরতার পথে হাঁটতে শুরু করেছি। ফাঁকির প্রবণতা কম হলে আমরা আরো বেশি সফলতার দিকে যেতে পারবো।

আয় করলে আয়কর দিতে হয়। জনগণের টাকায়ই সরকার চলে, দেশ চলে। কর না দেয়ার বা কর ফাঁকি দেয়ার অভ্যাস কারো কারো মধ্যে প্রবল। বিশেষত যাদের আয় বেশি, কর দেয়ার সক্ষমতা বেশি, ফাঁকি দেয়ার প্রবণতাও তাদের মধ্যেই বেশি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের নানামুখী উদ্যোগের ফলে কর আদায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণের সক্ষমতা ও সাহস দেখাতে পারার পেছনে দেশীয় সম্পদ সংগ্রহ পরিস্থিতির উন্নতি একটি কারণ।
সম্প্রতি দেশব্যাপী আয়কর মেলার আয়োজন করা হয়েছিলো। তাতে দেখা যাচ্ছে আয়কর আদায় এবার আরও বেড়েছে। বেশি লোক রিটার্ন জমা দিয়েছে। অনেকে এজন্য আরও সময় নিয়েছে। তাতে আয়কর আদায় আরও বাড়বে। এনবিআর আয়কর আদায় বাড়াতে উদ্যোগী। মানুষের মধ্যেও আগ্রহ বেড়েছে। কালো টাকাকে সাদা করার সুযোগ দিয়ে রেখেও লাভ হচ্ছে না সেভাবে। সরকার আহরিত কর-রাজস্বের মূল অংশ এখনও আয়কর ও ভ্যাট।

প্রশ্ন হলো, নতুন ভ্যাট আইন অনুযায়ীও এটার আদায় কি ঠিকমতো হচ্ছে? আয়করের মতো ভ্যাট ফাঁকিও কম দেওয়া হচ্ছে না। সব খাতের বড় প্রতিষ্ঠান ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে বলে খবর পাওয়া যায় প্রায় প্রতিদিন। বিজনেস ডেইলি বা নিয়মিত পত্রিকার বিজনেস পাতায় এসব খবর থাকে রোজ। এ নিয়ে অভিযোগ, মামলাও কম না। সংশ্লিষ্ট বিভাগে এ সুবাদে মামলাও বাড়ছে।

অনেকে বলেন, ভ্যাট আদায় ঠিকমতো হলে আয়কর আদায়ে এতো উদ্যোগী না হলেও চলতো। নিম্ন ও মধ্য আয়ের লোকদের ওপর আয়করের জন্য চাপাচাপি ন্যায়বিচার নয়। তারা কিন্তু প্রতিদিনের কেনাকাটায় ভ্যাটও কম দিচ্ছে না। বিভিন্নভাবে তারাই সরকারকে রাজস্ব দেয় বেশি।

প্রশ্ন হলো, বিনিময়ে তাদের যে সেবা ও সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা তারা সেটা পায় কিনা? সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবার মান এখনও কাক্সিক্ষত মাত্রায় পৌঁছেনি। যাদের কর দেয়ার সামর্থ্য আছে, তাদের জন্য কর রেয়াতের বন্দোবস্ত না করে গরিবের ওপর নানা উপায়ে করারোপের পথ পরিহার করা দরকার।

বর্তমান শাসনামলে বড় বড় উন্নয়ন কাজ হচ্ছে ভ্যাটসহ রাজস্বের টাকায়। এর সুফল সাধারণ মানুষ যেন পায়, সেটা নিশ্চিত করা চাই। সেজন্য উন্নয়ন কাজে অপচয় রোধ করতে হবে। বেশি ব্যয়ে এসব কাজ করা চলবে না। অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আমাদের বদনাম আছে। এটা ঘোচাতে হবে। রাজস্ব দিয়ে হোক আর ধার করে, টাকাপয়সার সদ্বব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। রাজস্ব দিয়ে হোক আর ধার করে, টাকাপয়সার সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই আয়কর, ভ্যাটসহ সব ধরনের কর প্রদানে মানুষের আগ্রহও বাড়বে। উন্নয়ন গতি পাবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত