প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘তিন পাগলে হলো মেলা…’!

অসীম সাহা : সমাজে নানা কিসিমের পাগল থাকে। কেউ পাগল প্রেমে, কেউ পাগল হেমে আর কেউ পাগল ‘গেমে’। একটু ব্যাখ্যা করে বলি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে পাগল হবার ইতিহাস কমবেশি অনেকের আছে। আর অতিরিক্ত সোনা পাওয়া মানে টাকা-পয়সা-ধন-সম্পদ পেয়ে এক ধরনের মানুষ পাগল বা উন্মাদ হয়ে ওঠে। অন্য আর এক ধরনের পাগল আছে, যারা ‘গেম’ বা খেলা মানে কূট খেলায় পাগল বা উন্মত্ত হয়ে ওঠে। বাংলাদেশে এমন তিনজন পাগল বেশ কিছুদিন ধরে এমন মেলা বসিয়েছেন যে, সেই মেলা থেকে তাঁরা আওয়ামী লীগকে খতম করার জন্য বদ্ধ উন্মাদ হয়ে উঠেছেন। এর মধ্যে একজন আমাদের বন্ধু ইরাকযুদ্ধের পর সেই যে বিধবার পোশাক পরেছেন, শীতগ্রীষ্ম না মেনে তিনি সবখানেই সেই পোশাকে পরে ঘুরে বেড়ান, টিভির ‘ঠক-শো’তে যান। নানা কর্মশালায় ডাক অনিবার্য হওয়াতে তার উন্মত্ত হবার কারণ আছে। তিনি মাওলানা ভাসানীর একসময়কার চ্যালা সৈয়দ আবল মকসুদ। আওয়ামী লীগের কোনোকিছুই তার ভালো না লাগবারই কথা। কিন্তু তিনি যখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের পেছনে পেছনে ঘোরেন, তখন তার রহস্য আমি বুঝতে পারি না! এমন কাজ তো সেয়ানা পাগলরা করেন। তিনি কি তাহলে ইতোমধ্যে সেয়ানা হয়ে উঠেছেন?

আর একজন আছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অজ্ঞাতকুলশীল সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন। তিনি বাংলা অভিধানের ‘ছিদ্রান্বেষণ’ শব্দটির অর্থ খুব ভালো করেই জানেন। তাই ‘আওয়ামী ছিদ্র’ দেখলেই তিনি আঙুল চালিয়ে দিতে একটুও দেরি করেন না। এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো একটি ভালো কাজের প্রশংসা করতে আমি তাঁকে দেখিনি।

আর এক পাগল হঠাৎ গজিয়ে ওঠা। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর অবির্ভাব ‘সুজন’ নামক একটি কুজন সংস্থার মাধ্যমে। তিনিও এম হাফিজুদ্দিনের অনুসারী এক নৌকার মাল্লা জনাব ড. বদিউল আলম মজুমদার। এখন উভয়েই সুজনের কুজন! তিনি আবার ডক্টর। তার গরিমা একটু বেশি বলেই মনে হয়। আওয়ামী লীগকে বংশদ- দিতে পারলে তাঁর মতো উৎফুল্ল-উন্মাদ হতে আমি আর কাউকে দেখি না! তিনিও একদিকে আওয়ামী লীগ সরকারকে গালি দেন আর মাঝে মাঝে মন্ত্রণালয়ের দরোজায় দরোজায় হানা দেন। রহস্য কী? আওয়ামী মন্ত্রীদের কাছে তাঁর কী কাজ? আদর্শবাদী হলে কারণ ছাড়া তাঁর তো আওয়ামী মন্ত্রীদের ছায়া মাড়ানোর কথা নয়। তা হলে তিনি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীদের কাছে গিয়ে কী করেন? তদবির? কেন তদবির করবেন? আওয়ামী মন্ত্রীরা তো অনেক খারাপ। তা হলে তাদের কাছে বদিউল আলম মজুমদার কী আশায় খেলাঘর বাঁধেন? বোঝা ভারী শক্ত।

আসলে সামনের নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশে এখন নানা কিসিমের মেলা বসেছে। আর সেই মেলায় এই তিন পাগল এখন জোর আওয়াজে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ড্রাম বাজানোর জন্য কণ্ঠকে ঢাকের কাঠি বানিয়ে ফেলেছেন। তো, এরাই তা হলে বাংলাদেশের নব্য সুশীল? বুঝতে অসুবিধে হবার কথা নয়, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কপালে দুঃখ লিখে দেয়ার জন্যএই সব বুদ্ধিঢিবিরাই যথেষ্ট। এর জন্য রাজনীতিবিদদের আর না ভাবলেও চলবে!

লেখক : কবি ও সংযুক্ত সম্পাদক, দৈনিক আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ