প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পুলিশ রিপোর্ট চেয়েছে ইসি

যুগান্তর : নির্বাচনী প্রচারণায় তিন জেলায় সংঘটিত সহিংস ঘটনা সম্পর্কে পুলিশকে প্রতিবেদন দিতে বলেছে ইসি (নির্বাচন কমিশন)। এজন্য আইজিপিকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় ফরিদপুর ও নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের দু’জন কর্মী মারা গেছেন। ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলা হয়। আগামী তিনদিনের মধ্যে ঘটনা তিনটি সম্পর্কে পুলিশকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে কমিশন। এছাড়া প্রতিদিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য দেয়ার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আজ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ঊর্র্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইসি। এতে জাতীয় নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও ভোটের নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনী সহিংসতার বিষয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।

এদিকে নির্বাচনী সহিংসতায় বিব্রতবোধ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা। তিনি বলেন, মঙ্গলবার দুটো ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণহানি হয়েছে। এ ঘটনা আমাদের অত্যন্ত বিব্রত করেছে, ব্যথা দিয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায়ও আমরা বিব্রত। এটা কারও কাম্য হতে পারে না। আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে ব্রিফিংয়ের উদ্বোধনকালে বুধবার সিইসি এসব কথা বলেন।

জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার অনেক জেলায় নির্বাচনী সহিংস ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে নোয়াখালী সদর আসন ও ফরিদপুর সদরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ দুটি ঘটনায় আওয়ামী লীগের দু’জন কর্মী মারা গেছেন। অপরদিকে বগুড়ায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে হামলার শিকার হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচনী প্রচারে সহিংস ঘটনায় বুধবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ইসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, এ তিনটি ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে। ওই রিপোর্টের আলোকে ব্যবস্থা নেবে কমিশন।

নির্বাচনী সহিংসতার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ  বলেন, তিনটি ঘটনার প্রতিবেদন দিতে পুলিশ প্রধানকে (আইজি) চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে ওইসব ঘটনার সময়ে পরিস্থিতি কেমন ছিল, ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমরা সভা করব। ওই সভার পর ভোটের নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

আসন্ন নির্বাচনে আগামী ২৪ ডিসেম্বর সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে নামবে। এছাড়া ২৬ ডিসেম্বর মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নামবে র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড সদস্যরা। মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনেও সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করেছিল ইসি। যদিও ২০০৮ সালে নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে সেনা মোতায়েন করা হয়। ওই সময়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (আরপিও)-এ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ইসি সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা আরও জানান, আজকের সভায় নির্বাচনপূর্ব সহিংসতার বিষয়ে আলোচনা প্রাধান্য পাবে। ওই সভার কার্যপত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংস্থাগুলোর দায়িত্বের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হচ্ছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্যতম শর্ত হল নির্বাচনপূর্ব পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা এবং প্রাক-নির্বাচনী বিভিন্ন অপরাধ যাতে না ঘটে এজন্য এখন থেকেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এ সময়ে মাস্তান, চিহ্নিত অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।

৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রচার চলবে ২৮ ডিসেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিদিন তথ্য দিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ : এদিকে কয়েকটি জেলায় সহিংস ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে ইসি। এর অংশ হিসেবে বুধবার রাতে দেশের সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে প্রতিদিনের আচরণবিধি প্রতিপালনের তথ্য জানাতে চিঠি দিয়েছে কমিশন। ওই চিঠিতে নির্বাচনী আচরণবিধিমালা যথাযথ পরিপালন এবং আইনানুগ সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচনী এলাকার আইনশৃঙ্খলাসহ সার্বিক পরিস্থিতির সম্পর্কে কোনো রূপ ব্যর্থতা ছাড়াই প্রতিদিন সকাল ১০টার মধ্যে তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বর্তমান অবস্থা ও নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।

সহিংসতায় নির্বাচন কমিশন ব্যথিত ও বিব্রত সিইসি : প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেন, সহিংসতায় নিহতের ঘটনা আমাদের বিব্রত ও মর্মাহত করেছে। ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি মহাসচিবের গাড়িতে হামলা হয়েছে যা অনাকাঙ্ক্ষিত। এটা কখনও কাম্য হতে পারে না। একটা মানুষের জীবন নির্বাচনের চেয়ে মূল্যবান। সারা দেশে যে ৩০০টি আসনে নির্বাচন হবে সেটার যে মূল্য, আমরা মনে করি একটা মানুষের জীবনের মূল্য তার চেয়ে অনেক বেশি। সহিংসতার কারণে সেই জীবন চলে গেল এটা কারও কাম্য হতে পারে না। এ অবস্থা থেকে আমাদের উত্তরণের পথ খুঁজে বের করতে হবে। সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মী, প্রার্থী, ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী সবার প্রতি অনুরোধ করতে চাই- আপনারা ধৈর্যশীল আচরণ করবেন, নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলবেন, কারও নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেন না, একে অন্যের গণতান্ত্রিক অধিকার, মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাবেন। যে কোনো উত্তেজনাকর, উদ্বেগজনক, নির্বাচন পরিপন্থী ও অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যাবলী পরিহার করবেন এবং নিজেরাই তা প্রতিহত করবেন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের সচেষ্ট থাকার নির্দেশনা দিয়ে সিইসি বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। মানুষকে আশ্বস্ত করতে হবে নির্বাচন সহিংসতার জায়গা নয়। নির্বাচন মানুষের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের জায়গা। ধৈর্য ও একে অন্যের প্রতি সম্মান দেখিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করতে ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশ দেন সিইসি।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন বৈশিষ্ট্যপূর্ণ তো বটেই, সব দিক দিয়ে আলাদা নির্বাচন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আগের কোনো নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। প্রতিটা কেন্দ্রে গড়ে প্রায় ছয়জন প্রার্থী, সারা দেশে ১৮০০-এর বেশি প্রার্থী মাঠে থাকবেন, প্রতিদ্ব^ন্দ্বিতা করবেন। নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সিইসি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত