প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না জাতিসংঘও

ডেস্ক রিপোর্ট : জাতিসংঘ বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছে না, পর্যবেক্ষকও পাঠাচ্ছে না। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক গত সোমবার রাতে নিউ ইয়র্কে এ তথ্য জানান। এর আগে ইউরোপের ২৮টি দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টও পর্যবেক্ষক না পাঠানোর বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে পর্যবেক্ষকদল আসার কথা থাকলেও বেশির ভাগ দেশ স্থানীয়ভাবে তাদের দূতাবাস বা বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে। এরই মধ্যে তার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের বলেছেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ না করলেও জাতিসংঘ বাংলাদেশকে সহায়তা করছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ ইউএনডিপি/ইউএনউইমেনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। ওই প্রকল্পে নির্বাচন কমিশনকে জনগণের কাছে পৌঁছানো, নারী ও প্রতিনিধিত্ব নেই এমন গোষ্ঠীগুলোকে নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় আনা, কমিশনের প্রশিক্ষণ সক্ষমতা জোরদার এবং নির্বাচনী সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রশমনে কৌশল গ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র বলেন, ‘নীতিগতভাবে আমরা বিশ্বাস করি, কোনো ধরনের দমন-পীড়ন ছাড়া ইতিবাচক পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।’ ইইউয়ের সদস্য নয়, ঢাকায় এমন একটি দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত এ সপ্তাহে কালের কণ্ঠকে বলেছেন, তাঁর দেশ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের অর্থায়ন করছে; কিন্তু নিজেরা কোনো পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই রাষ্ট্রদূত বলেন, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নির্বাচনের ছয় সপ্তাহ আগেই পর্যবেক্ষণ শুরু হয়। তাঁর জানামতে, বাংলাদেশে ছয় সপ্তাহ আগে বিদেশি পর্যবেক্ষকরা আসেননি। তিনি তাঁর দেশের পর্যবেক্ষক না পাঠানোর কারণ প্রসঙ্গে বলেন, ‘একই সময়ে বিশ্বের অনেক দেশে নির্বাচন হয়। বিশ্বের সব দেশের নির্বাচনে আমরা পর্যবেক্ষক পাঠাতে পারি না। গুরুত্ব বা অগ্রাধিকার বিবেচনা করে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।’ তাহলে কি বাংলাদেশের নির্বাচন তাঁর দেশের কাছে অগ্রাধিকার তালিকায় নেই—জানতে চাইলে ওই রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা চাই, এ দেশে আসন্ন নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য ও সংঘাতমুক্ত হোক। কিন্তু বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা আমার সরকারের কাছে অগ্রাধিকার নয়।’ ওই রাষ্ট্রদূত বলেন, তাঁর দেশের কাছে বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনের চেয়ে রোহিঙ্গা সংকট বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সেটি মানবিক সংকট। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যখন তাঁদের পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তখন তাঁরা বাংলাদেশের চেয়ে শ্রীলঙ্কা পরিস্থিতিকে তাঁদের কাছে অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন। ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের প্রধান ও রাষ্ট্রদূত রেঞ্চা টিয়েরিংক গত জুলাই মাসেই কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আগামী নির্বাচনে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন, বাজেটসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলে তার দায় বাংলাদেশের নয়। পর্যবেক্ষক না পাঠালেও এরই মধ্যে দুই সদস্যের বিশেষজ্ঞ মিশন পাঠিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তারা আগামী মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টও বলে দিয়েছে তারা নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না। নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিয়ে কোনো মন্তব্যও করবে না। এদিকে পশ্চিমা কিছু দেশ বিদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমই গুটিয়ে নিচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কানাডা সেই দেশগুলোর অন্যতম। এ বছর অনেক দেশ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠালেও ব্যতিক্রম ছিল কানাডা। বাংলাদেশ-কানাডা সম্পর্ক দেখভাল করেন এমন কর্মকর্তারাও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নিয়ে কানাডার এ অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা বলেছেন, বিদেশ থেকে এসে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সম্পর্কিত ধারণাটিই বদলে যাচ্ছে। কারণ এমন পর্যবেক্ষণে নির্বাচন বা মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বদলানো যায় না, বরং পর্যবেক্ষণের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়, নিরাপত্তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পশ্চিমা কূটনীতিক কালের কণ্ঠকে বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকে তাঁরা দৈনন্দিন কাজ হিসেবেই দেখছেন। স্থানীয় দূতাবাস হিসেবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা তাঁদের দায়িত্ব এবং এখানে কী ঘটছে বা কী পরিবর্তন হচ্ছে, তা জানা তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তাঁদের সদর দপ্তর বা সরকারগুলোকে বাংলাদেশের মতো কয়েক শ দেশের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সে কারণে অনেক দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সংকট তাঁদের সদর দপ্তর বা সরকারের কাছে বাংলাদেশ পরিস্থিতির চেয়েও অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এদিকে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা উইলিয়াম মোয়েলার সম্পতি রয়টার্সকে বলেছেন, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ১২টি পর্যবেক্ষকদল পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিটি দলে দুজন করে পর্যবেক্ষক থাকবেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি), যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ডিএফআইডি) ও সুইস সরকার প্রায় ১৫ হাজার বাংলাদেশিকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অর্থায়ন করবে।
সূত্র : কালের কন্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত